ব্লু লাইসেন্স প্লেট সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে ফোর্ড সরকার

Ontario blue license plate with white letters 'CMFEO', trillium logo, and slogan 'A PLACE TO GROW'; right side partially obscured by a white cover.
ঘটনার সূত্রপাত তথ্য অধিকার আইনের আওতায় দাখিল করা এক আবেদনের মাধ্যমে

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে বহু বিতর্কিত ‘ব্লু লাইসেন্স প্লেট’ প্রকল্প ঘিরে সরকারি নথি প্রকাশের প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হলো প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের সরকার। দীর্ঘদিন ধরে তথ্য প্রকাশ রুখতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পর এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, তথ্য গোপন রাখা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে প্রদেশজুড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত তথ্য অধিকার আইনের আওতায় দাখিল করা এক আবেদনের মাধ্যমে। দি কানাডিয়ান প্রেস ব্লু লাইসেন্স প্লেট প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি নথি প্রকাশের দাবি জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে অন্টারিওর তথ্য ও গোপনীয়তা কমিশন (আইপিসি) সরকারকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় ফোর্ড সরকার। সরকারের আইনজীবীরা বিচার বিভাগীয় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন এবং কমিশনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানান।

- Advertisement -

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় আসে। প্রিমিয়ারের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার এখন আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আদালতে করা আবেদন প্রত্যাহার করতে চায়। অর্থাৎ, ব্লু লাইসেন্স প্লেট সংক্রান্ত নথি প্রকাশে আর আইনি বাধা তৈরি করবে না সরকার।

যদিও এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফোর্ডের কার্যালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই অভ্যন্তরীণভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এমনকি সোমবার আইনসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বেও বিষয়টি এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী স্টিফেন ক্রফোর্ড। বিরোধীদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের দাবি, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা দেখিয়ে আসছে। বিশেষ করে পাবলিক অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্টিফেন ক্রফোর্ড সম্প্রতি ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আইনে এমন কিছু পরিবর্তন এনেছেন, যা প্রিমিয়ার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তাদের কর্মীদের সরকারি নথি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখতে সাহায্য করবে।

এই পরিবর্তন প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্ত, ব্যয় এবং নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্য জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার সংকুচিত হলে জবাবদিহিতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ দাবি করেছে, ব্লু লাইসেন্স প্লেট সংক্রান্ত নথিগুলো নতুন আইনি পরিবর্তনের আওতায় পড়া উচিত নয়। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশ আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা তারা এখন আর দেখছে না। ফলে আইপিসির নির্দেশ মেনে সরকার নথি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ব্লু লাইসেন্স প্লেট প্রকল্পটি শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল। অন্টারিও সরকার নতুন নকশার নীল রঙের লাইসেন্স প্লেট চালু করলেও রাতের অন্ধকারে সেগুলো স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ, পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ নাগরিকদের সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সরকারকে সেই প্লেট প্রত্যাহার করতে হয়। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নথিগুলো প্রকাশ পেলে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার মাত্রা কতটা ছিল তা স্পষ্ট হতে পারে। সেই কারণেই শুরুতে সরকার এতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ফোর্ড সরকারের অবস্থান পরিবর্তনকে অনেকে রাজনৈতিক চাপের ফল হিসেবেও দেখছেন। বিরোধী দল, গণমাধ্যম এবং স্বচ্ছতা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর ক্রমাগত সমালোচনার মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত নরম অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

এখন নজর থাকবে, সরকার কবে এবং কতটা তথ্য প্রকাশ করে। কারণ শুধু নথি প্রকাশ করাই নয়, সেই নথিতে কী ধরনের তথ্য উঠে আসে, সেটিই আগামী দিনে অন্টারিওর রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent