শনিবার - এপ্রিল ২০ - ২০২৪

ঐতিহ্য ও বহু সংস্কৃতির দেশ ইরান

আমেরিকা বা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিককেই ভ্রমণ ভিসা দিয়ে থাকে ইরান ব্যতিক্রম শুধু ইসরাইল ইসরাইলিরা ইরানি ভিসা পায় না

সম্প্রতি ইরানের ওপর বেশ কিছু ডকুমেন্টারী, ট্রাভেল ভ্লগ দেখে মুগ্ধ। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর দেশ হচ্ছে ইরান।  আমার এখন প্রায় আফসোস হয়, কেন আগে ইরান ঘুরতে যাইনি?

একুশে টিভিতে থাকাবস্থায় প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কিছু সময় সোনারগাঁও হোটেলের লবি বা পুলসাইডে আড্ডা দিতে যেতাম। আমাদের সেই আড্ডায় আসতেন নিপুভাই। তিনি বেশ ক’বার নানান কাজে ইরানের বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন। উনার কাছে ইরানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থাপনা, মানুষের আন্তরিক আতিথিয়েতা, খাবার দাবার, ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদী বিষয় এতো শুনেছি যে, কল্পনায় ইরানকে অনুভব করতে পারি। দেশে থাকলে হয়ত এতোদিনে একবার হলেও নিপুভাইয়ের সগরসংগী হিসেবে ইরান ভ্রমন হয়ে যেত।

- Advertisement -

ইরান নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝে একটা ভুল ধারণা ছিল বা আছে, ইরান ভ্রমন বিপদজ্জনক! কিন্তু বিভিন্ন ট্রাভেল ভ্লগ দেখে, ট্রাভেলার্স ডায়েরি পড়ে, পরিচিত বেশ ক’জন ইরান ভ্রমনকারীর সাথে কথা বলে বহুল প্রচলিত ভুল ধারণাটি ভেঙে গেল।  আসলে যথাযথভাবে ভিসা নিয়ে এবং তাদের নিয়মকানুন মেনে চললে ইরান ভ্রমণ অত্যন্ত নিরাপদ। হাজার হাজার পশ্চিমা নাগরিক প্রতি বছর কোনো অঘটন ছাড়াই ইরান ভ্রমণ করছেন। আমেরিকা বা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিককেই ভ্রমণ ভিসা দিয়ে থাকে ইরান। ব্যতিক্রম শুধু ইসরাইল। ইসরাইলিরা ইরানি ভিসা পায় না।

যাহোক, আজ ইরান উত্তপ্ত। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাশাআমিনীর

মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ প্রতিবাদ দেশটিকে বহু বছরের মধ্যে এবার মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে নৈতিকতার পুলিশের হাতে মাশাআমিনী হত্যাকান্ডের পর গোটা ইরান নারীর অধিকার রক্ষায় ফুঁসে উঠেছে । নারীরা রাস্তায় নেমে হিজাব পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। অনেকে প্রকাশ্যে চুল কেটেও বিক্ষোভে শামিল হন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হিজাববিরোধী প্রচার ছিল তুঙ্গে।

আন্দোলনের মুখে সরকার নৈতিকতার পুলিশ বিলুপ্ত করেছে। আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক বিজয় হলেও সরকার নারীদের আন্দোলনে সমর্থনকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী যুবক মহসিন শেকারি শুধু নয়, ইরানের ইসলামী সরকার ১১জন প্রতিবাদী যুবককে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় ইরান অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড় আমির নাসের আজাদানিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। বলা হয়েছে, ইসফাহানের দাঙ্গাতে নাকি জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই গত সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় আমিরকে। বিরোধীদের কড়া হাতে দমন করতে গিয়ে ‘মোহারাবে’ অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মোহারাবের অর্থ হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কি ভয়ানক অভিযোগ! সেই অভিযোগেই ফাঁসির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমিরের। ইরান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্ব জুড়ে।

