
বাহিরে কনকনে ঠান্ডা। তাপমাত্রা মাইনাস টুয়েন্টি সেভেন। অনুভুত হচ্ছে মাইনাস থার্টি টু। রাতে আরো তীব্র ঠান্ডা পরবে। এমনটি বলেছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। রাত এগারোটার পর তাপমাত্রা হবে মাইনাস থার্টি সেভেন। তখন অনুভুত হবে মাইনাস ফোর্টি থেকে ফোর্টি টু। নিউজে দেখলাম কুইবেক আবহাওয়া অধিদপ্তর কোল্ড ওয়ার্নিং দিয়েছে।
এরকম আবহাওয়ার মাঝে অনেকদিন পর সন্ধ্যায় ডিলিগিজ গিয়েছিলাম বন্ধু তামান্নার বাসায়। তামান্না, প্রীতেশ, দ্যুতিসহ স্প্রেড টার্ম বা কলব্রিজ খেলতে খেলতে রাত দশটা বেজে যাওয়ায় মনে হলো এক্ষুনি বাসায় ফেরা উচিৎ। দেরী হলেই তাপমাত্রা আরো খারাপের দিকে যাবে। তখন বাসায় ফেরাটা কঠিন হবে!
কি আর করা, অনিচ্ছাসত্ত্বেও খেলায় রণেভঙ্গ দিতে হলো। খেলার ফলাফল?
অবধারিতভাবে আমি প্রথম হয়েছি।
এতো গেল আবহাওয়া, খেলা ও আড্ডার কথা। খাবারের কথা বাদ যাবে কেন?
হুম ।
তামান্নার বাসা হতে না খেয়ে কখনো আসা হয়নি। বরাবরের মতন আজও তামান্নার সুস্বাদু,উপাদেয় খাবার উদরপূর্তি করতে হলো। গরম ভাতের সাথে প্রিয় পাবদা ভুনা, ঝাল ঝোলে রুইমাছ ভুনা ও মাখো মাখো ঝোলে বেগুন, আলুর সাথে চিংড়ি।
সন্ধ্যায় অবশ্য দ্যুতি ও প্রীতেশ সেলিব্রেট করলো তাদের Ielts এর অভাবনীয় রেজাল্টের জন্য। দ্যুতি কেএফসি থেকে অনলাইনে অর্ডার করে খাবার আনালো চিকেন উইংস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। সাথে তামান্নার গরম চা-তো ছিলোই।
অসাধারণ একটি সন্ধ্যা কাটিয়ে যখন বের হই তখন তাপমাত্রা মাইনাস টুয়েন্টি এইট। তিন লেয়ারের পোষাকেও তীব্র ঠান্ডায় কাঁপছি। মুখাবয়বের অনাবৃত অংশ মুহুর্তেই ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে।
কি একটা ভয়ংকর অবস্থা!
মন্ট্রিয়ল, কানাডা


