শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

এডিনবার্গ থেকে ভেনিস : পর্ব ১০

এডিনবার্গ থেকে ভেনিস পর্ব ১০

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ : ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ভ্রমণ

খুব সকালে যথাসময়ে বাবু ভাই এসে হাজীর। আমরাও মোবাইলে এলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম, আবার নিচে রিসিপশনে বলেও রেখেছিলাম। সুতরাং সময়মত আমরা উঠে বের হলাম, লাগেজ আগেই গোছানো ছিল। বাবু ভাই আমাদেরকে নিয়ে চললেন অসলো এয়ারপোর্টের দিকে। বাবু আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলেন, এখানে উবার ফেয়ার দিতে হয় অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে, কিন্তু বাবু ভাইকে আমরা নগদ ইউরোতেই পেমেন্ট করলাম।

- Advertisement -

এয়ারপোর্টে প্রবেশ করেই আমরা লাগেজ বুকিং করলাম, যেহেতু ইমিগ্রেশন নেই লাগেজ বুকিং এবং সিকিউরিটি চেকই এখানে প্রধান কাজ। তবে লাগেজ আমাদের উপমহাদেশের এয়ারপোর্টের মত কেউ সহযোগিতা করবে না, নিজের লাগেজ নিজেই অনলাই চেকিং এর মাধ্যমে বুকিং করতে হবে, শুধু তাই নয় বিমানের যে টিকেট সে টিকেটের বর্ডিংপাসও করতে হবে নিজে নিজে অনলাইনে। আমি এব্যাপারে একেবারেই ইনোসেন্ট, কিছুই বুঝি না, কিন্তু আমরা যেহেতু দুজন, অর্থাৎ যেহেতু সজল ভাই আছেন, কোনো চিন্তা নেই, সজল ভাই খুবই এক্সপার্ট। তিনি বলেই তো আমার ইউরোপ ভ্রমণ যথেষ্ঠ সহজ হয়েছে।

নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্স মাত্র ১ ঘণ্টায় আমাদেরকে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছলাম। বিমান থেকে নেমে সরাসরি লাগেজ বেল্টের কাছে চলে গেলাম, বিমান থেকে লাগেজ এত দ্রুত আসে যে বিমান থেকে নেমে দ্রুত হেঁটে গিয়ে দেখি লাগেজ অলরেডি চলে এসেছে। আমি আগেই বলেছি ইউরোপের দেশগুলোর নাগরিকরা ইউরোপের মধ্যে ভ্রমণে বড় লাগেজ খুব একটা ব্যবহার করে না, শুধু ৭ কেজি ওজনের হ্যান্ড লাগেজ ব্যবহার করে। আমরা আমাদের লাগেজ নিয়ে সহজেই বাইরে চলে আসলাম। আর আমরা চলে আসলাম আমাদের ভ্রমণ করা স্কান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের তৃতীয় দেশ ডেনমার্কে।

ডেনমার্ক খুবই পুরাতন ঐতিহ্যবাহী দেশ। ডেনমার্ক স্কান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের একটি ছোট সমতলভূমির দেশ, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এখানো কোনো রাজনৈতিক হানাহানি নেই, পাঁচ বছর পর পর ন্যাশনাল পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। ডেনমার্ক এমন একটি দেশ যেখানে সকল নাগরিকের সাঁতার শেখা বাদ্যতামুললক, এই দেশে মানুষের চেয়ে শূকরের পরিমাণ অনেক বেশি। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন-এ পিটার নামটা খুব জনপ্রিয়। দেখা যাবে যে, শহরের কোনো লোকসমাগম এলাকায় পিটার নামে কাউকে ডাক দিলে অন্তত: ২০/২৫ জন ব্যক্তি ফিরে তাকাতে পারে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সুখী দেশ, ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যা ৫৮ লাখ, জনসংখ্যার শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ শিক্ষিত, ৮০ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান এবং দ্বিতীয় অবস্থানে মুসলিম, ৬ শতাংশ। মোট আয়তন ৪২,২২৪ বর্গ কি.মি.।

কোপেনহেগেন খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহর, রাজধানীতে প্রায় ৮ লাখ লোক বাস করে, নাগরিকরা অধিকাংশই সাইকেলে চলাচল করে। পুরো ডেনমার্কে সাইকেল আরোহীর সংখ্যা ৪২ লাখ আর গাড়ীর যাত্রীসংখ্যা ১৮ লাখ। ডেনমার্কের ভাষা ডেনিস মুদ্রা ডেনিস ক্রোনা, তবে নগদ মুদ্রার ব্যবহার খুবই কম। সবই চলে অনলাইন পেমেন্ট অর্থাৎ কার্ডের মাধ্যমে। এই দেশে কোনো মানুষ বেকার থাকে না, চাকরী ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো না কোনো কাজ করে। তারপরও নাগরিককে সরকারি কোনো সেবা নিতে কোনো প্রকার পয়সা দিতে হয় না, তবে নাগরিকদের ঠিকমত আয়কর দিতে হয়।

