শনিবার - মার্চ ২ - ২০২৪

নিপীড়নের ভয়ে বহিস্কারের মুখে থাকা ইরানি শরনার্থী

ইরানের নারীবাদী চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহশিদ আহাঙ্গারানি ফারাহানি পড়ালেখার জন্য কানাডায় আসেন ২০ বছর আগে। এর কিছুদিনের মধ্যে তিনি কানাডায় আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং নিজ দেশে রাজনৈতিক খারাপের দিকে যাওয়ায় তার আবেদন গৃহীতও হয়। সরকারের বিরোধিতার করার কারণে তার ওপর নিপীড়র নেমে আসার যে ভয় ছিল সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয় তার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে।

- Advertisement -

প্রায় দণন দশক কানাডায় শান্তিতে বসবাস করার পর অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানে ফেরত পাঠানোর মুখে রয়েছেন নর্থ ইয়র্কের এই বাসিন্দা। ইরানে তার সিনেমা নিষিদ্ধ এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেণ তার অভিবাসী আইনজীবী হানা মারকু।

তাকে ইরানে পাঠানোর কাজটি এখনো হচ্ছে না। কারণ, ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আদেশটি স্থগিত করেছে। কিন্তু তার ওপর হুমকিটা আগের মতোই রয়েছে।

ফরাাহানি গত সপ্তাহে সিপি২৪কে বলেন, নিশ্চিতভাবেই আািম সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছি। আমার ধারণা, ইরানের মাটিতে পা রাখা মাত্রই আমি গ্রেপ্তার হবো। এরপর কী হবে কে জানে? ইরানে কারাগারে যাওয়ার পরদিন আপনার ভাগ্যে কী ঘটবে তা আপনি জানেন না। কাউকেই এজন্য দায়ী করা যাবে না। ইরান সরকারের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই। মানুষকে খুব সহজেই সেখানে হত্যা করা হয়।

গত গ্রীষ্মে ডাইনটাউন টরন্টোতে ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যখন বিক্ষোভ হয় তখন ফারহানি তাতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইরানে ফেরার পর যেটা হবে তা হলো তার চলচ্চিত্র নির্মাতা মা ও বোনকেও ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং তাদেরকেও নিপীড়নের মুখে পড়তে হতে পারে। অভিনেতা ও তার বোন পেগাও ২০২০ সালে ইরান থেকে পালিয়ে আসেন।

ফারাহানির আইনজীবী মারকু বলেন, কেবলমাত্র পারিবারিক সম্পর্কের কারণে মাহশিদকে লক্ষ্যে পরিণত করা হচ্ছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে। অথচ কানাডিয়ান সরকারের তার জন্য করার কিছু নেই। এটা আমাদের কাছে খুবই ভয়ের।

২০০৫ সালে শরনার্থীর স্বীকৃতি পাওয়ার তিন বছর পর কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান ফারাহানি। কানাডায় আসার পর বেশ কয়েকবার নিজ দেশে গেছেন তিনি। ইরানের সরকারের সমালোচনা করে নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ইরানে ফেরেন। তার অসুস্থ্য মা ও বোনকে দেখাশোনার জন্যও ইরানে যান তিনি। ইরানের সরকার তাদের সম্পদ ও চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করলেও একবার ইরানে যেতে হয় তাকে।

- Advertisement -

Read More

Recent