শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

মুনাফার শীর্ষে বিমানের ঢাকা-টরোন্টো রুট

কভিড অতিমারীর মধ্যে ঢাকা টরোন্টো রুটে বিমান চালু করা ছিল একটি দুরূহ কাজ

দুই দিন আগে ঢাকায় সফর করে যাওয়া কানাডার ইন্দো-প্যাসিফিক বানিজ্য প্রতিনিধি জনাব পল থপিলের সম্মানে ঢাকাস্হ কানাডার হাইকমিশনার কতৃক তাঁর সরকারী বাসায় প্রদত্ত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিবের মহোদয়ের সাথে ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই আমরা কথা বলছিলাম। সেখানেই উঠে আসলো ঢাকা-টরোন্টো রুটে সিজন ভিত্বিক সাপ্তাতিক তৃতীয় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি কোড শেয়ারিং চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।

কভিড অতিমারীর মধ্যে ঢাকা-টরোন্টো রুটে বিমান চালু করা ছিল একটি দুরূহ কাজ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও অনেক কাঁঠ-খড় পুরাতে হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কানাডিয়ান কতৃপক্ষকে অনেক কষ্ট করে রাজী করাতে হয়েছিল। কানাডিয়ান বন্ধুদের সাহাযযের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।

- Advertisement -

কানাডাতে আমার সাড়ে তিন বছরের দায়িত্বকালে ঢাকা-টরোন্টো রুটে বিমান চলাচল শুরু ছিল একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তবে এজন্য দুজন মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সর্বাত্বক সাহায্য কখনোই ভুলবার নয়। তাঁরা হলেন পূর্বতন মাননীয় বিমান প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান বিমান সচিব। যখনই আমার সাথে কথা ও দেখা হয়েছে প্রতিটি সময় মাননীয় বিমান সচিব কিভাবে এবং কতভাবে ঢাকা-টরোন্টো রুটে বিমানকে সফল করানো যায় সেটা নিয়ে কথা বলেছেন। এরকম ডেটিকেটেড কোন সচিবকে আমি দেখিনি।

অন্যদিকে এই রুটে যাতে বিমান চলাচল শুরু না হয় তাঁর জন্য কতিপয় কট্টর দেশ ও সরকার বিরোধী বাংলাদেশী-কানাডিয়ান, এমনকি কানাডায় সরকারী দলের মুখোশধারী তথাকথিত কিছু নেতা এবং সর্বোপরি কানাডায় বসবাসরত কিছু নীচু শ্রেনীর অসৎ ও হীন মানষিকতা সম্পন্ন তথাকথিত সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিক নামধারী কতিপয় ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছিল। এমনকি তাঁরা তাদের চিরাচরিত লাগাতর দেশবিরোধী নেতিবাচক স্বভাব অনুযায়ী সোসাল মিডিয়ায় মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য ও সংবাদ প্রচার করেছে। এখন এই বিরুদ্ধচারনকারীরাও এই রুটের সুফল ভোগ করছে। তবে ৯৯.৯৯% দেশ প্রেমিক বাংলাদেশী-কানাডিয়ান ভাই-বোনদের সাহায্য ও সমর্থন আমরা পেয়েছিলাম। এই দেশ প্রেমিক বাংলাদেশী ভাই-বোনদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

তবে বিমান চালু হবার পর যিনি তাঁর সমস্ত মেধা ও শ্রম দিয়ে গোঁড়ার দিকে এককভাবে টরোন্টোতে বিমানের সমস্ত অপারেশন অত্যন্ত সফলতার সাথে সামলিয়েছেন তিনি হলেন টরোন্টোতে বর্তমানে বিমানের স্টেশন ম্যানেজার জনাব মসিকুর রহমান। টরোন্টোতে যোগদানের পর থেকেই তিনি সব সময় আমার সাথে যোগাযোগ রেখে বিমানের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং কিভাবে এই রুটকে লাভজনক করা যায় সে বিষয়ে সর্বদা পরামর্শ করতেন।

অত্যন্ত আন্তরিক, সাহসী ও দেশপ্রেমিক বিমানের এই কর্মকর্তা গত তিন বছর বিমানের সার্বিক উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর আন্তরিকতা, বিমানের ঢাকা-টরোন্টো রুটকে লাভজনক করার ক্ষেত্রে এবং যাত্রী সেবার মান উন্নত করতে তাঁর সার্বক্ষনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মত। তাঁর মত এরকম আন্তরিক, কর্মঠ ও বিমানের উন্নতির জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তা আমি খুব কম দেখেছি। জনাব মসিকুর রহমান এর কাজের ভূয়সী প্রশংসা না করে উপায় নেই। আমি অত্যন্ত খুশী যে তাঁর কাজের পরিমান ও গুনগত দিক নিয়ে আমার এই পর্যবেক্ষণের সাথে ঢাকার কর্তা ব্যক্তিরাও একমত। আমি তাঁর ব্যক্তি ও পেশাদার জীবনের উত্বরোত্বর সাফল্য কামনা করি।

আমি এটাও মনে করি যে অন্য এয়ার লাইনসের সাথে বিমানের কোড শেয়ারিং চুক্তি সম্পাদন না হওয়া পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক তৃতীয় ফ্লাইটকেও লাভজনক না করা পর্যন্ত জনাব মসিকুর রহমান সহ বিমানের বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার ও ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার টরোন্টোতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

আমি আরোও মনে করি যে ঢাকা-টরোন্টো রুটে বিমানের আরো সাফল্যের জন্য কানাডায় বিমানের বর্তমান জিএসএ এর উচিত টরোন্টোতে বিমানের টিমের সাথে আরোও গভীরভাবে প্রমোশনমূলক কাজের সমন্বয় করা এবং আরোও বেশী উদ্দোগ গ্রহন করা।

২০২১ সালে ঢাকা থেকে টরোন্টোতে আগত বিমানের প্রথম কমার্সিয়াল ফ্লাইটের প্রতিটি যাত্রীকে আমি টরোন্টো এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলাম। ঢাকা গামী বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটের প্রতিটি যাত্রীকে বিদায়ও জানিয়েছিলাম। আর জনাব মসিকুর রহমান সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি আমাকে হাইকমিশনার হিসেবে কানাডা থেকে বিদায় জানিয়েছিলেন। জনাব মসিকুর রহমানকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।

সর্বশেষে আমি সারা জীবন ঢাকা-টরোন্টো রুটে বিমানের সফলতা কামনা করে যাবো। এই রুটে বিমান আমার কাছে নিজের সন্তানের মত।

- Advertisement -

Read More

Recent