শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

কেমন দেখলাম তুফান?

কেমন দেখলাম তুফান

প্রথমত, তুফানে শাকিব খান নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন, নেপথ্যে ছিলেন রায়হান রাফি। এই শাকিব খান কে আমি দেখিনি কখনো। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে কাউকে এত গ্র্যান্ড ওয়েতে প্রেজেন্ট করা হয় নি যেভাবে তুফানে শাকিব খানকে প্রেজেন্ট করা হইছে। এই লেভেল টা ক্রিয়েট করে ম্যাচ করতে পারাটা এবং দর্শককে সেই কনভিকশন টা দেয়াই তুফানের সবচেয়ে ভালো দিক।

দ্বিতীয়ত,
আমি লাইফে ফার্স্ট টাইম শাকিব খানের কোন সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে দেখেছি এবং এটাও জানি তাঁর ক্যারিয়ারে তিনি কোন ধরনের সিনেমা করে নিজের অডিয়েন্সদের স্যাটিসফাই করেছেন। আমি নিউট্রাল দর্শক হয়েই সিনেমাটা দেখেছি এবং তুফান অভার-অল আমাকে বেশ ভালো মোমেন্টস ডেলিভার করেছে। বাংলাদেশে সীমিত বাজেটে এই লার্জার দ্যান লাইফ স্টোরিটেলিং এর ওয়েটা আমার ভালো লাগছে কারণ এই ক্ষেত্রে ডিরেক্টর কে অনেক ক্যালকুলেট করেই সিনেমা বানাইতে হয়, রাফি সেই পার্সপেক্টিভ থেকে শতভাগ সফল।

- Advertisement -

তৃতীয়ত,
সিনেমাতে মেটাফোরিক ওয়েতে শাকিব খানের পার্সোনাল লাইফের কিছু রেফারেন্স দেয়া হইছে- এই জিনিসটা ভালো লাগছে। ফার্স্ট হাফের দিকের যেই গল্পটা ছিল, সেখানে শাকিব খানের লাইফের নানা দিক এর একটা টাচ পাওয়া যায় এবং ডিরেক্টর সেটা সেভাবে বুঝতেও দেন নাই, যারা বুঝবেন তারা ঠিকই বুঝে নিতে পারবেন আরকি।

এখন যদি আমার থট প্রসেসটা ভুলও হয়, তবুও আমি যে এভাবে ভাবার স্পেস টা পাইছি, সেটাই আমার নিজের কাছে আলাদা স্যাটিসফ্যাকশনের জায়গা। পরিচালক খুব সূক্ষ্মভাবে শাকিব খানের ফ্যানদের টার্গেট করে ফার্স্ট হাফে নানা ব্যাপার ডেভেলপ করছে বলেই আমার মনে হয় এবং পার্সোনালি তাঁর এই ফ্যানদের পালস ধরতে পারার কিংবা ধরতে চাওয়ার এই ব্যাপারটা আমার ভালো লেগেছে

চতুর্থত,
বড় ব্যানারের কমার্সিয়াল সিনেমাতে কনভিকশন জিনিসটা খুব ইমপরট্যান্ট। যদি থিয়েটারে সিনেমা দেখাবস্থায় কোন সিনে যাই হউক না কেন সেটা দর্শক কে বিলিভ করানো যায়, তাহলেই কমার্সিয়াল সিনেমা সফল। এইসব জিনিস ছোট পর্দায় দেখার সময় চোখে লাগতে পারে, কিন্তু লার্জার দ্যান লাইফ সিনেমা তখনই সফল হয় যখন বিগস্ক্রিনের লার্জার দ্যান লাইফ সিনগুলাও ইন্সট্যান্ট দেখতে ভালো লাগে। এই ক্ষেত্রে তুফান সফল এবং রাফি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি নিউট্রাল অডিয়েন্স হিসেবেও এঞ্জয় করছি।

পঞ্চমত,
সিনেমার সবচেয়ে বড় ইউএসপি’ই হলো শাকিব খানের এই ট্রাঞ্জিশন। তিনি হয়তো প্রিয়তমা কিংবা রাজকুমারে চেষ্টা করেছেন আরো নতুন করে নিজেকে প্রেজেন্ট করার, কিন্তু আমার সেই সব সিনেমা একেবারেই ভালো লাগেনি। কিন্তু রায়হান রাফি তুফানে একেবারে সেই চেষ্টাকে চূড়ান্তভাবে দারুন শেইপ দিয়েছেন যেটা নিউট্রাল অডিয়েন্স হিসেবে দেখতে ভালো লাগে। সিনেমা ফ্যানদের জন্যে একটা নির্দিষ্ট আয় জেনারেট করেই কিন্তু এক্সসেপশনালি ভালো তখনই করে যখন নিউট্রাল অডিয়েন্সদেরও সেই সিনেমা ভালো লাগে। এজন্যেই আমার মনে হচ্ছে, তুফান সত্যিই এক্সসেপশনালি ভালো করবে এবং বর্তমানে সিনেমা

হলের ক্রাউড দেখে সেটা মনে হওয়া আরো স্বাভাবিক।
পরিশেষে, তুফানে- শাকিব চঞ্চলকে দুই আলাদা আলাদা পার্সোনার বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ক্যারেক্টর হিসেবে দেখানো, ফার্স্ট হাফে ড্রামাটিক বিল্ড আপ আর নানা রেফারেন্স কিংবা সিনেমার বিল্ড আপ, রিলিজ না হওয়া দারুন কিছু গানের পার্ফেক্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশন আর প্লেসমেন্ট, মিমির বোল্ড গ্লামারাস লুক এবং ওকে শুধু পাপেট হিসেবে না রাখা, পোস্টক্রেডিট সিন, স্টোরিটেলিং, সিনেমাটোগ্রাফি এবং রাক্ষস হিসেবে তুফান কে প্রেজেন্ট করানোটা আমার ভাল লাগছে। কিন্তু যদি তুফানের ক্যারেক্টর টাকে আরেকটু ডিটেইলস এর সাথে বিল্ড আপ দেয়া হইত আর ইমোশনের এংগেল টা আরেকটু এক্সপোজার পাইতো, আমার মনে হয় সিনেমাটার স্টান্ডার্ড আরো উচু হইতো। এক্ষেত্রে ফার্স্ট হাফকে হয়ত আরেকটু সংকোচিত করলে বেশি স্পেস দেয়া যাইতো তুফান এর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এর বিষয়টাতে। তবে শুরু থেকে তুফান কে রাক্ষস হিসেবে প্রেজেন্ট করতে চেয়ে, সেই পয়েন্টেই তাকে স্টাবল রাখার বিষয়টা আমার ভাল লাগছে।

হয়তো তুফানের সিক্যুয়েলে তুফান ক্যারেক্টর টাকে আরো এক্সপ্লোর করা হবে এবং এই ফার্স্ট পার্ট টা জাস্ট তুফানের ইন্ট্রোডাকশন’ই ছিল- সেই আশা নিয়েই সিক্যুয়েলের জন্যে অপেক্ষায় থাকলাম।

- Advertisement -

Read More

Recent