শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

সংঘাতগুলি পত্রিকার শিরোনাম হয়

কানাডা নামক দেশটি সব ধরনের জাতি ধর্ম বর্ণ লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষকে নিজ বক্ষে ঠাই দিয়েছে এবং সেই প্রচেষ্টায় দেশটি লিপ্ত রয়েছে

“যে পাখি খাঁচায় জন্মগ্রহন করে, মনে করে উড়তে পারাটা অসুস্থতা।”

ঠিক তেমনি যখন কোন মানুষ অনুন্নত এবং অনগ্রসর দেশের পরিমন্ডলে জন্মগ্রহন করে বেড়ে উঠে এবং পরবর্তীতে উন্নত এবং প্রগতিশীল দেশে অভিবাসী হয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করে তখন তার কাছে উন্নত,প্রগতিশীল দেশের অনেক কিছুকেই অসুস্থতা বলে মনে হয়,অসভ্যতা বলে মনে। এই ঘোর থেকে বেরিয়ে আসতে তার অনেক সময় লেগে যায়। অনেকে অনেক সময় বেরিয়ে আসতে পারেও না। ফলে দেশটির মূল্যবোধের সাথে তার সব সময় একটা টানাপোড়েন চলতে থাকে। সে দেশটির মূল্যবোধকে তুলে ধরবে নাকি তার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে লালিত মূল্যবোধকে সে অগ্রাধিকার দিবে? নাকি দুই মূল্যবোধের মধ্যে একটা সম্মানজনক মিমাংসায় উপনীত হবে?

- Advertisement -

এমন এক পরিস্থিতিতে অনেক সময় খাপ খাওয়াতে না পেরে সে সংঘাতেও জড়িয়ে পড়ে।

মাঝে মাঝেই এই সংঘাতগুলি পত্রিকার শিরোনাম হয়।আমরা সেই সংবাদগুলি পড়ি। পড়ে কারন জানার চেষ্টা করি। অনেক সময় কারন জানার চেষ্টাও করি না। নির্লিপ্ত থাকি। ভাবি এটার সাথে যেহেতু আমার কোন সম্পর্ক নাই সেহেতু এটা নিয়ে এত ভেবে লাভ কি?

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি যে দেশে থাকবেন সেই দেশের মূল্যবোধকে সম্মান দিতে হবে।  কথা হচ্ছে আপনার নিজের মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অন্যের মূল্যবোধ চর্চার অধিকারকে আপনি সংকোচিত করতে পারেন না কিংবা গ্রুপ বেঁধে অর্গানাইজডভাবে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেন না,কিংবা একদল মানুষকে এই দেশের মূল্যবোধের বিপক্ষে দাঁড়াতে প্ররোচিত করতে পারেন না।

এই কানাডার  মতো দেশে কিছু কিছু মূল্যবোধকে সরকার  প্রমোট করার চেষ্টা করে। এই জন্য সরকার থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপ বা কর্মসূচীগুলিতে জনগনের সমর্থন প্রয়োজন। জনগনের সমর্থন না পেলে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।

কানাডার মতো সুসভ্য দেশেও নানাভাবে বৈষম্যের শিকার  কিছু মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। তারা স্বাভাবিক মানুষের মতো আত্নমর্যাদা নিয়ে সমাজ,কর্মক্ষেত্র, সব স্থানে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়। তাদের এই চাওয়াটি স্বাভাবিক চাওয়া।

এই চাওয়ার প্রতি আপনি সম্মান দেখাবেন কি দেখাবেন না সেটি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু এই চাওয়াকে কেন্দ্র করে কানাডার সমাজে একটি উত্তেজনা সৃষ্টি করা, এটাকে একটি ইস্যু বানিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কাংখিত নয়। এর ফলে সমাজ এবং রাষ্ট্রে এক ধরনের প্রকাশ্য বিভাজন দেখা দিবে। কানাডা সরকার যে মূল্যবোধগুলিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সেই মূল্যবোধগুলি প্রতিষ্ঠার পথে বাঁধা সৃষ্টি হবে।

কানাডা নামক দেশটি সব ধরনের জাতি , ধর্ম, বর্ণ, লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষকে নিজ বক্ষে ঠাই দিয়েছে এবং সেই প্রচেষ্টায় দেশটি লিপ্ত রয়েছে। একদিকে সে Multi culture কে ধারন করে,অন্য দিকে সে inclusiveness কে প্রাধান্য দেয়। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের কাছে এখানকার অনেক কিছু ভালো না লাগতে পারে, অসভ্যতা মনে হতে পারে,অসুস্থতা মনে হতে পারে ।

কিন্তু এদেশের অনেকের কাছে আপনার কাছে ভালো না লাগাটা ভালো লাগা, আপনার কাছে যা অসভ্যতা তাদের কাছে তা সভ্যতা,আপনার কাছে যা অসুস্থতা তাদের কাছে তা সুস্থ্যতা।

যে পাখি জন্মের পর থেকে উড়তে শিখেছে সেই পাখি জানে উড়তে পারাটাই স্বাভাবিক এবং সুস্থ্যতার পরিচয়।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent