শুক্রবার - জুন ২১ - ২০২৪

আমার পুরস্কার প্রাপ্তি ও ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি

- Advertisement -

বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কাৱ ২০২২ প্রদান করা হয়। মার্কিন লেখক ক্যারোলিন রাইট এবং আমাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানেৱ স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কাৱ প্রদান করা হয়। এই স্বীকৃতি আমার জন্য বিরাট বড় ঘটনা। আমি শৈশবকাল থেকে শুধু লেখকই হতে চেয়েছি। অনেক টানাপোড়েন আর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমার বেড়ে উঠা জীবন। না খেয়ে সেই পয়সা দিয়ে পত্রিকা কিনেছি, এনভেলাপ কিনেছি পত্রিকায় লেখা পাঠানোর জন্য। বড় বড় লেখকদের বই পড়ে সবসময় ভাবতাম কিভাবে মানুষ লেখে! কিভাবে চরিত্রগুলো হাসে, কাঁদে, জীবন্ত হয়ে উঠে! আজও এটা একটা বিস্ময় আমার কাছে। আজও লেখকরা আমাকে কাছে এক স্বপ্নের জগতের মানুষ। আমি জানতাম না কখনও আমি লিখতে পারব, আমার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, কখনও জানতাম না আমার বই কেউ প্রকাশ করবে, কখনও জানতাম না আমার বই পাঠকরা কিনবে বা আমাকে ভালবাসা দেবে। আর লেখালেখির জন্য পুরষ্কার পাওয়া ছিল চিন্তারও বাইরে।

বাংলা একাডেমি নামটি আমার কাছে বিরাট আবেগের। প্রতি বছর বিদেশ থেকে একুশের গ্রন্থমেলায় ছুটে যাই আমি। যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন থেকেই বিচিত্রার জন্য বইমেলার রিপোর্ট করতাম। সেই থেকে বাংলা একাডেমি আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। ১৯৯৩ সালে আমাৱ প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পৱ থেকে বইমেলায় উপস্থিত থাকায় কখনও ছেদ পড়েনি। আমি ঢাকা এসেছিলামও লেখালেখি করব এই আশা নিয়ে। মা অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন, বলেছিলেন ছেলেটা শুধু গল্পের বই পড়ে! বাপ মরা ছেলে লেখাপড়া না শিখলে খাবে কি! বাড়ির অনেকেই আমি গল্পের বই পড়ি বলে মনে করত আমি উচ্ছন্নে গেছি। কিন্তু মা কখনও আশা ছাড়েননি। মা পড়তে জানতেন না। একদিন আমাকে বললেন, তুমি নাকি লিখ! কী লিখ! আমাকে পড়ে শুনাও। আমাৱ বোন সাজু আমাৱ লেখা প্ৰকাশিত হলে ঘুৱে ঘুৱে সবাইকে দেখাত আৱ বলত আমাৱ ভাইৱ লেখা বাইৱ হইছে। আজ দুজনেৱ কেউ বেঁচে নাই! তাঁরা বেঁচে থাকলে অনেক খুশী হতেন। আমার মায়ের মতো আমাৱ স্ত্রী জেসমিনও একদিন জিজ্ঞেস করল, তুমি কী লিখ, ততদিনে আমার প্রায় তিরিশটি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে।

আমার এই দীৰ্ঘ পথ চলায় আমার যে ক’জন বন্ধু , আমাৱ ছেলে মেয়ে, আমাৱ স্ত্ৰী, আমাৱ আত্মীয় লেখালেখির জন্য আমাকে অব্যাহত সমর্থন দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, আমার পাশে থেকেছেন তাদেরকে প্রতি কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ আমার সব প্রকাশক ও পাঠকদের। পুরষ্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সৰ্বপৱি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিসত্তাৱ কবি শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

- Advertisement -

Read More

Recent