শনিবার - মার্চ ২ - ২০২৪

নারী এবং বাগান

প্রতিবার প্রতিজ্ঞা করি আর বাগান করবা না আগামী বছর ভাবি কি লাভ এত কষ্ট করে

বিকেল থেকে শুরু হয়ে সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে মুশলধারে।

খুব ভোরে উঠে দেখি তখনো ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। পেটিওতে বসে বৃষ্টি দেখার ইচ্ছে ছিল কিন্তু উপায় নেই। বাইরে কন কনে ঠান্ডা। তবে নাস্তা শেষ করে বাইরে গিয়ে বৃষ্টি ভেজা মেঘ ঢাকা সকালের কিছু ছবি উঠিয়েছি। দেখলে হয়ত ভাল লাগবে প্রকৃতিপ্রেমী এবং বাগানপ্রেমী সবারই।

- Advertisement -

এ বছর ঠাণ্ডা লেগেই আছে। তাই বাগানের অবস্থা ভাল না। গাছ যেভাবে লাগিয়েছি ঠিক সেভাবেই বসে আছে। ব্যাতিক্রম শুধু আমার লাউ গাছ গুলো। এবার জায়গা বদল করে দিয়েছি। তাই নতুন মাটি, নতুন জায়গা পেয়ে বেড়ে গিয়েছে তর তর করে। ছয় ফুট উঁচু মাচার উপর উঠে এখন ফুল দিতে শুরু করেছে। তবে মাঝখানে ডোরাকাটা হলদে মাকড়ের আক্রমনে না পড়লে হয়ত আরো একটু ভাল হতো।

আমাদের রোজ সিটি গার্ডেনিং গ্রুপে ক’দিন আগে আমি একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম “মন খারাপের পল্প” নামে। এরপর থেকে আমি অনেক বন্ধুদের শান্তনা সূচক কল পেয়েছি। আমার বউ বলে – নিজের গল্প একটু নিজের কাছেই রাখনা কেন। সবাইকে জানান দিয়ে কি লাভ?

বলা দরকার আমার বাগানের এত ভালবাসার পেছনে তার অবদান অনন্য। বীজ রাখা, বীজ থেকে চারা তৈরী করা সবই করে সে। চারা যখন একটু বড় হয় তখনই শুরু হয় আমার কাজ। তবে কাজ আমি করলেও, গাছ গাছরার ব্যপারে সব খবরদারি কিন্তু উনারই। অনেকটা বাগানের মালীর মতই ফাই-ফরমায়েশ খাটি। এই গাছে ডগা কাটা যাবেনা, ওই গাছের অবস্থান নাড়ানো যাবেনা – সব কথাই নিরবে শুনতে হয়।

প্রতিবার প্রতিজ্ঞা করি, আর বাগান করবা না আগামী বছর। ভাবি কি লাভ এত কষ্ট করে। টোনাটুনির এই সংসারে এত সব্জিরতো আর দরকার হয়না। সব্জি উঠিয়ে তারপর সুন্দর করে গুছিয়ে লোকজনকে দিয়ে আসাও কষ্ট সাধ্য ব্যপার। এত কিছুর পরও আবার সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করি। জানিনা কি আনন্দ এই বাগানে। তবে এটা বুঝি ফজরের নামাজের পর বাগানে না হাটলে সারাদিন নিজেকে ছাড়া ছাড়া এবং অপূর্ন মনে হয়।

যতদিন সুস্থভাবে বেঁচে আছি, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের রেওয়াজ হয়ত চলতেই থাকবে।

ছোটবেলায় স্কুল ছুটি পেলেই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। আনেকটা সময় কাটত দাদার সাথে। তিনি ছিলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। উনার অবসর সময় কাটত নাতির সাথে গল্প আর সব্জি বাগান করেই।

দাদা একটা জলচকিতে বসে সব্জি ক্ষেতে নিরানি দিতে দিতে আমার সাথে গল্প করতেন। গল্প হতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তবে অধিকাংশ সময় একই গল্পের পুনারাবৃতি হতো। হয়তোবা উনার মনের অজান্তেই। এমনি এক মেঘলা দিনে উনার গল্প। আজকের গল্প নারী নিয়ে। আমি তখন মাত্র ক্লাস ফাইভে পড়ি।

গল্পের শুরু এভাবে।

নারী কথাটা সহজ মনে হলেও আসলে এটি এক অজানা রহস্যের নাম। তবে পণ্ডিতেরা গবেষনা করে নারী চেনার কিছু উপায় বের করেছেন। তাদের ধারনা নারী চার ধরনের হয়ে থাকে।

: পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী ও হস্তিনী।

পদ্মিনী –
নারীরা অসম্ভব সুন্দর এবং আকর্ষনীয় হয়ে থাকে । এঁদের চোখ হয় পদ্মের মতো। মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকে। কোঁকড়ানো চুল। এঁরা মিষ্টি ভাষিণী হন। সাধারণত এঁরা সত্যি কথা বলতে পছন্দ করেন। অতি যৌনতা এঁদের একদম পছন্দ নয়। বরং ঘুম এঁদের ভীষণ প্রিয়। রমণীকুলে এঁরা সর্বোত্তম।

চিত্রিনী –
নারীরা হন বেশ একটু ধীর স্থির প্রকৃতির। হাসি ওদের মুখে লেগেই থাকে। এরা আহার এবং নিদ্রায় বেশ সংযত। পর পুরুষের প্রতি এদের কোন আকর্ষন থাকেনা।

শঙ্খিনী –
এই ধরনের রমণী হন দীর্ঘ শরীরের অধিকারী। এঁদের চোখ, কান, নাক ও হাত-পা খুব বড় হয়। এঁরা একটু চঞ্চল প্রকৃতির হন। শঙ্খিনী নারীরা হন মধ্যম প্রকৃতির।

হস্তিনী –
নারীরা জোরে কথা বলেন এবং এদের শরীর হয় স্থুলকায়। এরা প্রচুর খেতে ও ঘুমোতে পছন্দ করেন। এদের ধর্মে-কর্মে বিশ্বাস কম। এদের কেউ কেউ পরকিয়ার আশক্ত এবং অতিশয় কামুক প্রকৃতির হয়ে থাকে।

আমি খুব মনযোগ দিয়ে দাদার কথা শুন ছিলাম। এরমধ্যে হঠাৎ প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম –

: দাদা পরকিয়া কি?

একটু চুপ থকে দাদা বললেন-

: আরো বড় হও তখন বুঝবে।

এই দূর্বোধ্য জিনিস ইহ জনমে আর বুঝা হল না। তবে একটা জিনিস ভালই বুঝেছি আর তা হল বাগান।

আমার বাগান প্রীতি হয়ত জন্ম নিয়েছে দাদার সাথে থেকে থেকেই।

সেই শখের ডালি বয়ে বেড়াচ্ছি আজও –

এবং এই প্রবাসে।

সাইফুল ভুঁইয়া
উইন্ডসর, কানাডা।

- Advertisement -

Read More

Recent