শুক্রবার - জুন ২১ - ২০২৪

একটি পড়ার মত বই

কাকে বলি পড়ার মত বই ? যে বইটি পড়তে গিয়ে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভুলে যাই, ইনকামিং ফোন কলটি ধরতে গিয়েও ধরি না, গিন্নীর ডাকাডাকি কানেও তুলি না, যাবো যাচ্ছি করতে করতে খাওয়া আর ঘুমের সময়টাও পেরিয়ে যায়, এমনকি, বাথরুমে যাওয়াটাও পারলে ঠেকিয়ে রাখি, তাকেই বলি পড়ার মত বই।

- Advertisement -

এমনই একটি ‘পড়ার মত বই’ লিখেছেন আমাদের আকতার হোসেন ভাই। ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাস। নাম, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট।’ সাহিত্যে, শিল্পকলায় আকতার ভাই বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ। তাঁর মত একজন মানুষ যখন অস্ত্র হাতে যুদ্ধে গিয়ে একটি ফুলকে বাঁচিয়ে ফিরে এসে সেই ফুলের বর্ণগন্ধছন্দকে তাঁর লেখার উপজীব্য করেন, তখন তা সত্য ও সুন্দরের চ্ছটায় দীপ্যমান হয়ে ওঠে, অন্য মাত্রা পায়। বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জনাব আবু সাইদ চৌধুরীই ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ – প্রবাসে যাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মযজ্ঞের ইতিহাসকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে উপন্যাসের পরিকাঠামো।

২৪০ পৃষ্ঠার এই ‘পড়ার মত বই’ টির ভূমিকা লিখেছেন শ্রদ্ধেয় কবি আসাদ চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, “একটি অসাধারণ বই, গত কয়েক বছরের মধ্যে আমি এ রকম বই পড়িনি।” কবির এই মন্তব্যের পরে আর কিছু বলা মানে বাচালতা, ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খাওয়া। তবে, আমার ঐ এক কথা – একটি পড়ার মত বই।
লেখক : সায়ীদ যাদীদ
চিন্তাবিদ ও গবেষক

‘পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা যে কত জরুরি ছিল তা বুঝতে পেরে আবু সাঈদ চৌধুরী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, মন্ত্রী, এমপি, বিচারক, শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীদের কাছে গিয়ে জোর গলায় দাবি করতেন ইয়াহিয়াকে চাপ দিতে। লেখক এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছেন, ‘আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের মুক্তিবাহিনী শুধু মনের বল ও রণনৈপুণ্যের দ্বারা সেকেলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ডেনমার্কের সহানুভূতিশীল সরকার, জনগণের অনুপ্রেরণা পেলে নিশ্চয়ই আমাদের স্বীকৃতি দেবেন। আপনারা পত্রিকার পক্ষে থেকেই ডেনমার্কের জনগণকে সত্য খবর জানাতে থাকবেন সেটাই আশা করি। শেখ মুজিব একটি দেশের রাষ্ট্রপতি। বাঘের মতো যার সাহস তিনিই আবার ফুলের মতো কোমল। তাঁর দেশের নাম বাংলাদেশ। তাঁর বিদ্রোহ অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে। সে দেশের নাম পাকিস্তান। এটাই সত্য। আশা করি বাকি অংশটা আপনারা জানেন। যতটুকু জানেন না সেটা জানাতেই আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা প্রশ্ন করুন।

সবশেষে কবি আসাদ চৌধুরীর কিছু কথা দিয়ে শেষ করছি। প্রিয় কবি আসাদ চৌধুরী মিস্টার প্রেসিডেন্টের ভূমিকা লিখতে গিয়ে বলেছেন, আকতার হোসেনের গদ্য ভঙ্গিটি ভারি সুন্দর। একটি দৃষ্টান্ত দিই- “বুক পকেট থেকে কলম বের করে আন্ডারলাইন করলেন কেনেথ ক্লার্কের উদ্ধৃতি; ‘জিন্নার একতার স্বপ্ন রক্তে ধুয়ে-মুছে গেছে। একই কলম দিয়ে লন্ডন টাইমসের ওপর মোটা দাগে আন্ডারলাইন করলেন আরেকটি খবর, শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। কলমের দাগ গুরুত্বপূর্ণ খবরের নিচ দিয়ে কালো নদীর মতো বয়ে যেতে থাকে। একের পর এক ছোট ছোট নদী ফুটে উঠতে লাগল তাঁর হাতে।’ এরকম ঝকঝকে গদ্যেই বইটি লেখা। এ বইয়ে বাঙালির ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে জনাব চৌধুরীর বিস্ময়কর ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় তুলে ধরেছেন আকতার হোসেন। সব মিলিয়ে ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই, কোনো সন্দেহ নেই।”

লেখক : আবুল হাসান (কায়সার) চৌধুরী
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ প্রতিদিন মার্চ ২ ২০২২

সমসাময়িক বা নিকট অতীতের চরিত্র নিয়ে উপন্যাস বা আখ্যান লেখা কঠিন কাজ। বিশেষ করে সেই ঘটনা বা ঐতিহাসিক ব্যক্তি যদি হন নিকট অতীতের। আকতার হোসেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর জীবনকে নিয়ে এই কঠিন কাজই করেছেন। এর মাধ্যমে অন্তত এই মহৎ মানুষের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের পাঠকেরা জানতে পারবেন। লেখককে ধন্যবাদ।

সোহরাব হাসান ; ১৬ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায়ই ইনবক্সে সুপারিশ আসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর বইয়ের তালিকা চেয়ে। মুক্তিযুদ্ধ একটা বিশাল ক্যানভাস, এর পুরোটা অনুধাবন ও ধারণ করতে প্রয়োজন এর বিভিন্ন দিকগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। সাধারণত আমি বই রিভিউ করি না। কিভাবে করে জানি না তাই। কিন্তু কানাডা প্রবাসী লেখক আকতার হোসেন ভাইর এই বইটি নিয়ে দুলাইন না লিখলে অন্যায় হবে। অসাধারণ মুন্সিয়ানায় তিনি জমাট বুননে তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের একটি অচর্চিত অধ্যায়।

‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ একটা ডকু ফিকশন! নায়ক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। গল্পের আকারে তুলে ধরা হলেও তাতে ইতিহাস বিচ্যুতি নেই এক ছিটেও। বরং ঐতিহাসিক তথ্যউপাত্তকে খুটি বানিয়েই এক গতিময় অভিযাত্রা তুলে ধরেছেন লেখক। সুবাদেই আমরা জানতে পারি মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালীদের অবদান। যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের পেটের দানা, অস্ত্রের বুলেট জোগাড় করতে কি মরিয়া লড়াইটাই না লড়েছিলেন তারা।

কাজটা সহজ ছিলো না। পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর শূন্য পদমর্যাদা বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর। সেই অবস্থায় কিভাবে তিনি পুরানো যোগাযোগ আর নিজের ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে এই অসাধ্য সাধনে ব্রতী হয়েছিলেন তারই দলিল ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’। ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে তার সেই সাহসী কর্মযজ্ঞই তুলে ধরেছেন লেখক। নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি প্রথম লাইন থেকেই আটকে যাবেন। বই শেষ না করে থামতে পারবেন না।

আকতার ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ মুক্তিযুদ্ধের এই বিশেষ অধ্যায়টি নিয়ে আমার জানার ফাকফোকড়গুলো পূর্ণ করে দেওয়ার জন্য। বইমেলায় মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি বই যদি কেনার ইচ্ছে রাখেন, আমার রিকমেন্ডেশন ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।

অমি রহমান পিয়াল; ব্লগার, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

- Advertisement -

Read More

Recent