শুক্রবার - জুলাই ১৯ - ২০২৪

শাকিবের ছবি ১০০+

শাকিবের ছবি ১০০+

সম্প্রতি এক বাংলাদেশি পরিচালকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জিতের সাথে মুভি করতে চাইছেন রায়হান রাফি। এরপর থেকেই জিত আর শাকিবের মধ্যে তুলনা চলছে। এখানে আমিও কিছু ফ্যাক্ট তুলে ধরার চেস্টা করছি।

বর্তমানে নি:সন্দেহে শাকিবের স্টারডম জিতের থেকে বেশি। তবে তা কেবল ই বাংলাদেশে। আর ফেস্টিভাল রিলিজ দিয়ে। কিন্তু কলকাতায় শাকিব অতটা জনপ্রিয় হতে পারেন নি যতটা পেরেছিলেন ফেরদৌস। অপরদিকে জিত ইউনিভার্সাল (বাংলায়) সুপারস্টার। ফেরদৌসের পর জিত ই একমাত্র নায়ক যার মুভি দু বাংলাতেই সুপারহিট হয়েছে। জিতের সর্বশেষ ৪ মুভির মধ্যে ৩টাই ব্যাবসা সফল।

- Advertisement -

তবে এখানে জিত আর শাকিবের ব্যাবসার পার্থক্য বুঝতে হবে। বুঝিয়ে বলি:

বাংলাদেশে শাকিবের ছবি ১০০+ হলে চলে। প্রতি হলে কমপক্ষে ৪ টা শো। তো মিনিমাম ৪০০+ শো পায়। আর মাল্টিপ্লেক্সে মোটামুটি ২৫-৩০ টা শো পায়। সব মিলিয়ে এভারেজ ৪৫০ শো পায়। দর্শক কত? মোটামুটি ৪০- ৫০ লাখ সর্বোচ্চ যারা হলে যায়। আর জনসংখ্যা ১৮ কোটি ছুয়েছে। সে হিসেবে শাকিবের দর্শক বেশি, শো টাইম বেশি। তাই স্বাভাবিক ভাবে শাকিবের মুভির কালেকশন ও বেশি।

আবার জিতের সর্বশেষ মুভি বুমেরাং পেয়েছে ১৭৯ খানা শো। এভারেজে ২৩০ খানার মত শো পায়। তবে ৩০০ কখনো পেরোয়না। চেঙ্গিজ সবথেকে বড় রিলিজ যা ৭০০ থিয়েটারে ১২০০ খানা শো পেয়েছিল। এখানে একটা ব্যাপার বলে রাখি, কলকাতার সিংগেল স্ক্রিনে একাধিক ছবি চলে। তাই শো টাইম ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এক হলে একটা ছবিই চলে। তাই এক হলের সব শো একটা ছবিই পায়।

জিতের হলমুখী দর্শক সর্বোচ্চ ২০ লাখ (শাকিবের অর্ধেক) কারণ কলকাতার জনসংখ্যাও বাংলাদেশের অর্ধেক প্রায় ৮ কোটি।

তো হিসেব অনুযায়ী জিতের শো শাকিবের অর্ধেক + হলমুখী দর্শক ও অর্ধেক। তাই ব্যাবসার ক্ষেত্রে শাকিব অন্তত ৪ গুণ বেশি এডভান্টেজ জিত থেকে পায়।

শাকিবের মুভি যদি দিনে ১ কোটি কামায় জিতের মুভি কামানো উচিত ২০ থেকে ৩০ লাখ বাংলাদেশি টাকা। মোটামুটি ওখানে ১৫-১৬ রাখ রূপি এভারেজে কামায়। বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে ২০ লাখ টাকার মতই হবে।

তাই ৪ গুণ বেশি এডভান্টেজ পাওয়া শাকিবের সাথে ব্যাবসার নিরীখে জিতের তুলনা চলবেনা। জনসংখ্যা + শো টাইম ক্যালকুলেশন করতে হবে।

তার উপর স্ক্রিনগুলোতে নাইট শো অনেক কম পায়। দুপুরের আর বিকালের শো বেশি পায়। তো ওই সময় নন ফেস্টিভালে এমনিতেও কম মুভি দেখে। অকুপেন্সি কম হয়। কিন্তু শাকিবের এ ঝামেলা নাই।

শাকিবের আরেকটা এডভান্টেজ হল, সিংগেল স্ক্রিনগুলাতে শাকিবের অন্য কোন বেটার মুভির সাথে ক্ল্যাশ করতে হয়না। হোক সেটা হিন্দি বা অন্য মুভি। (নন ফেস্টিভালে)। ফেস্টিভালেও শাকিবের মুভিগুলাই টপ মেকিং থাকে (লাস্ট ৩টা মুভি তার প্রমাণ)। কিন্তু জিত এ সুবিধা পায় না। জিত কে ভাল বাংলা ছবি (অযোগ্য ভার্সেস বুমেরাং) কিংবা হিন্দি/সাউথের ছবির সাথে ক্ল্যাশ করতে হয় যেকারণে দর্শক ভাগ হয়ে যায়। যা শাকিবের ক্ষেত্রে হয়না।

