শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

নীতিকথা নিয়ে দুই কথা

নীতিকথা নিয়ে দুই কথা

অনেক মানুষকেই দেখি ফেসবুকে অনেক নীতি কথা বলেন, অন্যকে অনেক উপদেশ দেন কিন্তু নিজে সেই নীতিকথা, উপদেশ নিজের জীবনে পালন করেন না। তাহলে আর লাভ কি? নিজে যেটা পালন করেন না সেটা অন্যকে পালন করতে বলেন কিভাবে?
আপনি নিজে ধূমপান করলে অন্যকে কি ধূমপান না করতে উপদেশ দিতে পারেন?

তাই যেটা নিজে মানেন না বা পালন করেন না সেটা অন্যকে মানার জন্য বলতে পারেন না ।

- Advertisement -

আর ফেসবুকেই এই সব নীতি কথা আর উপদেশ বানী বেশি দেখা যায়। নীতি কথা এবং উপদেশ অন্যকে দেওয়া সহজ কিন্তু নিজের জীবনে পালন করা সহজ নয়। সবচেয়ে ভালো হয়, উপদেশ কেউ চাইলে দিবেন। অকারণে উপদেশ দেওয়া অনেক সময় বিরক্তিকর মনে হয়। কারন, একটা বয়সের পর সবাই নিজের বুঝ নিজে নিতে পছন্দ করে।

কিছু বিষয়ে উপদেশ শুধুমাত্র প্রফেশনাল ব্যক্তিরাই দিতে পারেন। আপনি যে বিষয়ে প্রফেশনাল না, কিন্তু আপনি সেই বিষয়ের উপর উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এমন উপদেশ দিবেন না। আপনার উপদেশ সঠিক হলেও দিবেন না। কারন, যে কেউ আপনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। জিজ্ঞেস করতে পারে,তুমি যে এই উপদেশ বা সাজেশন দিলে তুমি কি এই বিষয়ে প্রফেশনাল? কিংবা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে, তোমার কি এই বিষয়ের উপর কোন ডিগ্রি আছে? এর উত্তর না দিতে পারলে সমস্যা।

যেটা মানেন না, পালন করেন না সেটা বলা একধরনের হিপোক্রেসি।।

ফেসবুকে মানুষের হিপোক্রেসি আর মানুষের স্ববিরোধী অবস্থানগুলি সহজেই নজরে পড়ে। এই ধরুন, কারো বিরুদ্ধে ফেসবুক কমেন্টে বেশ বিষোদগার করলেন, দুদিন পরেই দেখা গেলো যার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন সেই ব্যক্তিরই চামচামী, তৈলমালিশ শুরু করে দিলেন। বিষয়টি কিন্তু ফেসবুকের সবাই দেখলো। মানুষ কিন্তু বোকা না। আপনি ভাবতে পারেন আপনার চামচামী বা তৈলমালিশ কেউ নোটিশ করবে না। এমন ভাবাটা একেবারেই ভুল। সবাই নোটিশ করে।

অনেকেই ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করেন। ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করা মোটেই ঠিক নয়। ব্যক্তিগত মানেই প্রাইভেট আর প্রাইভেট মানেই এর প্রাইভেসি থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ups and downs থাকে, অনেক উন্থান-পতন থাকে। সেগুলো ফেসবুকে শেয়ার করা মানে নিজেকে খেলো করে ফেলা। এই ভালো, এই খারাপ, মানুষের জীবনের এই ব্যক্তিগত বিষয়গুলি কখনই স্থায়ী নয়। তাই বার বার এই সব শেয়ার করলে মানুষ বুঝতে পারবে না আসলে কোনটা সঠিক।

যে কথা স্ট্যান্ড করতে পারবেন না সে কথা ফেসবুকে না বলাই ভালো। একটা কথা ফেসবুকে বলে ফেললেন কিংবা নিজ ফেসবুক ওয়াল কিংবা কমেন্টে লেখলেন,কিছুক্ষন পরেই এমন কিছু ফেসবুকে লেখলেন যা একেবারেই পূর্বের কথা থেকে ৯০ ডিগ্রি এংগেলে সরে আসার মতো। তাহলে ফেসবুকের মানুষগুলি আপনাকে নিয়ে কি ভাববে? ভাববে, আপনি সুবিধাবাদী কিংবা নীতিহীন মানুষ।

অনেক সময় নিজের মধ্যে অনেক বিষয়ে ক্লিয়ার কনসেপ্ট না থাকলে নিজের অজান্তেই নিজের মধ্যে স্ববিরোধী অবস্থান দেখা দিতে পারে। ভাসা ভাসা জ্ঞান, হালকা জ্ঞান থাকার কারনেও অনেক মানুষের মধ্যে নিজের অজান্তেই স্ববিরোধীতা প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। স্ববিরোধী অবস্থান এক ধরনের হিপোক্রেসি। আর হিপোক্রেসি ব্যক্তিত্বের বড় দুর্বলতা।

মানুষের মধ্যে দোদুল্যমানতা দেখা দেয় কোন বিষয়ে গভীর জ্ঞান না থাকার কারনেই। ক্লিয়ার কনসেপ্ট না থাকার কারনে। এইজন্য যার কনসেপ্ট ক্লিয়ার আর যার কনসেপ্ট ক্লিয়ার নয়, এই দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান।

ফেসবুক জায়গাটা ভালো নয়। ফেসবুকে আপনার এক্টিভিটি অনেকটাই আপনার ব্যক্তিত্বের নানা দিক প্রকাশ করে দেয়। আপনার প্রতিটি এক্টিভিটি, আপনার প্রতিটি কথা এখানে মাক্রোস্কোপের নিচে থাকে।

উন্নত অনেক দেশেই এপ্লয়াররা তাদের হায়ারিংয়ের সময় চাকরি প্রার্থীর ফেসবুক একাউন্টও নাকি চেক করে। কেন করে বলুন তো?

এর কারন হচ্ছে, এপ্লয়াররা চাকরি প্রার্থীর ফেসবুক এক্টিভিটি থেকে বুঝতে পারে সেই চাকরি প্রার্থী তার কাজের জন্য যোগ্য কি যোগ্য না। অনেক স্কিলের প্রমান এই ফেসবুক এক্টিভিটি থেকে বেরিয়ে আসে।

তেমনি আপনার ফেসবুকের প্রতিটি বন্ধু কিন্তু ওই এপ্লয়ারের মতোই, তারা দুই একটা ভাত টিপেই বুঝে ফেলে কে কেমন।

তাই এখানে ধনুক থেকে তীর ছোড়ার আগে অনেকবার ভাবতে হবে। কারন, একবার তীর ছোড়া হয়ে গেলে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

- Advertisement -

Read More

Recent