শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

কলেজে গান গেয়ে বন্ধুদের মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি

নজরুল আংকেলের শরীরে কর্কটক্রান্তি রোগ বাসা বেঁধেছে

সম্ভবত দুই হাজার ষোল সালের গ্রীষ্মের এক দুপুরে রবিন ইসলাম ও মলি ভাবির বাসায় নজরুল আংকেলের সঙ্গে পরিচয় নাফিয়া উর্মীর বাবা এবং বাশার ভাইয়ের শ্বশুর হিসেবে। আধুনিক সুদর্শন ব্যক্তিত্ব। সেদিন তিনি সবাইকে মুগ্ধ করে একক এবং দ্বৈতকণ্ঠে করে উর্মীর সঙ্গে গান গাইলেন। কন্যা-পিতার গানটিও গাইলেন।

আমাদের বন্ধু অরুনা হায়দারের মাধ্যমে বেশ কয়েক মাস আগে থেকে জানতে পারলাম তিনি অসুস্থ। আজ তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম হাসপাতালে। তাঁর ভরাট কণ্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণ। মায়াময় কুশল জিজ্ঞাসা। তারপর গানের গল্প। তিনি গান গাইতেন৷ এবং বেশ আয়োজন করেই গান গাইতেন। মান্না দে নজরুল আংকেলের প্রিয় শিল্পী। কলেজে গান গেয়ে বন্ধুদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।

- Advertisement -

নজরুল আংকেলের শরীরে কর্কটক্রান্তি রোগ বাসা বেঁধেছে৷ স্বভাবতই তাঁর পরিবারের সবার অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এরকম অবস্থায় রোগীকে দেখতে যেয়ে মুখে কথা আসে না। সামান্য কুশল বিনিময়েই কথা আটকে যায়। আজকে আমারও হয়েছিল এই দশা। উপরে উপরে আমি স্বাভাবিক গল্প করছিলাম, কিন্তু আমি আসলে নীরব থাকতেই চেয়েছি। কিন্তু একজনকে দেখতে গিয়ে নীরবতা যেহেতু বেমানান; তাই, আংকেলের গানের গল্পের অবতারণা।

আমি থাকা অবস্থায় উর্মী, তার আম্মু ও উর্মীর ছেলে উপস্থিত ছিলেন। আমার সামনে আংকেলের বিছানার এক কোণায় বসেছিলেন উর্মীর আম্মু। আমার ডানপাশে উর্মী ও তার ছেলে নুবায়ের। উর্মীর চোখ দুটো ফুলা। বুঝাই যাচ্ছিল আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তার চোখ ফেটে অবিশ্রান্তভাবে অশ্রু বেরিয়ে আসতে চাইছে।

নজরুল আংকেল আমার দিকে দু’একবার তাকাচ্ছেন, আবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন নিচের দিকে। মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখছেন তাঁর ছোট কন্যা নাফিয়া উর্মীকে। কিংবা নাতি নুবায়েরকে। কন্যার দিকে চোখ গেলে নীরবতার মধ্যে আমি যেন শুনতে পাচ্ছিলাম- আয়রে আমার পাশে আয় মা-মণি
এ হাতটা ভাল করে ধর এখনি
হারানো সে দিনে চল চলে যাই
ছোট্টবেলা তোর ফিরিয়ে আনি
আয় খুকু আয়
আয় খুকু আয়…..

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent