শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

আমার নষ্টালজিক মন

গ্রাম বাংলায় আমাদের যাদের ষাটের দশকে জন্ম এমনকি সত্তর দশকের প্রজন্মের প্রত্যেকেই তাদের শৈশব ও কৈশোরের যাপিত জীবনে এইসব ছবিগুলোর সঙ্গে পরিচিত

গ্রাম বাংলায় আমাদের যাদের ষাটের দশকে জন্ম এমনকি সত্তর দশকের প্রজন্মের প্রত্যেকেই তাদের শৈশব ও কৈশোরের যাপিত জীবনে এইসব ছবিগুলোর সঙ্গে পরিচিত। আমার জন্ম হয়েছিল নিভৃত পল্লীতে। সবুজ প্রকৃতি কাদা মাটির গ্রাম আমার মামা বাড়ি সাতাইল বাতাইল।

গরুর গাড়িতে করে গ্রাম থেকে গ্রামে গিয়েছি,পাকা রাস্তা বলতে তখন গ্রামের পাশ দিয়ে ঢাকা- রংপুর মহাসড়ক, গ্রামের মেঠোপথ বর্ষায় কর্দমাক্ত , সেই রাস্তা ধরে খালি পায়ে হেঁটে গেছি কত পথ। ধান পাট আখ ক্ষেতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বর্ষায় পুকুর পাগার জলাশয় থেকে সুর করে রাতে ব্যাঙের ডাক, নিশি প্যাঁচার ডাকে ভৌতিক আবহে চোখ বুজে ঘুম। সবই আমার মামার বাড়ি সাতাইল বাতাইল গ্রাম। আমার জন্ম ভিটা। এই দুর প্রবাসে মাঝে মাঝেই নিঃসঙ্গ বোধ করি । তখন বড় নষ্টালজিক হয়ে যাই।

- Advertisement -

বার্ধক্য এগিয়ে এসেছে বরণ করতে। এখনও স্বপ্ন দেখি দেশে ফিরে যাব। কিন্তু স্বপ্ন ভঙ্গ হয়, কার কাছে যাব? সেই সরল সহজ মানুষেরা আর নেই। বাইসাইকেলে বিশেষ কায়দায় ভেতরে প্যাডেলে পা ঢুকিয়ে সদর উপজেলায় আমাদের বাড়ি থেকে সাতাইল বাতাইল যেতাম। মাঠ থেকে কৃষকরা নিরানি রেখে মাথা তুলে বলত… ক্যা বাহে কোটে যাচ্ছ ? মামীর কাছে ?

কোথায় যাব? সেই গ্রামের মেঠোপথ আর নেই, মাঠ ঘাট নেই, পানা পুকুর নেই, সবুজ বনবীথি নেই। মানুষের মন বদলেছে তার সঙ্গে অর্ধ শতাব্দী আগের সবুজ নিবির গ্রামটাও আর নেই বদলে গেছে। কাদায় প্যাঁচ প্যাঁচে কাঁচা রাস্তাগুলোও আর নেই। উন্নয়নের নামে সুখের অরণ্য হাইজ্যাক হয়ে গেছে। তবুও সুযোগ পেলেই দেশে যাই, সেখানে স্মৃতি হাতরিয়ে হঠাৎই শৈশবের কোন শতবর্ষী বৃক্ষের দেখা পাই, বন্ধু বলে তাকে জড়িয়ে ধরি। নিরবে অশ্রুসিক্ত হই।

জানি কিছুদিন পর আমার ডাক্তার হয়ত নিষেধ করে দেবেন বিমান ভ্রমন করতে। আমার আর ফিরে যাওয়া হবে না নাড়ির টানে, সেই মধুর স্মৃতির বাংলাদেশে। আমি তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব আমার জন্মভূমি থেকে। আমার অস্তিত্ব বলতে তখন আর কিছুই থাকবে না। আমি তখন হব ঠিকানা বিহীন। আত্মীয় পরিজনের ভালবাসার স্পর্শটাও তখন জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। আহারে মানব জীবন!!

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent