ইইউভুক্ত কিছু দেশে পার্সেল ডেলিভারি বন্ধ করছে কানাডা পোস্ট

Side view of a white Canada Post delivery van with red and blue stripes and logo, parked in a parking lot.
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইইউ নতুন কাস্টমস নীতি কার্যকর হওয়ার পর কম মূল্যের আন্তর্জাতিক পার্সেল পাঠানো নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা পোস্ট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন কাস্টমস নীতি কার্যকর হওয়ার পর কম মূল্যের আন্তর্জাতিক পার্সেল পাঠানো নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা পোস্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ব্যবস্থার কারণে আপাতত ইউরোপের একাধিক দেশে পার্সেল ডেলিভারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে কানাডা থেকে ওই দেশগুলোতে পার্সেল পাঠাতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কানাডা পোস্ট তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মোট ১২টি ইউরোপীয় দেশে পার্সেল গ্রহণ ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই দেশগুলো হলো অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল এবং স্পেন।

এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কাস্টমস শুল্ক নীতি। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে আমদানি হওয়া সর্বোচ্চ ১৫০ ইউরো মূল্যের প্রতিটি পার্সেলের ওপর ৩ ইউরো কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগে কম মূল্যের অনেক চালান তুলনামূলক সহজ প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশ করতে পারত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি আইটেম আলাদাভাবে কাস্টমস শ্রেণিকরণের আওতায় আসবে এবং সেই অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, একটি চালানে কতগুলো পণ্য রয়েছে তার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিটি পণ্যের শ্রেণিকরণ অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হবে।

- Advertisement -

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই অনেক আন্তর্জাতিক বিক্রেতা কাস্টমস শুল্ক এড়ানোর জন্য পার্সেলের প্রকৃত মূল্য কম দেখানো, ভুল তথ্য প্রদান কিংবা পণ্যের ভিন্ন শ্রেণিকরণ ব্যবহার করার মতো অনিয়ম করে আসছিল। এছাড়া ইইউ মনে করছে, বিদ্যমান নিয়মের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অনেক বিক্রেতা অন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাচ্ছিল। কারণ ইউরোপের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তুলনায় তারা তুলনামূলক কম খরচে পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছিল। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, নতুন এই নীতির মাধ্যমে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও ন্যায্য পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, নতুন কাস্টমস ব্যবস্থা কেবল অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়; বরং এর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে চায় তারা। এর মধ্যে রয়েছে : ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা। ভোক্তাদের নিম্নমানের বা অনিরাপদ পণ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কাস্টমস জালিয়াতি ও ভুল ঘোষণা বন্ধ করা। বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক চালানের কারণে পরিবেশের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা কমানো। ইইউর মতে, অনলাইন কেনাকাটার ব্যাপক বিস্তারের ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক কম মূল্যের পার্সেল ইউরোপে প্রবেশ করছে। এর ফলে কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহনজনিত কার্বন নিঃসরণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নীতি এই সমস্যাগুলো মোকাবিলার একটি অংশ।

কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, যেসব দেশে নতুন কাস্টমস প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে সাময়িকভাবে পার্সেল পাঠানো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় সেবা চালুর বিষয়ে জানানো হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশে সেবা বন্ধ হয়নি। পোল্যান্ড, লাটভিয়া ও সুইডেনসহ কয়েকটি দেশে আগের মতোই পার্সেল গ্রহণ ও সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তিগত উপহার, অনলাইন কেনাকাটা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক পণ্য রপ্তানিতে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কানাডা থেকে ইউরোপের এসব দেশে পণ্য পাঠান, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ই-কমার্স খাতের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ নতুন কাস্টমস নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদেশি বিক্রেতাদের অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ মূলত বৈশ্বিক ই-কমার্স বাজারে সমতা প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনসহ বিভিন্ন দেশের অনলাইন বিক্রেতারা কম মূল্যের চালানের মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করা বা ভুল ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নতুন শুল্ক নীতির মাধ্যমে ইইউ একদিকে যেমন রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে চাইছে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়ারও চেষ্টা করছে। তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব আন্তর্জাতিক ডাক ও কুরিয়ার সেবায় পড়তে শুরু করেছে, যার অন্যতম উদাহরণ কানাডা পোস্টের এই সাময়িক সেবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত।

আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিয়মের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থগিত থাকা সেবাগুলোও পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ইউরোপে পণ্য পাঠানো ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের নতুন কাস্টমস নীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক ব্যবস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করেই চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করতে হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent