শনিবার - এপ্রিল ২০ - ২০২৪

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসমর্থন কম কানাডায়

ছবি ব্রায়ান

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপের প্রতি জনগণের সমর্থনের বিষয়ে ৩৪টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছয়ে আছে কানাডা। ইপসসের নতুন এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনের আগে সমীক্ষাটি পরিচালনা করে ইপসস।

জলবায়ু পরির্বতন মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে ভর্তুকি এবং গ্রিন ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টে বিনিয়োগে সরকারের প্রণোদনা দেওয়ার মতো উদ্যোগকে সমর্থন করেন কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ৩৪টি দেশে সমীক্ষা চালায় ইপসস। সমীক্ষার ফলাফলে কানাডিয়ানদের র‌্যাংকিং ২৭ ও ৩১তম স্থানে।

- Advertisement -

ইপসসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট সানিয়াম শেঠি বলেন, সমীক্ষার ফলাফল খুবই হতাশাজনক। জলবায়ু বিতর্কে কানাডিয়ানরা অতোটা সম্পৃক্ত নন যতটা হওয়া উচিত ছিল। বহু দেশে সরকারের এসব উদ্যোগের প্রতি জনগণের যে ধরনের সমর্থন আমরা দেখতে পাচ্ছি কানাডার তার ঠিক উল্টোটা দেখা যাচ্ছে।

১৯৮টি দেশের অংশগ্রহণে ইজিপ্টে কপ২৭ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইজিপ্টের অবকাশ কেন্দ্র শারম এল-শেখে রোবার সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলন শুরুর চারদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ এই বলে সতর্ক করে দেন যে, পৃথিবী নিশ্চিতভাবেই জলবায়ু বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে। কপ২৭ অবশ্যই বিশ^াস পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু পরির্বতনের বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রুখতে প্রয়োজনীয় আকাক্সক্ষা পুনরায় প্রতিষ্ঠার স্থান হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমিয়ে আনতে সম্মেলন থেকে পরিস্কার রাজনৈতিক ইচ্ছা আসতে হবে।

ইপসস তাদের সমীক্ষায় এক হাজার কানাডিয়ানকে বেছে নেয়। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ কানাডিয়ান বলেন, সরকার গ্রিন প্রযুক্তিতে ভর্তুকি দিলে তার প্রতি তাদের সমর্থন থাকবে। পরিবশবান্ধব পণ্য সাশ্রয়ী করতে মূল্য পরিবর্তনের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫১ শতাংশ কানাডিয়ান। অন্যান্য নীতির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন এক-তৃতীয়াংশ কানাডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রাজিলেও সরকারের এসব নীতির প্রতি জনগণের সমর্থন তুলনামূলক কম বলে জানান শেঠি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মেক্সিকো, চিলি ও কলাম্বিয়া। কানাডিয়ানদের মধ্যে সরকারের এসব উদ্যোগের প্রতি সমর্থন কম হলেও অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নারীদের মধ্যে এর প্রতি সমর্থন বেশি। আসন্ন মন্দার ভয়ে মতো আরও বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে কানাডিয়ানদের সামনে, জলবায়ু পরিবর্তনকে তাদের অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

শেঠি বলেন, মূল্যস্ফীতি অন্যান্য দেশেও আছে। তারপরও তারা এখনো কাজ করছেন। কানাডিয়ানদের এতে সম্পৃক্ত করতে কানাডার উচিত শক্তিশালী যোগাযোগ ও শিক্ষা ক্যাম্পেইন শুরু করা।

জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন করে তোলা সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৯ শতাংশ কানাডিয়ান। এক্ষেত্রেও অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে কানাডা। যদিও এই ইস্যুতে জনগণকে শিক্ষিত করে তুলতে বৈজ্ঞানিকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন কানাডিয়ানরা।

- Advertisement -

Read More

Recent