রবিবার - জুলাই ১৪ - ২০২৪

জয় হোক বাংলাদেশের

শেখ হাসিনা

দল কানা তো নই-ই, আওয়ামী লীগেরও আমি কেউ নই। কিন্তু আমার চেতনায় গণজাগরণের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ শুনে।

হ্যাঁ, শাসনামলে আওয়ামী লীগের ভুল হতে পারে। শেখ মুজিবুর রহমান মানুষ। তাঁরও ভুল হতে পারে। তাঁর আমলে সরকার পরিচালনায় আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন আশানুরূপ নাও হতে পারে৷ কিন্তু সেই কারণে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পিতাকে ও তাঁর পরিবারের গর্ভবতী পুত্রবধু, শিশু রাসেল সহ সবাইকে হত্যা করতে হবে!

- Advertisement -

এতেও ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকের দল, হত্যাকারীদের যাতে বিচার না হয়, সেই পথও রুদ্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে!

আপনি বলবেন, সে তো পুরনো বিষয়! হ্যাঁ, আমি জানি এটা পুরনো বিষয়। কিন্তু কিছু বিষয় কখনোই পুরনো হয় না। হবে না। তেমনি বাংলাদেশের নামের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামটিও প্রতিদিনের সূর্যোদয় সূর্যাস্তের মতো স্বতস্ফূর্তভাবে সত্য ও স্থায়ী চিরন্তন। এটা পুরনো বিষয় তো নয়ই, বরং এটিই অনিবার্য বিষয়। এটি আগে তারপর এগিয়ে যাবার অন্যান্য পদক্ষেপ।

এ কথা অস্বীকার করার যো নাই যে, বঙ্গবন্ধুর বেঁচে থাকা দুই কন্যার একজন শেখ হাসিনা। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যাকারীদের নির্মোহ বিচার করে আমাদের উপর থেকে হিমালয় পরিমাণ ভারি অবহনযোগ্য এক পাথরকে নামিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন তথ্য সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতাকে ত্বরান্বিত করেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এই কয়টি কারণেই শেখ হাসিনার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে লিখা থাকবে চিরকাল।

এহেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় সমালোচনা থাকতে পারে। উচ্চ কণ্ঠে আমরা সেই সমালোচনা করবো। দুর্নীতিবাজ নেতা কর্মীদের থেকে তাঁর দল ও সরকার মুক্ত থাকবে এই প্রত্যাশা আমরা ব্যক্ত করবো। ধর্মীয় মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারে তাঁর উৎসাহদানকে আমরা তীব্র সমালোচনা করবো। দখলদার, আগ্রাসী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কারো সাথে সরকারের বা দলের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আমরা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। এমনকি নিকট আত্মীয় হলেও সরকারে এরকম কাউকে তিনি স্থান দেবেন না, এই বিষয়ে সোচ্চার থাকবো। কিন্তু, আমি চাইবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তত আরেকবার আমাদের দেশটি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হোক।

আমি কায়মনোবাক্যে বিশ্বাস করি ব্যক্তি শেখ হাসিনা দৃঢ়চেতা একশতভাগ একজন সৎ মানুষ।

অন্তত এই মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শেখ হাসিনার চেয়ে অধিক যোগ্যতম জননেতা নেই, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরো বেশী ও বড়ো স্বপ্ন দেখাতে পারেন।

আমার এই ধারণার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতেই পারে৷ সেটাকে আমি সম্মান করি, যদি আপনি কোন জামাতি ও যুদ্ধাপরাধীকে সমর্থন না করেন। যদি আপনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত – ‘আমার সোনার বাংলা’ বাদ দেওয়ার দুরভিসন্ধি না করেন। যদি আপনি ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে ঘৃণা করেন এবং এর ন্যায় বিচার আশা করেন। যদি আপনি উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলাকে ঘৃণা করেন এবং এর ন্যায় বিচার আশা করেন। যদি আপনি সংখ্যালঘু ভাইবোনদের উপর হামলা, দখল, ধর্ষণ, লুটতরাজকে ঘৃণা করেন এবং এর ন্যায় বিচার আশা করেন।

যদি আপনার বিচারে শেখ হাসিনার চেয়ে অধিক উপযুক্ত কেউ না থাকেন তাহলে আসুন শেখ হাসিনাকে আরো একবার সরকার পরিচালনার সুযোগ দেই। আমাদের দেশটাকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাঁর স্বপ্নের পদযাত্রায় আমরাও যোগদান করি।

আমাদের দেশটা সুখি হোক। সমৃদ্ধ হোক। দেশের মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বৃদ্ধি পাক। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হোক সর্বত্র। পরস্পরকে হুমকি দিয়ে নয়, সরকারের তরফ থেকে বেশুমার ধরপাকড় নয়, অন্য দলকে নির্বাচনী প্রচারে বাঁধা দিয়ে একতরফা নিজেরাই শুধু প্রচারের সুবিধা নেওয়া নয়, আতঙ্ক সৃষ্টি করে নয়, নির্বাচন হোক প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার প্রয়োগে নিরাপদ এবং খুশি আর আনন্দের একটি উৎসব।

দল নয়, জয় হোক বাংলাদেশের। বাংলাদেশের মানুষের।

- Advertisement -

Read More

Recent