ইরানে নারীরা কেন ফুঁসে উঠেছে, একটু পিছনের ইতিহাস দেখলে বোঝা সহজ হবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানি সমাজে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেজা শাহ পাহলভীর আধুনিক ইরান ইসলামী বিপ্লবের পর পিছু হাঁটতে থাকে। খোমেনীর সরকার প্রথমে নারীকে নানান বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলে। নারীদের হিজাব, বোরখা পড়তে বাধ্য করা হয়। যে ইরানের নারীরা শিক্ষা দীক্ষায়, সংস্কৃতিতে অগ্রসরমান ছিল তাদের হুট করেই চারদেয়ালে আটকে ফেলা হয়। তাদের অনেক অধিকারও হরণ করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় নারীদের একা  ভ্রমণ, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ।  এমন কি কাজের অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়।

১৯৮০ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়টুকু বাদ দিলে কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত নারীর অধিকারহরণের বিরুদ্ধে  পুরুষদের দিক থেকে খুব একটা কথা শোনা যায়নি। সমাজ ও রাস্ট্র নারীদের প্রতি কোন সহমর্মিতা দেখায়নি। কিন্তু রাস্ট্রীয় দমন পীড়নের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে মানুষ ফুঁসে উঠছিল। এক মাশাআমিনী হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ বিশ্ব দেখলো।

ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নারী সংক্রান্ত কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ইরানকে। এটাও ইরানের চলমান আন্দোলনে নারীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির বিজয়।

বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সুইডেন ভিত্তিক ইরানি সমাজবিজ্ঞানী মেহরদাদ দারভিশপোর জানিয়েছেন, এখন অনেক পুরুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। যাতে বোঝা যাচ্ছে যে প্রগতিশীল দাবির প্রতি সমাজে পরিবর্তন এসেছে। ‘

এই কথার প্রমান মেলে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলে গ্রুপ পর্যায়ের খেলায়। নারীদের দাবীর প্রতি সংহতি জানিয়ে

ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাওয়া হতে বিরত ছিলেন। এবারের বিক্ষোভের প্রধান শ্লোগান হলো: ‘নারী, জীবন, মুক্তি’-যা মূলত ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও সমতার আহবান । ফলে আন্দোলনে নারী ও পুরুষ উভয়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইসলামী সরকারকে বেকাদায় ফেলে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বিরাট ফ্যাক্টর। ইসরায়েল ও অন্যান্য আরবদেশগুলোর সাথে ইরানের বৈরিতা নতুন নয়। সেই দীর্ঘ ইতিহাসে আলোকপাত করতে গেলে লেখাটি কলবর বৃদ্ধি পাবে। সাম্প্রতিক সময়ের ছোট একটি বিষয় না তুলে আনলে লেখাটি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।  ২০১১ সাল থেকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। সরকারবিরোধী এসব আন্দোলন, যা আরব বসন্ত নামে পরিচিত, পুরো আরব অঞ্চলজুড়েই বিভিন্ন দেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিকে সৌদি আরব ও ইরান নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে তাদের প্রভাব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে সিরিয়া, বাহরাইন এবং ইয়েমেনে।

এসময় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও শত্রুতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইরানের প্রভাব বাড়তে থাকায় মরিয়া হয়ে উঠে সৌদি আরবও।ফলশ্রুতিতে  ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে শত্রুতা দিনে দিনে ক্রমশই বৃদ্ধি পেতে থাকে। কারণ আঞ্চলিক নানা লড়াইয়ে বিভিন্নভাবে জয়ী হচ্ছিল ইরান। এর পেছনে আর্ন্তজাতিক শক্তি বিশেষত আমেরিকা ও ইসরায়েলের দুরভিসন্ধি ছিল। সৌদি আরবকে সমর্থন দেয় আমেরিকা। আর তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের একটি ভয় ছিল, সিরিয়ায় ইরানপন্থি যোদ্ধারা জয়ী হতে থাকলে একসময় তারা তাদের সীমান্তের কাছে চলে আসতে পারে। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তি সই হয়েছিল, ইসরাইল ও সৌদি আরব তার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, এরকম একটি চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা বানানোর আকাংক্ষা থেকে ইরানকে বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। মোটা দাগে বলতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র শিয়া-সুন্নি বিভাজনে বিভক্ত।

