শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

আনন্দের ঢেউ


ঈদ যেনো একটা অবধারিত আনন্দের ঢেউ। আর আমার কাছে এক খন্ড অবসর।
ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা কয়েকটা দিন ছুটি উৎযাপন করি। আগের প্রজন্ম বলতো ঈদ সেলিব্রেট করা, আর এই প্রজন্মের ভাষায় chillax বা chill out করা। নিজেকে unwind করা। তবে মনে হয় সেলিব্রেশন আর চিলিং আউট এর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে।
চিলিং শোনা মাত্রই আমার চোখের সামনে কোকা কোলার বিজ্ঞাপন ঝুলে পড়ে। মনে হয় কিছু তরুণ তরুণী কার্বনেটেড ড্রিংস পান করছে, চিৎকার করে আড্ডা দিচ্ছে (মানে একে অপরকে গালাগাল দিচ্ছে!), আড্ডাটা অনেকটা এই রকম…
সাদমান তার বন্ধু সাকিবকে বলছে, দোস্ত, কস কি!! আমারে মাইরালা, সালমান এই লেক্সাস কিনসে? তবে যাই কস, অরে না মানাইলেও গাড়িটা কিন্তু জোস। Outlander লেটেস্ট মডেলটা দেখছিস? হেব্বি করসে!
সাকিব বলছে, আরে, বোক… অয় কিনবে কেমনে! অর বাপে কিনসে! শালায় সামিহার লগে ভাব করার জন্য বাপের গাড়ী নিয়া আসচে, এমন একটা ভাব লইসে যেন… ছুপা রুস্তম 😆
টেবিলে পড়ে আছে বার্গার কিংবা পিৎজা, ধুম্রজালের প্রেক্ষাপটে চলছে হলসির গান… without me
আর সেলিব্রেশন অনেকটা চায়ের আসরে মুক্ত ভ্রমরের মতো আড্ডা। সেখানে নানান রকম ঘরোয়া খাবার দাবারের সমাহার। রফিক তার বন্ধু জামিলকে বলছে ‘সম্প্রীতির রান্নাটা দারুন হয়েছে রে!’
মাঝখান থেকে আসিফ বলে উঠলো, আরে দারুন মানে কি? তুলনারোহিত! নিদেনপক্ষে বলতে পারিস দুর্দান্ত!!☺️
পেছন থেকে জুলফিকার গাইছে, পাগলা হওয়ার বাদল দিনে, পাগল আমার মন বেজে ওঠে…
সে যাই হোক না কেনো, সেলিব্রেট করা বা চিল করা এখনো সমাজের একটা বৃত্তেই আটকে আছে।
ঢাকা শহরের অধিকাংশই অস্থায়ী বাসিন্দা, উপার্জনের জন্য ঢাকা শহরে বাস করে। ঈদের সময় (লম্বা যানজট সহ্য করে আর দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ট্রেন বা বাসের টিকেট কেটে) ফিরে যায় নিজের গ্রামের বাড়ি, মা বাবা পরিবার পরিজনের সাথে একসাথে ঈদ উৎযাপনের জন্যে। আবার কেউ দেশ ছেড়ে চলে যায় বিদেশে, কর্ণাটকে, দুবাই, ইস্তাম্বুল বা গ্যাংটকে কয়েকটা দিন একান্তে ছুটি উপভোগ করার জন্যে। অনেকেই ঈদের পরের দিন দেশের ভেতরেই কোনো রিসোর্টে বা কক্সবাজারে সময় কাটাতে পছন্দ করে।
যে যেখানেই ঈদ উদযাপন করুন না কেনো, সবার সুস্থতা এবং মঙ্গল কামনা করি।

- Advertisement -

Read More

Recent