শনিবার - মার্চ ২ - ২০২৪

যত বই তত প্রাণ

এবারের মেলার শ্লোগান হচ্ছে যত বই তত প্রাণ

এ বছর নিউইয়র্ক বইমেলা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। ১৪ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে এবারের মেলা বসছে। এবারের মেলার শ্লোগান হচ্ছে যত বই তত প্রাণ। নিউইয়র্ক বইমেলা ইতিমধ্যে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। মুক্তধারা ফাইন্ডেশন একটা প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জণ করেছে। দেশে বিদেশে নিউইয়র্ক বইমেলা একটি আলাদা মর্যাদায় দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সবচেয়ে বৃহৎ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবটি হচ্ছে নিউইয়র্কে।

বর্হিবিশ্বে বাংলা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই বইমেলা অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিগত দিনগুলোতে অনেক খ্যাতিমান লেখক, প্রকাশক বইমেলায় অংশ নিয়েছেন। বইমেলাকে মহিমান্বিত করেছেন। বছরে চার পাঁচদিন শহরে একটি উৎসবের আমেজ তৈরী হয়। লেখক, প্রকাশক আর পাঠকের একটি মহামিলন ঘটে। সাহিত্যের নানা দিক নিয়ে বোদ্ধারা আলোচনা করেন। নতুন প্রজন্ম আলোকিত হয়। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য নিউইয়র্ক বইমেলা একটি আবগের নাম, একটি শ্রদ্ধার নাম। দুই দেশের সরকারী পর্যায়ে এই বইমেলা স্বীকৃত। ভবিষ্যতে এর উত্তরন ঘটতেই থাকবে, বইমেলা আরো এগিয়ে যাবে, আরো মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে এই প্রত্যাশা করি।

- Advertisement -

নিউইয়র্ক সবসময় আমার অন্যরকম স্মৃতির জায়গা। নিউইয়র্কের মানুষ সবসময় আমাকে যে ভালবাসা দেন তা তুলনাহীন। নিউইয়র্ক যেনো আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ২০০৩ সালে কানাডা আসার পর প্রায় প্রতিবছর নিউইয়র্ক বইমেলায় এসেছি। নিউইয়র্ক বইমেলা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার এক অপূর্ব মিলন মেলা। প্রথম এই মেলায় আসি ২০০৫ সালে। কোভিডের দুই বছর বাদে প্রায় প্রতিবছর নিউইয়র্ক বইমেলায় এসেছি। উত্তর আমেরিকার লেখক, শিল্পী ও বইপ্রেমিরা সবসময়ই মেলাকে অনন্য সাধারণ করে তুলেছেন তাদের উপস্থিতি দিয়ে। লেখক পাঠক আর প্রকাশকদের এক অসাধারণ মিলন মেলা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্নধার বিশ্বজিত সাহা ছাড়াও এর সাথে যুক্ত একদল নিবেদিতপ্রান মানুষ বইমেলাকে স্মরনীয় করে রেখেছেন শুরু থেকেই। তাদের অভিবাদন।

বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। আত্মার সাথে আমাদের সম্পর্ক। যেখানেই বইমেলা সেখানেই আমি থাকতে চেষ্টা করি। কখনও ঢাকা, কখনও নিউইয়র্ক, কখনও কোলকাতা, কখনও লন্ডন, কখনও ওয়াশিংটন ডিসি। ফি বছর ছুটে যাই বইমেলার টানে দেশে বিদেশে। লেখালেখি, বই বা বইমেলার জন্য আমি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। অনন্ত ত্যাগ। এমনকি আমি বরিশালও ছেড়েছিলাম লেখালেখির জন্য। এক অনিশ্চিত জীবন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছিল। আমি কখনও পিছনে ফিরে তাকাইনি। সাহিত্যকে ভালবেসে আমার সবটুকু শ্রম এর পিছনে দিয়েছি। আজকে নিউইয়র্ক বইমেলা নিয়ে আমরা গর্ব করছি। কিন্তু এর শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে নিউইয়র্ক বইমেলা তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে।

উল্লেখ্য দুই বাংলা মিলে সারা পৃথিবীতে এখন প্রায় দেড় কোটির মতো বাঙালি বাস করছে। ভাষা চর্চার ব্যাপারটি সর্বত্র্যই লক্ষ্য করা যায়। বাংলা ভাষা পৃথিবীর ৫ম বৃহত্তম ভাষা। পৃথিবী থেকে অনেক ভাষারই বিলুপ্তি ঘটেছে। আরো বিলুপ্তি ঘটবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কিন্তু বাংলা ভাষা কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। ভাষা আছে বলেই বাংলা সাহিত্যের বিশ্বায়ন ঘটেছে। এখন আর ভৌগলিক সীমার মধ্যে কোনোকিছু বন্দী নেই। অনেক নাম করা সাহিত্যিকরা এখন ছড়িয়ে পড়েছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তারা তাদের অবদান রেখে চলেছেন। রবীন্দ্রনাথের পরে আর কেউ সেভাবে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে না পারলেও নিজের জাতি গোষ্ঠির মধ্যে নিজেদের শ্যেষ্ঠত্ব প্রমাণের যথেষ্ঠ প্রতিযোগিতা আছে এবং তা অতি উচ্চ মানের। যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।

- Advertisement -

Read More

Recent