এদেশের নাগরিকগণ আইন মানাকে নিজের দায়িত্ব মনে করে। ডেনমার্কের নাগরিকদের ২৫ বছর বয়স হলে বিবাহ করা বাদ্যতামূলক, যদি কেউ এ সময়ের মধ্যে বিয়ে না করে তাহলে তার ২৫তম জন্মদিনে তার উপর সুগার নিক্ষেপ করা হয়, ৩০ বছর বয়সের মধ্যে না করলে তার ৩০তম জন্মদিনে তার উপর মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করা হয়। ডেনমার্কের মানুষ সবসময় হাসিখুশি থাকে। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত ডেনমার্ক দেশটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- এটি বাল্টিক সাগর ও উত্তর মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এ দুটি সাগরের মধ্যে তাদের সংযোগস্থলে যুদ্ধ হয়, জনসাধরণ তীরে থেকে সে যুদ্ধ উপভোগ করে। সবমিলে ডেনমার্কের সৌন্দর্যের বর্ণানা অল্পকথায় বলে শেষ করা যাবে না।

বাইরে এসে উবার নিলাম, এবার উবারের চালক একজন আফগানিস্থানী। মাত্র ১০ মিনিটেই আমরা আমাদের বুকিংকৃত হোটেল Arne Jacobsens Alle’ এলাকায় ‘Cabin Metro’-তে এসে পৌঁছলাম। এয়ারপোর্ট থেকে খুব বেশি দূরে নয়, এটি কোপেহেগেন শহরের একটি নতুন এলাকা, অনেকটা দুবাইয়ের আদলে গড়া সমতলভূমির উপর শহর। হোটেলের আশে-পাশে সব নতুন গাছ-পালা কিছুটা বড় হয়েছে। আমরা যখন হোটেল লবিতে পৌঁছলাম তখন স্থানীয় সময় সকাল নয়টা, কিন্তু হোটেলের চেক-ইন দুপুর বারোটা। তাই আমরা যদি এখন চেক-ইন করি তাহলে আমাদেরকে প্রতি ঘন্টায় ১০০ করে ৩০০ ডেনিস ক্রোনা অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হবে যা বাংলাদেশী টাকায় ৩২০০ টাকা।

আমরা চিন্তা করলাম এই টাকা জরিমানা না দিয়ে লাগেজ রেখে আশে-পাশে ঘুরে আসি। কিন্তু এখানেও বিপত্তি, লাগেজ রাখলেও প্যামেন্ট করতে হবে। তবে পরিমাণে কম, একটি মিডিয়াম লকার ঘন্টায় ৬০ ক্রোনা, আর ছয় ঘন্টা একসাথে ১৫০ ক্রোনা। আমরা দ্বিতীয় অপসনটিই গ্রহণ করলাম, এখানেও সেলফ সার্ভিস, আমাদেরকে শুধু আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হল লকারের অবস্থান। একটি লকারে আমাদের দুজনের লাগেজই ধরেছে। ডিজিটাল চাবি, আমরা নিজেরা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে লাগেজ বন্ধ করে বেরিয়ে পরি।

ডেনমার্কের মানুষ প্রচুর ধূমপান করে, আমরা যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম তখন দেখি কিছুদূর পর পর রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে চারদিকে গ্লাস দিয়ে ঘেরা ছোট ছোট ঘর, রাস্তায় কেউ ধূমপান করতে চাইলে এই ঘরগুলো গিয়ে ধূমপান করতে হবে। আমরা কিছুক্ষণ হোটেল লবির বাইরে সূর্য আলো পড়ে এমন কিছু টেবিল চেয়ার পাতা আছে, সেখানে গিয়ে বসলাম, এমন সময় মধ্য বয়সী একজন মহিলা এসে আমাদের কাছে টাকার বিনিময়ে সিগারেট চাচ্ছে, কিন্তু আমরা ধূমপান করি না জানালে তিনি মৃদু হাসলেন দ্রুত বেরিয়ে পড়লেন, কিছুক্ষণ পর ঐ মহিলাকে দেখলাম এক কার্টুন সিগারেট নিয়ে আবার এখানে ফিরে আসেন।

আমরা হোটেল থেকে কোপেহেগেন ভ্রমণের একটা গাইডলাইন বুকলেট নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। হোটেলের খুব কাছেই Orestad মেট্রো স্টেশন, প্রতি দুই মিনিট পর পর মেট্রো ট্রেন আসে স্টেশনে আসে এবং ছেড়ে য়ায়। আমরা Orestad মেট্রো স্টেশন থেকে Kongens Nytorv স্টেশনে যাই, সেখান থেকে এক্সেলেটর সিড়ির মাধ্যমে প্রায় ৫০ ফুট উপরে ওঠে আরেকটি ট্রেন ধরে কোপেনহেগেন সিটি সেন্টারে যাই। টরিস্ট বাসে কিছুক্ষণ ঘুরে কোপেনহেগেন শহরটা দেখি, তারপর ওয়াটার বাসে করে শহরের মাঝখান দিয়ে যে লেক প্রবাহিত হয়েছে সেই লেকে করে শহর দেখতে বের হই। এর জন্য আমাদেরকে প্যামেন্ট করতে হয়েছে জনপ্রতি ২০০ ক্রোনা যা বাংলা টাকায় ২১০০ টাকা। ওয়াটার বাসে প্রায় ৩০/৪০ জন পর্যটক আছেন, সবাই এদিক সেদিক তাকিয়ে শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখছেন, আর ওয়াটার বাসের একজন গাইড প্রতিটি স্থাপনা সম্পর্কে ইংরেজিতে বর্ণনা করছেন।

আমরা যে লেকটি দিয়ে ভ্রমণ করছিলাম সেটি আস্তে আস্তে বাল্টিক সাগরের দিকে মিলিত হয়েছে। যেখান থেকে ওয়াটার বাস যাত্রা শুরু করেছে সেখান থেকে বেশ কয়েক কি.মি. যাওয়ার পর আবার লেকের অপর পার দিয়ে ফিরে এসেছে। গাইড বিরামহীনভাবে প্রতিটি স্থাপনার ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন। দুই মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব কোপেনহেগেন শহর ঘুরে দেখেছি, আমাদের কাছে অসাধারণ লেগেছে। আমরা আবার মেট্রোতে চড়ে Kongens Nytorv আসি এবং যথানিয়মে ট্রেন বদল করে Orestad মেট্রো স্টেশনের দিকে রওয়ানা হই। এবার ট্রেনে আমরা সাইলেন্ট জোন লেখা কক্ষে বসি কিন্তু আমরা মনের অজান্তে নিজেদের মধ্যে মৃদু কথা বলি এমন সময় একজন ছাত্র ওঠে এসে আমাদের কে জানালো যে এটা সাইলেন্ট জোন। সাথে সাথে আমরা এ কক্ষটি ত্যাগ করে অন্যটিতে যাই, তখন সজল একটি কাহিনি বললেন, সেটি গতবছর যখন ওনারা ইউরোপ এসেছিলেন তখন ওনাদের সাথে ছিলেন আমাদের প্রিয় প্রয়াত প্রকাশক লুৎফর ভাই।

জার্মান থেকে লুৎফর ভাই যখন একা একা ট্রেনে অস্ট্রিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন তখন তিনি না বুঝে ট্রেনের সাইলেন্ট জোনে গিয়ে বসেছিলেন, এসময় তিনি সম্ভবত টেলিফোনে কথা বলছিলেন তখন কতৃপক্ষ এসে উনাকে ৬০ ইউরো জরিমানা করলেন বাংলা টাকায় যা প্রায় সাতহাজার টাকা। যাক আমাদের এরকম কোনো অসুবিধা হয়নি, কিন্তু এখানে ঘটলো অন্য ঘটনা, হঠাৎ দেখি একজন টিটি ট্রেনে উঠেছেন, আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলাম আমাদের তো টিকেট নেই, আমরা কি করবো? এ অবস্থা দেখে একজন ষাটোর্ধ ভদ্রলোক আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা টিকেট কাটোনি? আমরা বললাম আমরা যখন স্টেশনে ট্রেনে ওঠি তখন তো কোনো কাউন্টার দেখতে পাইনি, তিনি বললেন তোমরা বুঝতে পার কিন্তু আছে। তিনি সিট থেকে ওঠে আমাদেরকে সিটে বসতে বললেন আর আমাদের সাথে গল্প জুরে দিলেন। আমাদের সম্পর্কে জানলেন এবং নিজের সম্পর্কে বললেন, তিনি একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার, এ কাজের জন্য তিনি দিল্লি পর্যন্ত এসেছেন, বাংলাদেশে কখনও উনার আসা হয়নি। এমন সময় টিটি যখন আসলেন তিনি টিটিকে পাস দিয়ে আমাদের সাথে এমনভাবে কথা বললেন যে টিটি আর আমাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি।

