
আমি চিরকাল মৌলিক সৃষ্টির পক্ষে। আর অনুকরণ করলে তা স্বীকার করার আনন্দে থাকি। নিজস্ব এই নীতির কারণে, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মতো অনুবাদক আমার কখনই প্রিয় ছিল না। তাছাড়া আমরা বাংলা সাহিত্যের সব ক্ল্যাসিক পড়ে বেড়ে উঠেছি, ফলে জাফর ইকবালের লেখা আমাদের কখনও টানে নাই।
শিক্ষক হিসেবে তার অনেক সুনাম। শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনেও নিশ্চয়ই তার ভূমিকা আছে। তবে মাঝেমধ্যে তিনি কোনও ঘটনার আগামাথা না জেনেই ‘ফট’ করে কী যেন সব বলে ফেলেন। বলার পর আর সামলাতে পারেন না। আমরা তবুও পোস্ট লিখে মুছে দিতে পারি। তিনি আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
তার এই ‘ফট’ করে কথা বলে ছুঁড়ে দেয়ার ফলে তিনি আজ জনবিচ্ছিন্ন। তার পরিবারের সদস্যেরা আজ সকালে সবাই মিলে তার বিপরীত মতের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। এটা নিশ্চয়ই তার একটা পরাজয়। কারণ, তিনি নিজের গণ্ডির ভেতরের কাউকেই পারলেন না, জাতিকে সামলাবেন কী করে?
তো জাতি তাকে নিয়ে কী করছে? প্রবল ঘৃণা করছে। সামান্য কিছু মানুষ ছাড়া অধিকাংশই তাকে পছন্দ করছে না। তাকে পছন্দে রেখেছে কিছু কট্টর মানুষ। যারা একঘেয়েমিতে ওস্তাদ। মতের অমিল হলে আপনাকে সামনে পেলে মেরে ফেলবে, এমন। তারা যুক্তি মানে না, আবার নিজের যুক্তি অন্য কেউ না মানলে দুনিয়ার ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করে।
কোনও একবার জাফর ইকবাল ‘ফট’ করে কী যেন বলেছিলেন। আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। তাতে সেদিন যারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আজ তাদেরও কেউ পাশে নাই।
যাহোক, জাফর ইকবালের এইসব ‘ফট’ করে কথা বলার কারণে একটা দেশের অনেক নরম-কোমল মনের ভালো মানুষও তাকে ঘৃণায় রাখছে। এত মানুষের এত ঘৃণা নিয়ে যে বেঁচে থাকা, তা অবশ্যই মূল্যহীন। এত ঘৃণায় জীবনের অনেক অবদানই তুচ্ছ হয়ে যায়।
জাফর ইকবাল ‘ফট’ করে কথা বলার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন। শুভ কামনা।
