রবিবার - জুলাই ১৪ - ২০২৪

সোস্যাল মিডিয়ার কারনে

আজকাল সোস্যাল মিডিয়ার কারনে এমন একটা সময় চলে এসেছে যখন কেউ ইচ্ছে করলেই একটা কিছু লেখে বা ভিডিও বানিয়ে প্রচার করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিতে পারে

দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম গড়ে উঠে । এটি গড়ে উঠতে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষের নিরলস  শ্রম এবং মেধা জড়িত থাকে। তাই যখন একটি ব্র‍্যান্ড নেম তৈরি হয়ে যায় তখন তাতে কেউ কালিমা লেপন করে  দিলে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি।কারন,অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনেক চেষ্টা করেও সুনাম বা ব্র‍্যান্ড নেম তৈরি করতে পারে না । তারা হারিয়ে যায়। তাই যে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো সেই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ধূলিসাৎ হয়ে গেলে যে কোন বিবেকবান মানুষের কাছেই খারাপ লাগবে।

আজকাল সোস্যাল মিডিয়ার কারনে এমন একটা সময় চলে এসেছে যখন কেউ ইচ্ছে করলেই একটা কিছু লেখে বা ভিডিও বানিয়ে প্রচার করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিতে পারে। কেউ যাচাইও করে দেখে না যে বিষয়টি লেখা হলো বা ভিডিও বানিয়ে প্রচার করা হলো সেটি কি আসলে সত্য নাকি মনগড়া। যেটি লেখা হলো বা ভিডিও করে প্রচার  করা হলো তার স্বপক্ষে কি যথেষ্ট প্রমান আছে?  নাকি শ্রেফ অনুমানের উপর ঢিল ছুড়ে দেওয়া হলো?

- Advertisement -

হুজুগে বাংগালীরাও তাদের চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী চিলের কান নেওয়ার মতো কানে হাত না দিয়েই দৌড়াতে থাকলো। সেটা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে ট্রলের বন্যা বইতে একটুও দেরি হয় না। চলতে থাকে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা, টক শো, টিকটক ভিডিও ; আরো নানা রকম অদ্ভুত সব কাজ-কারবার। বিশেষ করে কোন কিছুকে damage করে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই খুব ওস্তাদ,খুব সিদ্ধ হস্ত !!  ভেবে দেখি না যেটা লেখছি বা বলছি সেটার ক্ষতিকর impact কতদূর গড়াবে।

এই কথাগুলি বলার প্রসংগ হচ্ছে সাম্প্রতিক সুলতান ডাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে  যে অভিযোগগুলি উঠেছে সেগুলি খুবই গুরুতর।

দুজন ক্রেতা এই অভিযোগগুলি সোস্যাল মিডিয়াতে প্রচার করেছেন। খুব স্বাভাবিক কারনেই তা ভাইরাল  হয়েছে। পরে এই দুজন ক্রেতাই সোস্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেওয়া সেই সব অভিযোগ রিমুভ করে ফেলেছেন।

এই অভিযোগের একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে কাচ্চি বিরিয়ানিতে দেওয়া খাসির মাংসের হাঁড় এত চিকন কেন।  এর থেকে তারা ধারনায় উপনীত হয়েছেন যে, কাচ্চি বিরিয়ানিতে দেওয়া মাংসগুলি খাসির মাংস নয়, কুকুর কিংবা বিড়ালের মাংস। এখানে একটি প্রশ্ন করা যায়, বুঝলাম খাসির মাংস নয় কিন্তু সেগুলি কুকুর বিড়ালের মাংস কিভাবে বুঝলেন?  কুকুর, বিড়ালের মাংসের স্বাদ কি তারা আগে নিয়েছিলেন?

এরপর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সুলতান ডাইনে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানটি সোস্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হয়। এই অভিযানের ফলে যে বিষয়গুলি বেরিয়ে এসেছে তাতে সুলতান ডাইন নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে যে সব আলোচনা চলছিল তাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই অভিযানে ২৫ কেজি মাংসের এক গড়মিল খুজে পাওয়া গেছে। যে ভ্যান্ডরের মাধ্যমে সুলতান ডাইন খাসির মাংসের যোগান আনতো সেই ভ্যান্ডরের রিসিটে লেখা হয়েছে ১২৫ কেজি মাংস অথচ সুলতান ডাইনের রিসিটে প্রদর্শন করা হয়েছে ১৫০ কেজি মাংস। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই ২৫ কেজি মাংস কোথা থেকে আসলো? এই ২৫ কেজির গরমিলের বিষয়টি এনে যে অভিযোগ এর আগে করা হয়েছিল তাতে আরো ঘীঁ ঢেলে তাকে আরো বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও অভিযানে আরো কিছু hygiene সম্পর্কিত অবহেলার নমুনা পাওয়া গেছে। সেটি হতেই পারে। বাংলাদেশে খুব কম রেস্টুরেন্টই hygiene মেনটেইন করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, hygiene মেনটেইন না করাটা গুরুতর অবহেলা বলে বিবেচিত হবে না।

সুলতান ডাইন কর্তৃপক্ষ এই ২৫ কেজি মাংসের গড়মিলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা প্রয়োজনে ভ্যান্ডর ছাড়াও বাইরে থেকে খাসির মাংস ক্রয় করেন।

আমার প্রশ্ন এখানে দুটি :

১) দুজন ক্রেতা সুলতান ডাইনের বিরুদ্ধে কাচ্চি বিরিয়ানির  সংগে কুকুর বিড়ালের মাংস মেশানোর   যে অভিযোগ করেছিলেন সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কি প্রমান আছে?

২) দুজন ক্রেতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেই অভিযোগ যাচাইয়ের যথাযথ কি ব্যবস্থা নিয়েছিল? বা কি ব্যবস্থা নিলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে?

১) নং প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবো, দুজন ক্রেতার অভিযোগের স্বপক্ষে জোরালো কোন প্রমান নেই। খাসির মাংসের হাড্ডি চিকন নানা কারনেই হতে পারে। এর থেকে কুকুর বিড়ালের মাংসের  উপসংহারে পৌঁছানোর কোন যৌক্তিক কারন থাকতে পারে না।আমার মনে প্রশ্ন জাগে,  হাড় মোটা হলে ওই দুজন ক্রেতা কি অনুমান করতেন?  হয়ত অভিযোগ করতেন, কাচ্চির সাথে মহিষের মাংস মেশানো হয়েছে।

২) নং প্রশ্নের উত্তরে বলবো,  জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যথাযথ পদক্ষেপ হতো,  অভিযোগকৃত মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের এটিই একমাত্র পথ। সত্যতা যাচাইয়ের অন্য কোন পথ নেই। আর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব না হলে এভাবে অনুমানের উপর নির্ভর করে অভিযোগ করা বন্ধ হোক। জানিনা তারা অভিযোগকৃত মাংসের নমুনা ল্যাব টেষ্টের জন্য পাঠিয়েছেন কিনা। হয়ত ইতিমধ্যে পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে উচিৎ হবে ল্যাব টেষ্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান দেখে মনে হয়েছে তারাও সুলতান ডাইনের fault finding এর বিষয়ে বেশ মনোযোগী,বেশ তৎপর। মনে হচ্ছে, তারাও চাচ্ছে যে অভিযোগগুলি সুলতান ডাইনের বিরুদ্ধে  উঠেছে সেগুলি যেন আরো পালে হাওয়া পায়। এটাকে  কি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ অভিযান বলা সম্ভব?

অবশ্য বাংলাদেশে সবই সম্ভব। রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তবে ল্যাব টেষ্টের ফলফল সুলতান ডাইনের বিপক্ষেও যেতে পারে। এমন হলে আমি অবাক হবো না।

এমন হলে এখানে বলার মতো তেমন কিছু থাকে না। এমন হলে যে কেউ যে কোন অভিযোগ তুলে কোন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধূলিসাৎ করে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে সেই দ্বারটি উন্মুক্ত থেকে যাবে।

আমি সুলতান ডাইনে কোনদিন খাইনি। তাই এর পক্ষে কোন ওকালতি করছি না। কিছু প্রশ্ন উন্থাপন করলাম।সেগুলির বিষয়ে অনেকের ভিন্ন মত থাকতে পারে।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent