শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

অপেক্ষায় ছিলাম

অহমার নাম ঘোষণার সঙ্গে First Class Honours with Distinction শব্দগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম

জুনের চার তারিখ বিশ্বখ্যাত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছাত্রছাত্রীদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের লাইভ দেখছিলাম আহমেদ হোসেনের ফেইসবুক পেইজ থেকে। অনুষ্ঠানে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম কখন লাভিনিয়া অহমার নামটি শুনবো। আমার সঙ্গে ছিলেন অবাঙালি এক দম্পতি। তারাও আমার সঙ্গে লাইভের বিষয়টি উপভোগ করছিলেন। অহমার নাম ঘোষণার সঙ্গে First Class Honours with Distinction শব্দগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম। আমি এর মাহাত্ম্য ভালো করে অনুধাবন করার জন্য সঙ্গের দম্পতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা বলেছিলেন – ওয়াও, দিস ইজ গ্রেট! ব্রিলিয়ান্ট! সুপার্ভ! তারা অহমা ও অহমার মা-বাবাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। দূরে থেকে আনন্দের ভাগিদার হওয়ায় তারা আমাকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

অহমার মা ও বাবা দুজনেই অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন৷ ভাষা ভিত্তিক বাঙালির ঐতিহ্য, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে অগ্রগামী সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে নানান মাধ্যমের চর্চায় নিজেদের জীবনকে যাপন করছেন। আজ এই টরন্টো শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আহমেদ হোসেন এক অনিবার্য নাম।

- Advertisement -

অহমার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে First Class Honours with Distinction শব্দগুলো শুনে আমি ঈশাত আরা মেরুনা ভাবি ও আহমেদ হোসেনের হৃৎস্পন্দনের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে ওঠা আবেগময় অভিব্যক্তির অবয়বটি কল্পনা করছিলাম। নিজের চোখই ছলছল করে ওঠেছিল!

গতকাল সকালে আহমেদ হোসেনের সঙ্গে আমার কথোপকথন হয়। অভিনন্দন জানাতেই তিনি সেই দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন৷ বিশাল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে একেবারে সামনে সারিতে সম্মানিত আসনে বসা মাতাপিতা হিসেবে কন্যা অহমার সাহসী বক্তৃতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল। আনন্দে গর্বে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন সেই পরম গৌরবময় মুহূর্তের অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের খণ্ড খণ্ড দৃশ্য ও বিষয়। গাজার অসহায় নির্যাতিত লড়াকু মানুষের পক্ষে ততোধিক লড়াকু সেনাপতির মতো একজন সাহসী জননীর ভূমিকায় কন্যা অহমার কথা বলছিলেন। মানবিকতার প্রতিভূ হিসেবে একজন অহমা বিশ্ব নাগরিকতার এক উদ্দীপ্ত তারুণ্যের অহংকারী প্রতীক হিসেবেই আমাদের কন্যাটি তার বিশ্বাসের কথা বলেছে তার বক্তৃতায়। একজন পিতা হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ, গৌরব ও সফলতার আর কী আছে! আমি শুধু বলতে চাই – আহমেদ হোসেন, আপনি ধাপে ধাপে জীবনের কাজ করে যাচ্ছেন। আর আপনাদের জীবনের সেরা সাফল্যটি কন্যা লাভিনিয়া অহমা। অসংখ্য সফলতার সঙ্গে কন্যা অহমাও আপনার মাথায় থাকা বিজয়ের মুকুটে আরেকটি মহামূল্যবান রত্ন বসিয়ে দিল। আজকে আপনার জন্মদিনে আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই।

জন্মদিনে আপনার জন্য ছোট্ট দুটি কবিতা :

আমাদের মাথার উপরে চাঁদের আকাশ,
হন্যে হয়ে পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে পানি।
মেঘের ভেলার সাথে শুনি কান্নার আভাস।
দহনের তীব্রতায় নির্ঘুম কে, আমরা কি তা জানি!
হোক বালিয়াড়ি কিংবা উর্বর পলি খাঁটি।
সেখানে আমরা শপথ করে সঁপেছি এই প্রাণ,
নত হলে নির্বিচারে, আঘাত পেলে মানুষের সম্মান!

আজ যদি সহসা চলে যাই, বেয়ে ভাঙা নাও!
হতেও তো পারে, নাগালের বাইরে কোথাও-
মেঘের উপর দিয়ে, নিঃসীম নীলিমায়;
দহন-দগ্ধ এই মনপ্রাণ যেমন আড়াল হতে চায়…
হোক যতই কাছে। তবুও যে দূরে,
সেই যে জংশন থেকে হুইশেল বাজিয়ে চলে যায় ট্রেন
নস্যাৎ করে পৃথিবী, অচেনা এক সুরে…

- Advertisement -

Read More

Recent