তাই শাকিব একক ভাবে এগিয়ে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। আবার টি আর পি বিবেচনা করলে জিতের ধারেকাছেও শাকিব নাই।

কিন্তু কি হত যদি দু বাংলায় একই দিনে একই সাথে জিত ও শাকিবের মুভি রিলিজ দেয়া হত? বাদশা দা ডন শাকিবের অর্ধেক হলে রিলিজ দিয়ে শাকিব কে হারিয়ে দিয়েছিল। নবাবের সাথে বস ২ ক্ল্যাশে হেরে গেলেও সুপারহিট হয়েছিল কিন্তু দুবাংলা মিলিয়ে বস ২ বেশি ব্যাবসা করেছিল। বস ২ এর পর জিতের যে ছবি গুলো এসেছিল সেগুলো মোটামুটি রিলিজের ১ মাস পরে এসেছিল। আর ততদিনে পাইরেসি হয়ে গেছিল।

জিতের মুভি রিলিজের দিন ই পাইরেসি হয় যা শাকিবের ক্ষেত্রে হয়না। শাকিবের মুভি দেখতে হলে হলেই যেতে হবে। কিন্তু জিতের মুভি ঘরে বসেই দেখতে পারবেন।

শো টাইম + জনসংখ্যা+ আদার্স ফ্যাক্টর মিলিয়ে শাকিব অন্তত ৬ গুণ সুবিধা পায়। (ম্যাথেমেটিকালি ৪ গুণ + আদার্স ফ্যাক্টর ২ গুণ)

তাই জিতের মুভি কলকাতায় ১ কোটি রূপির ব্যাবসা করলে শাকিবের মুভিকে বাংলাদেশে অন্তত ৮ কোটি টাকার ব্যাবসা করলে সমানে সমান বলা যাবে। (নন ফেস্টিভালে এবং রেগুলার বেসিসে)

কিন্তু ফেস্টিভাল রিলিজ ছাড়া শাকিবের লাস্ট কোন মুভি ৮ কোটি কামিয়েছে? অথচ জিতের বুমেরাং নন ফেস্টিভাল রিলিজ দিয়েও সুপারহিট। নন্দনে টানা হাউজফুল গেছে বুমেরাং।

শুধু একটা উদাহরণ দিই। জিত কেবল নিজের প্রডাকশন হাউজ থেকেই মুভি করছে। জিতের মুভি যদি না চলত, তবে কি শুধু জিতের মুভি প্রডিউস করেই একটা প্রডাকশন হাউজ চলতে পারত? জিত অনেক নতুনকে সুযোগ দিচ্ছে। শাকিব পারবে নতুন দের পেছনে টাকা ঢালতে?

এরপরেও জিত আয় খুকু আয় ও সুইজারল্যান্ডের মত অন্য তারকাদের মুভিও প্রডিউস করেছে। কয়েকটা সিরিয়াল ও প্রডিউস করেছে। কিভাবে টিকে আছে?

শাকিবের প্রডাকশন হাউজ কিন্তু গ্রাসরুটের মত এত ছবি প্রডিউস করতে পারেনা। আর শাকিবের বাইরের মুভির কথা বাদ ই দিলাম। অনন্ত জলিলের প্রডাকশন হাউজ ও মোটামুটি বন্ধ যদিও তার নিজস্ব বিরাট ব্যাবসা আছে সিনেমায় টাকা ঢালার জন্য। জিতের সে এডভান্টেজ ও নেই।

এত কিছুর পরেও অনেকে জিতের স্টারডম নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আর ওদিকে জিত ঠিকই ব্যাবসা করে যাবে আর মুভির সাকসেস পার্টি করে যাবে। জিতের স্টারডম কে নিয়ে আপনারা প্রশ্ন তুলতেই পারেন।
জিত বি লাইক – বয়েই গেল!

শাকিব অন্য প্রডাকশনে কাজ বন্ধ করে নিজের প্রডাকশন হাউজ থেকে ধারাবাহিক ভাবে হিট দিক যার মধ্যে নন ফেস্টিভালেও হিট থাকবে। আর নতুন মুখ তুলে আনুক। তবেই জিতের সাথে সমানে সমানে তুলনা হবে। তার আগে নয়!

তবে না শাকিবের প্রয়োজন আছে জিতের থেকে স্টারডমে এগিয়ে থাকার, আর না জিতের প্রয়োজন আছে শাকিবের থেকে বেশি ব্যাবসা দেবার। এমনিতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক খরা চলছে। তাই দর্শক হিসেবে আমরা চাইব দুজন ই ভাল কন্টেন্টের মুভি নিয়ে আসুক। এতে দর্শক হিসেবে আমরাই লাভবান হব।

- Advertisement -

Read More

Recent