বুধবার - ফেব্রুয়ারি ২১ - ২০২৪

আম্মা বই পড়েন

আমার আম্মা ইদানীং প্রচুর বই পড়েন। বই পড়ে তাঁর সময় কাটান। বাবা চলে যাবার পর মায়ের অবসরের প্রিয় সঙ্গী এখন বই। সাম্প্রতিক সময়ে  ভ্রমন বিষয়ক বই হচ্ছে তাঁর প্রথম পছন্দ। ইতোমধ্যে আমার নারায়নগঞ্জের বাসায় সংগ্রহে থাকা  মঈনুস সুলতান, ফারুক মঈনুদ্দিন, শাকুর মজিদের বেশ কিছু বই পড়েছেন।

- Advertisement -

শাকুরভাইয়ের লেখা “ক্লাস সেভেন ১৯৭৮ ” পড়ার পর আম্মা বিশেষভাবে তাঁর লেখার অনুরাগী হয়েছেন। তারপর একে একে উনার অনেক বই পড়ে ফেলেছেন।সেইসব বই নিয়ে তাঁর ভাললাগার অনুভুতি লিখে রেখেছেন ব্যক্তিগত ডায়েরিতে। আমি ফোন করলে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে সেইসব লেখার কিয়দংশ পড়ে শোনান।

মায়ের ভ্রমন বিষয়ক বইপ্রীতির কথা জেনে ক’দিন আগে প্রিয় শাকুরভাই দু’টো বই আম্মাকে পাঠিয়ে চির কৃতজ্ঞতার ঋনে আবদ্ধ করে ফেললেন। আম্মার প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, তাঁর প্রিয় লেখক তাকে বই উপহার পাঠিয়েছেন। ফোন করে বারবার জানতে চাইছিলেন, এতো বড় একজন লেখক তাঁর মতন একজন অশতীপর পাঠককে বই পাঠিয়েছেন। চিঠি দিয়েছেন।

আমি আম্মার উচ্ছাস বুঝতে পেরে শুধু বলি,শাকুরভাই যতো বড় লেখক তারচেয়ে বেশী বড় হ্রদয়ের মানবিক মানুষ। প্রসংগক্রমে জানাই,একবার আমি, আরটিভির পাভেল,সময় টিভির আসাদভাই,সোলায়মানভাই মিলে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করবো শুনে দশহাজার টাকা একুশে টিভিতে লোক মারফত পাঠিয়ে দেন।

আম্মা খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললেন,তিনি যতো বড় লেখক,তিনি তো বড় মানবিক মানুষ হবেন, এটাই হওয়া উচিত!

তিনি আরো জানান,বই পড়া শেষে লেখককে ফোন করে কৃতজ্ঞতা জানাবেন। আমি তাতে সায় দিয়ে বলি, হ্যাঁ বইগুলো আগে শেষ করেন। ফোন করলে নিশ্চয়ই শাকুরভাই খুশি হবেন।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent