সোমবার - জুন ১৭ - ২০২৪

কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন চীনা শিক্ষার্থীরা

অভিবাসন সংক্রান্ত উপাত্ত বলছে মহামারির সময় বিপুল সংখ্যক চীনা শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেনছবিইউএফটি স্কারবোরো

মহামারির সময় ভ্যানকুভারভিত্তিক জাস্টিন অং যখন ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অনলাইনে তার মাস্টার প্রোগাম করছিলেন তখন ক্লাস করতে তাকে ভোর ৪টার দিকে উঠে পড়তে হতো। এর কারণ, তারা তখন চীনে ছিলেন।

গত বছর গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা অং এক সাক্ষাৎকারে মান্দারিন ভাষায় বলেন, চীনে আমার অনেক সহপাঠী সে সময় মনে করেছিলেন যে, কানাডায় বসবাস না করার মধ্য দিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।

- Advertisement -

অভিবাসন সংক্রান্ত উপাত্ত বলছে, মহামারির সময় বিপুল সংখ্যক চীনা শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কিন্তু এখন কানাডার বিশ^বিদ্যালয় ও কর্মকর্তারা বলছেন, তাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত তারা। কারণ, চীন সরকার অনলাইনে পাঠ নেওয়া চীনা শিক্ষার্থীদের বিদেশের বিশ^বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

২৮ জানুয়ারি ইস্যু করা এক নির্দেশনায় চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের যেসব শিক্ষার্থী বিদেশের বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ছে এই স্প্রিং সেমিস্টারেই তাদেরকে ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে হবে। তা না হলে তাদের এই সনদ চীনের চাকরি বাজারে বিবেচ্য হবে না।

বিদেশী যোগ্যতার বিষয়টি দেখে থাকে চাইনিজ সার্ভিস সেন্টার ফর স্কলারলি এক্সচেঞ্জ। দূর থেকে শিক্ষা নেওয়া ডিগ্রির এখন থেকে আর স্বীকৃতি দেবে না তারা। এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে তারা।

জানুয়ারির শুরুর দিক থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে। পরের দিকে সেন্টার যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ধরতে পারেননি বা ভিসা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে তাদেরকে এ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

ইমিগ্রেশন রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা মহামারির মধ্যে ১৯ শতাংশ বা ৩০ হাজার হ্রাস পেয়েছে। মহামারির আগে ২০১৯ সালে কানাডায় অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৫ জন। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৫ জনে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২২ শতাংশ কমে ৩৩ হাজার ৩৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

চীনের নতুন এই নীতির প্রভাব অনলাইনে শিক্ষারত দেশটির কত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর পড়বে সে তথ্য কানাডার বিশ^বিদ্যালয় বা সরকারি কর্মকর্তা কেউ-ই জানাতে পারেননি। তবে এটা কয়েক হাজার হবে বলে একজন শিক্ষা পরামর্শক জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক গুয়াঙ্গসন এডুকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স মেঙ্গ বলেন, চীনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইনে শিক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২০ সাল। তার কোম্পানি বর্তমানে চীন থেকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি সাড়া পাচ্ছে।

চীনের এই নীতিকে কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে জানান গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের ম্যাকলিয়ড। তিনি বলেন, তাদের ১৩০ জন ক্যাম্পাসভিত্তিক চীনা শিক্ষার্থী রয়েছে। চীন তাদের অগ্রাধিকারমূলক বাজার হওয়ার ২০২৩ সালে সংখ্যাটি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

- Advertisement -

Read More

Recent