রবিবার - জুলাই ১৪ - ২০২৪

এডিনবার্গ থেকে ভেনিস – ২

এডিনবার্গ থেকে ভেনিস ২

Gulf Air-এ ঢাকা থেকে বাহরাইন হয়ে লন্ডন যাত্রা। জীবনে অনেকবার বিমান ভ্রমণ করেছি, কিন্তু এই প্রথম বিজনেস ক্লাসে বিমান ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ এত আরামদায়ক যে লম্বা বিমান ভ্রমণেও কোনো ক্লান্তি লাগেনি। ঢাকা থেকে বাহরাইন যখন পৌঁছেছি তখন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা। ২ ঘণ্টার ট্রানজিট।

বাহরাইনে পৌঁছে ক্র্যাডিট কার্ডের বদলৌতে বিনা মূল্যে ভিআইপি লাউঞ্জে নাস্তা করলাম। ঠিক তখন সুইডেন থেকে ফোন করলো জাহাঙ্গির ভাইয়ের মেয়ে মাহজাবিন মিতুল। লন্ডন ভ্রমণ শেষে সু্ইডেনে তার বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালো এবং ভ্রমণে আমাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ-খবর নিল, যদিও আমার সুইডেন যাওয়ার খবর শুনে আগে থেকেই সে দাওয়াত দিয়ে রেখেছিল।

- Advertisement -

বাহরাইন থেকে আবার যখন লন্ডন যাত্রা শুরু করলাম স্থানীয় সময় তখন সকাল ১০টা। প্রায় ৭ ঘণ্টা বিমান ভ্রমেণের পর যখন লন্ডনের হিথ্রু এয়ারপোর্টে অবতরণ করলাম তখন স্থানীয় সময় বেলা ১টা। বিমান থেকে নেমে প্রথম ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। এখানে এক এলাহি কাণ্ড! আমাদের সামনে কয়েক হাজার যাত্রির লাইন। যাত্রীদের অধিংকাশই ভারতীয় স্টুডেন্ট, যারা স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডনে আসছে। Rishi Sunak ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আধিক্য বাড়ছে।

এ ছাড়া আরও একটা বিষয় চোখে পড়লো, সেটা হলো এয়ারপোর্টোর ইমিগ্রেশেন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে কয়েকটি দেশের পতাকাসহ লেখা রয়েছে ‘এই দেশগুলোর নাগরিকদের কোনো লাইনে দাঁড়াত হবে না’। এদের মধ্যে কোনো কোনো দেশের ইংল্যান্ডে প্রবেশের কোনো ভিসা লাগবে না আর কোনো কোনো দেশের ভিসা লাগলেও অনএরাইভেল ভিসা নিলেই হবে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিংগাপুর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। যাক, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর আমি আর সজল ভাই একসাথে ইমিগ্রেশন অফিসারের মুখোমুখী হলাম। কেন লন্ডন এসেছি, গতবার কেন ভিসা পেয়েও লন্ডন আসিনি। আমাদের সিম্পল উত্তর- বইমেলায় এসেছি, গতবার ভিসা পেয়েছিলাম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর। অফিসার আমাদের সাথে চমৎকার আচরণ করেছেন এবং আমাদেরকে স্বাগতম জানিয়ে পাসপোর্ট ফেরৎ দিলেন।

আমরা আনন্দের সহিত টার্মিনাল থেকে বের হলাম, বের হয়ে একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকলাম যে বিলেতিরা আমাদের উপমহাদেশ প্রায় দুই’শ বছর শাসন করেছে, আজ আমি নিজে প্রথমবারের মত সে বিলেতের মাটিতে পা রাখলাম। একসময় প্রায় অর্ধ বিশ্ব এই ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যখন উবার নিলাম তখন বিকেল ৫টা। লন্ডনের আকাশে তখনও সুর্য জলমল করছে, সুর্য অস্ত যাওয়ার সময় প্রায় আটটা নাগাদ।

উবারের চালক একজন পাকিস্তানী, তিনি ৩৬ বছর যাবৎ লন্ডনে আছেন, এখন পরিবার নিয়ে থাকেন, পাকিস্তানে তেমন যাওয়া হয় না। আমরা বাংলাদেশী জেনে তিনি বেশ আগ্রহী হলেন আর হোটেলে যেতে যেতে লন্ডন শহরের কিছু পরিচয় আমাদের সামনে তুলে ধরলেন। প্রায় ২০ মিনিট পর আমাদের জন্য ঢাকা থেকে বুকিংকৃত (Eurotraveller Hotel- Premier, Northholt Road, Harrow, London) হোটেলে পৌঁছলাম। রাতে হোটেলে অবস্থান করে পরদিন স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে দু্ইদিনের জন্য লন্ডন ছাড়লাম। (চলবে)

- Advertisement -

Read More

Recent