সৌদি শিবিরে আছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য সুন্নি দেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিসর এবং জর্দান। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে আছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, লেবাননের হিযবুল্লাহ গ্রুপ। ইরাকের শিয়া নিয়ন্ত্রিত সরকারও ইরানের মিত্র। আবার একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুদ্ধে তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে এই দুটো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নানা কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের শীতল যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

ইরান ও সৌদি আরব একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছে না ঠিকই, কিন্তু বলা যায় যে তারা নানা ধরনের ছায়া-যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে তারা একেক গ্রুপকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিচ্ছে, যেগুলোর একটি আরেকটির বিরোধী।

এই সমীকরণের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে সিরিয়া। উপসাগরীয় সমুদ্রপথেও পেশীশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এই চ্যানেল দিয়ে সৌদি আরবের তেল পাঠানো হয় বিভিন্ন দেশে। সম্প্রতি এরকম বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলার জন্য ওয়াশিংটন দায়ী করেছে ইরানকে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। এখনো পর্যন্ত ইরান ও সৌদি আরব পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে।

কিন্তু কখনো তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেয়নি। তবে সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুতিদের সাম্প্রতিক বড় ধরনের হামলা তেহরান ও রিয়াদের শত্রুতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর সঙ্গে আছে উপসাগরীয় চ্যানেলে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির বিষয়টিও। অনেকেই মনে করছেন, এসবের ফলে এই দুটো দেশের উত্তেজনা হয়তো এখন আরো ব্যাপক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বহু দিন ধরেই ইরানকে দেখে আসছে এমন একটি দেশ হিসেবে যারা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। সৌদি নেতৃত্ব ইরানকে দেখছে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে। আর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তো ইরানের প্রভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও ইরান এই দুটো দেশের মধ্যে যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ লেগে যায় তাহলে সেটা হবে দুর্ঘটনাবশত। তাদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কমই।

বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, এই পরমাণু কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সন্দেহ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা করছে।

যাহোক, ঈর্ষনীয় মাথাপিছুর আয়ের দেশ ইরান দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকা ও পশ্চিমাদের অবরোধে ভেঙে পড়েনি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও ৩৫℅ শতাংশ তরুনের দেশ ইরান আইটি সেক্টরে অভাবনীয় সাফল্য শুধু আনেনি, বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে নিজেরাই সিলিকন ভ্যালির মতন ছোট ছোট আইটি ভিলেজ গড়ে তুলেছে।

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে ইরানের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। ফেরদৌসী, সাদী, রুমি,  হাফিজ, ওমর খৈয়াম এর মতন জগ্বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক ফার্সী সাহিত্যকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করেছেন। ইরানের চলচ্চিত্র তো গত ২৫/৩০ বছর যাবত বিশ্বের সকল নামীদামী ফেস্টিভ্যাল শুধু আলোকিত  করেনি, শত শত পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। আব্বাস কিয়রোস্তমি, মহসিন মাখমালবাফ, তাহমিনা মিলানি, মাজিদ মাজিদিসহ কয়েক ডজন ফিল্মমেকার প্রতিনিয়ত ইরানের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

প্রকৃতিও যেন উদার হস্তে ইরানকে ঢেলে দিয়েছে। খনিজ সম্পদের উপর ভাসছে পুরো দেশ।

শুধু কি তাই? 

পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য নিয়ে এক ঘোরলাগা প্রাকৃতিক মহুয়া বন, জনশূন্য বিরান মরুভূমি আর এবড়ো-থেবড়ো সুউচ্চ পাহাড়ের কোল ঘেষে অবস্থান করছে ইরান। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে পর্বতময় দেশগুলির একটি; এখানে হিমালয়ের পরেই এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ দামভান্দ অবস্থিত। ইরানের শিল্প-ঐতিহ্য বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, সমৃদ্ধ ও সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থানে পরিপূর্ণ ইরানকে বলা হয় ‘সাংস্কৃতিক মাধুর্য’র দেশ।

সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও এমন বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ ভ্রমন না করা আমার জন্য দীর্ঘদিন অনুতাপের কারণ হয়ে থাকবে।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent