শুক্রবার - জুন ২১ - ২০২৪

বেড়ালকন্যা মিমি বলছি

বেড়ালকন্যা মিমি বলছি

আমি একটা পথের বেড়াল, ছোট্ট কন্যাশিশু
বড্ড গরিব, এই জীবনে প্রধান দু’টি ইস্যু–
একটু খাবার আর আশ্রয়, কোথায় গেলে পাই?
পথের বেড়াল যারা তাদের কষ্টের শেষ নাই।
অনাদরে অনাহারে কাটে যে রাত দিন–
এই যে হ্যালো–আয়েম হাংরি! আমায় খেতে দিন!
(বেঁচে থাকতে খুব প্রয়োজন খাদ্য এবং পানি
পথের বেড়াল পথের কুকুর খুব অসহায় প্রাণি,
এর দরোজায় ওর জানালায় করুণ চোখে চায়–
কোথাও যদি একটুখানি খাবার পাওয়া যায়!)
আমি একটা পথের বেড়াল মনে সদাই ভয়
ঝড়-বৃষ্টি-রোদে আমার নেই কোনো আশ্রয়।
রাত কেটে যায় খুব সতর্ক নির্ঘুম আর ডরে
কায়োটি বা রেকুন রাতে কখন এটাক করে!
ওদের হাতে খুন হয়েছে মা-বাবা-বোন-ভাই,
কিন্তু আমি মরতে চাই না। বাঁচতে আমি চাই।
তাই নিজেকে পাহারা দেই সমস্ত রাত জেগে
আমায় এটাক করতে এলে পালাই ঝড়ের বেগে।
ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে গিয়েও আরেক বিপর্যয়
চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে হয়!
কুড়িয়ে যা পাই আধপেটা খাই কিংবা উপোস করি
অসুখ হলে চিকিৎসা নাই ধুঁকতে ধুঁকতে মরি!
পথের বেড়াল-কুকুরগুলো দুর্ভাগা হায় কী যে!
কী নিষ্ঠুর প্রাণ-প্রকৃতি-সৃষ্টিকর্তা নিজে!
এমন কোনো ক্ষমতা নাই রান্না করে খাবো
ডলার-পাউন্ড কিচ্ছুটি নাই খাবার কিনতে যাবো!
মানুষ ছাড়া কার কাছে যাই? মানুষ খাবার দিলে
এই দুনিয়ায় বাঁচতে পারি আমরা সবাই মিলে…
(খাবার চাইতে গেলেই আমায় মারতে তোমার হবে!!)
ওহে মানুষ রহম করো, রহম করো সবে…।
আমিও জেনো প্রাণ-প্রকৃতির অংশ ওতপ্রোত
এই পৃথিবী তোমার যেমন তেমনি আমারও তো!
০২
আমেরিকায় জন্ম আমার নিবাস হিউস্টনে
একটু খাবার আর আশ্রয় খুঁজি জনে জনে।
দিবানিশি এই বাড়িতে ওই বাড়িতে যাই
করুণ চোখের চাহনীতে একটু খাবার চাই!
কেউ কেউ দেয় কেউ বা মারে পিঠে-পায়ে-হাতে
কোনোমতে পালিয়ে আসি ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে।
হিউস্টনের এক বাড়িতে ফূর্তি নিরবধি
ওই বাড়িতে ডেভিড থাকে আর থাকে যে নদী।
নদী আমায় আদর করে খাবার খেতে দেয়
খুব দয়ালু, মাঝে মধ্যে আমায় কোলে নেয়।
ওই বাড়িতে দুটো বেড়াল কিটক্যাট ক্যাটবেরি
আমায় বরণ করতে নদীর হয়নি বেশি দেরি।
আমার মতোন ভাগ্যবতী কজন বলো হয়?
হিউস্টনের ওই বাড়িতে জুটেছে আশ্রয়!
মায়ের আদর বাবার স্নেহ পেলাম মুঠো মুঠো
কিন্তু তাতে ভাগ বসাচ্ছে বেড়াল ছানা দুটো!
জেলাসিতে কাতর হলাম মানতে চায় না মন
ঐ দুটোকে আক্রমণের চেষ্টা সারাক্ষণ!
যখন তখন ঝাঁপিয়ে পড়ি ঢিঁটিং ঢিঁটিং ঢিঁটো
নিজ বাড়িতে সন্ত্রস্ত ক্যাটবেরি আর কিটো!
আমার অমন গুন্ডামিতে বাচ্চা দু’টি ভীত
বেদনার্ত ডেভিড-নদী চিন্তিত বিস্মিত…
হিউস্টনের ওই বাড়িটা আমার টেরিটরি
অন্য বেড়াল ঠাঁই পাবে না, নেভার! আয়েম সরি!
নদী আমায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে? না না,
অটোয়াতে থাকে আমার নানু এবং নানা।
সেখানটাতে পাঠিয়ে দিলেই আমার ভালো হবে
সেই বাড়িতে একলা বেড়াল থাকবো আমি তবে।
হিংসা করে দণ্ড পেলাম, নির্বাসনের রায়–
হিউস্টনের বেড়াল মিমি অটোয়াতে যায়…
০৩
আমেরিকার হিউস্টনের জীবনপর্ব শেষে
নদী আমায় নিয়ে এলো নতুন একটা দেশে।
আমি ছিলাম ডেভিড-নদীর খুব আদরের মেয়ে
নদী আমায় রেখে গেলো অনেক কষ্ট পেয়ে…
নতুন নিবাস পেলাম আমি প্রচুর খাদ্য-পানি
আর কি পেলাম? সার্বক্ষণিক আদর-নানা-নানি!
নদীর ছিলো বিশাল বাড়ির অনেকগুলো রুম
যে রুমগুলোয় আনলিমিটেড হুল্লোড়-ফান-ঘুম…
আর অসংখ্য খেলনাপাতির যোগান দামি দামি!
(কপালে যা সয়নি আমার, অভাগিনী আমি)…
অট্টালিকায় ঠাঁই হয়নি তাতে কী যায় আসে?
এরাও আমায় ডেভিড-নদীর মতোই ভালোবাসে।
নানা-নানির এপার্টমেন্টে মাত্র তিনটা ঘর
তিনটা ঘরে তিনটা প্রাণি জড়িয়ে পরস্পর।
দুজন মানুষ একটা বেড়াল সংসারে তিনজনা
কেমন মজা বল দেখি ভাই ভাব দেখি রে মনা…
এরা একটু গরিব বটে কী আসে যায় তাতে?
লাইফ রিয়েলি বিউটিফুল! আছি দুধে-ভাতে!
এই বাড়িতে নানু নানার সোহাগ মাখামাখি
আনলিমিটেড আদর-স্নেহে টইটম্বুর থাকি।
‘বাঁশ বাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে অই’
রাতে আমার ঘুম আসে না একলা জেগে রই!
রাতের বেলায় খুব গোপনে নদীর জন্যে কাঁদি…
ফের আমাদের দেখা হবে আশাতে বুক বাঁধি।
স্বপ্নে আমি মাঝে মধ্যেই মার কোলে দেই হামা…
(তোর আদরের মেয়েটাকে দেখতে আসবি না, মা?!)

- Advertisement -

Read More

Recent