সোমবার - জুন ১৭ - ২০২৪

যেভাবে চুরি হলো টরন্টোর কন্ডোটি

ব্যাংক অব মন্ট্রিয়ল বলেছে পুলিশকে সহায়তায় তারা প্রস্তুত অন্যদিকে ল্যান্ড টাইটেলসের পরিচালক গত ৩১ আগস্ট বাড়িটিতে সতর্কতা নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে

গত বছর একটি প্রোপার্টি ট্যুর ওয়েবসাইটে ডাউনটাউন টরন্টোতে মফি ইয়ুর পেশাদার একটি ছবি পোস্ট করা হয়। আলোয় পরিপূর্ণ ও মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত জানালাবিশিষ্ট দুই শয়নকক্ষের কন্ডোটিকে কানাডার দীর্ঘতম আবাসিক টাওয়ারটি থেকে সহজেই দেখা যায়।

ইয়ুর সরবরাহ করা নথি থেকে দেখা যায়, গত ১১ মে বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। নয়দিন পর ৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এটি বিক্রি হয়ে যায়। নতুন মালিকের কাছে ১৫ জুন বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। ব্যাংক অব মন্ট্রিয়ল থেকে মর্টগেজ নিয়ে বাড়িটি কেনেন নতুন মালিক।

- Advertisement -

কিন্তু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ইয়ু বলেন, ইয়ং স্ট্রিটের অরা স্কাইক্র্যাপারে তার বাড়িটি কখনোই বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেননি তিনি। বরং এটি চুরি হয়ে গেছে। ইয়ু এখন চীনের হুবেই প্রদেশে থাকেন।

ইয়ু পরিচয় দিয়ে একজন খালি বাড়িটির প্রবেশাধিকার নিয়ে সেটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেন। এক পর্যায়ে প্রকৃত মালিকের অজ্ঞাতেই সেটি বিক্রিও করে দেন। এই পদ্ধতিতে ওই ব্যক্তি ক্রেতা, দুই সেট প্রপাার্টি এজন্ট, আইনজীবী, একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক এবং অন্টারিও ভূমি নিবন্ধন সবাইকেই বোকা বানিয়েছেন।

এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছে তারা। ব্যাংক অব মন্ট্রিয়ল বলেছে, পুলিশকে সহায়তায় তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে ল্যান্ড টাইটেলসের পরিচালক গত ৩১ আগস্ট বাড়িটিতে সতর্কতা নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা যে কেবল ইয়ুর একারই তেমন নয়। ভুয়া পরিচয় দিয়ে চোরেরা বাড়ির মালিক সেজে যে প্রতারণা করছে এটা তার অংশমাত্র বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রায়ান কিং। কিং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের কিং ইয়ুর টাইটেল ইন্স্যুরারের পক্ষ থেকে মামলাটি দেখছেন। তিনি বলেন, মামলাটির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। গ্রেটার টরন্টো এরিয়াএত এ ধরনের বেশ কিছু মামলার তদন্ত তার প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি করেছে। একটি বাড়ি বিক্রি হয়েছিল ২০ লাখ ডলারে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় প্রতারকরা ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে নিজেদেরকে বাড়ির মালিক বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। টোটাল টাইটেল ফ্রড সত্যিই খুব সমস্যাজনক। কারণ, এতে সত্যিকারের বাড়িমালিক এবং ক্রেতা উভয়েই ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন।

গত জুলাইয়ে তার কাছ থেকে মাসিক বাড়ি ব্যবস্থাপনা মাসুল চা না হলে অস্বাভাবিক কিছু একটা যে হয়েছে সেটা আঁচ করতে পারেন ২৪ বছর বয়সী ইয়ু। ২০১৭ সালে ৮ লাখ ডলার দিয়ে বাড়িটি ক্রয় করেন তিনি। অস্বাভাবিক কিছু আন্দাজ করে আবাসন খাতে তার বন্ধুদের এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিক্রিও হয়ে গেছে বলে জানতে পেরে তিনি আঁতকে ওঠেন।

২০১৯ সাল থেকে চীনে বসবাসকারী ইয়ু পুলিশ ও বিমা প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

- Advertisement -

Read More

Recent