তারপর ট্রেন যখন এসে Orestad মেট্রো স্টেশনে থামলো তখন তিনিসহ আমরা নামলাম। তিনি আমাদেরকে স্টেশনে কোথা থেকে কিভাবে টিকেট কাটতে হয় দেখালেন। ক্রেডিট কার্ডের মত একটি কার্ড সবসময় লোড করে রাখতে হয় আর ট্রেন বা বাসে উঠলে ওঠার সময় কার্ড পাঞ্চ করে উঠতে হয়। আমরা জানালাম এ কার্ড আমাদের কাছে নেই, এ কার্ড একটা অফিস থেকে নিতে হয় এ বলে তিনি তার নিজের কার্ড যার ২১ ক্রোনা ব্যালেন্স আছে সেটি দিয়ে আমাদেরকে বললেন আরও ১০০ ক্রোনা লোড করতে, যা দিয়ে আমরা আজ বিকেলে যখন আবার শহর দেখতে যাব তখন কাজে লাগবে এবং আমাদের পরবর্তী ভ্রমণের কিছু টিপস বলে দিয়ে বিদায় নিলেন।

পরবর্তীতে আমরা যখন বিকেলে কোপেহেগেন সিটি ঘুরে বেড়াই এবং পরের দিন সকালে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ভ্রমণে এই কার্ড ব্যবহার করি তখন সব মিলিয়ে কার্ড থেকে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ ক্রোনা। কিন্ত কার্ডে ছিল ১২১ ক্রোনা, এতে দেখা গেল যে ঐ ভদ্রলোক প্রবল দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে নিজের দেশের জন্য আমাদের কাছ থেকে বিনা পয়সায় পূর্বে ঘুরার খরচও সরকারি খাতে জমা করে নিল, আবার মানবিক দিক থেকে আমাদেরকে সহযোগিতাও করলো।

আমরা হোটেলে ফিরে এসে লকার থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে আমাদের নির্ধারিত রুমে চলে যাই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম এবং দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার সিটি সেন্টারের যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। এখানে খাওয়ার জন্য একমাত্র ভরসা ম্যাগডোনালস, কেএফসি বা এ জাতীয় রেস্টুরেন্টের খাবার। এখানে কোনো বাঙালির সাথে পরিচয় হয়নি, একজন বাংলাদেশীর সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেও নতুন। আমাদের বাংলাবাজারের কবীর ভাইয়ের ছেলে মাত্র ৪/৫ দিন আগে পড়াশুনার জন্য ডেনমার্ক এসেছে। তার সাথে কথা হয়েছে মূলত কবীর ভাইয়েল পক্ষ থেকে ছেলেকে সাহস যোগানোর জন্য।

বিশ্রাম শেষে পড়ন্ত বিকেলে আমরা সিটি সেন্টারে চলে যাই, আমাদের উদ্দেশ্য রাতের কোপেনহেগে দেখা অর্থাৎ ডেনিস নাগরিকদের সন্ধার পরের চালচ্চিত্র দেখা। মেট্রো থেকে নেমে এবার আর অন্য কোনো বাহনে উঠি নাই, আমি আর সজল ভাই পায়ে হেঁটেই রাতের কোপেনহেগেন দেখতে লাগলাম। এ পথ সে পথ দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছি, আর চারদিকে দেখছি। রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টগুলোর কাস্টমাররা সব বাইরে খোলা আকাশের নিচে বসে পান করছে, গান করছে, কেউ আবার বাজনাও বাজাচ্ছে। খোলা আকাশ হলেও ওপরের সুন্দর সামিয়ানা দেওয়া আছে। রাস্তার ফুটপাতে ২/১জন ভিক্ষুক দেখেছি, তবে তাদের ভিক্ষার ধরন একটু ভিন্ন। তারা সবাই সুস্থ, তারা রাস্তার পাশে পসে করুণ সুরে সানাই বাজায় আর সামনে একটি কৌটা রেখে দিয়েছে যেখানে কেউ হয়তো ২/১টি ক্রোনা দেয়। এরা কেউ ডেনিস নয়, এদের অধিকাংশই রুমানিয়া থেকে আসা, সরকারের অনুমোদন নিয়ে এরা ভিক্ষা করছে।

এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঘড়ির কাঁটা রাত প্রায় বারোটা, এখানেও সন্ধ্যা হয়েছে নয়টা নাগাদ। আগামীকাল সকালে আমাদের আমস্টারডামের ফ্লাইট, তাই এখানে আমরা আর সময় ব্যয় না করে হোটেলে ফিরে এলাম। রাতের ডিনার আমরা সিটি সেন্টার থেকেই সেরে এসেছি। রাত্রি যাপন শেষে সকালে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে, এবার আর উবার নয়, যেহেতু এয়ারপোর্ট মুটামুটি কাছেই তাই আমরা ঐ ডেনিস ভদ্রলোকের টিপস অনুয়ায়ী মেট্রোতে করে একেবারে বিমান বন্দরের ভিতরে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলাম, মাত্র ৭/৮ মিনিট সময় লেগেছে। বিদায় কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক।

- Advertisement -

Read More

Recent