পিয়ারসন বিমানবন্দরে লোকজন হাম আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন

Blue Toronto Pearson tent at an outdoor event with people, a colorful wheel, and tall buildings in the background.
কানাডার ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দর এবং সেখান থেকে পরিচালিত দুটি ফ্লাইটে যাতায়াতকারী শত শত যাত্রী হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে থাকতে পারেন বলে সতর্ক করেছে পিল জনস্বাস্থ্য বিভাগ

কানাডার ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দর এবং সেখান থেকে পরিচালিত দুটি ফ্লাইটে যাতায়াতকারী শত শত যাত্রী হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে থাকতে পারেন বলে সতর্ক করেছে পিল জনস্বাস্থ্য বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৩ জুন এক হামে আক্রান্ত ব্যক্তি বিমানবন্দর এবং দুটি নির্দিষ্ট ফ্লাইটে অবস্থান করায় ওই সময় সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রথম ফ্লাইটটি হলো ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ইটি৫৫২, যা ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দ্বিতীয় ফ্লাইটটি হলো এয়ার কানাডার এসি৪১০, যা একই দিন পিয়ারসন বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ থেকে মন্ট্রিয়ালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, ১৩ জুন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট অংশে অথবা এই দুটি ফ্লাইটে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা হামে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। হামের ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সে কারণে সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পিল জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যারা ওই সময় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তও চলছে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ জনগণকে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যাদের মনে হচ্ছে তারা ওই সময় বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে ছিলেন, তাদের নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে যে তারা হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় টিকা নিয়েছেন কি না। কেউ যদি নিজের টিকাদান ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তাহলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৯৭০ সালের পরে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য সাধারণত হামের বিরুদ্ধে দুই ডোজ এমএমআর ভ্যাকসিন গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, ১৯৭০ সালের আগে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই হামের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে বলে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

পিল জনস্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, সংক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিজের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ইউনিটের পরামর্শও নিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে যাদের মনে হচ্ছে তারা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন, তাদের কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ হামের ভাইরাস অত্যন্ত সহজে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শিশু, গর্ভবতী নারী ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কারও অতিরিক্ত তথ্য বা পরামর্শ প্রয়োজন হলে তারা ৯০৫-৭৯৯-৭৭০০ অথবা ১-৮৮৮-৯১৯-৭৮০০ নম্বরে পিল জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষায়, সময়মতো সতর্কতা ও টিকাদানই হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

- Advertisement -

Read More

Recent