
আমাদের মুসলিমদের কাছে ঈদের চাঁদ দেখা একটা আনন্দের এবং একই সাথে বিষাদের ব্যাপার।
ঈদ এমনিতেই উৎসব আর আনন্দের হয়ে থাকে।
আর বিষাদ রমজান মাসের বিদায় উপলক্ষে। এত রহমত আর বরকতময় মাস জীবনে আরেকটা পাব কিনা, সেই অনিশ্চয়তা থেকেই বিষাদ। অন্যান্য মাসে একটি ভাল কাজের বিনিময়ে দশগুন সওয়াব পাওয়া যায়, রমজানে সেটা সত্তুর থেকে সাতশোগুন হয়ে থাকে। আর রোজা যেহেতু কেবলই আল্লাহর জন্য, কাজেই রোজার সওয়াব “ইনফিনিটি” বা অসীম – আর আল্লাহর কাছে “অসীম” মানে আমাদের মানুষের কল্পনার অসীমেরও অসীম। এই বিপুল পরিমান বোনাস আবার পাওয়ার কোন সুযোগ হবে?
গত বছরের ঈদে আমরা পরিবারের সবাই ছিলাম, এই ঈদেও থাকার কথা ছিল। আমার শ্বশুর রমজান মাসের দশ তারিখে আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। ক্যান্সার জয় করে দিব্যি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সব শেষ। বা গাজার ভাইবোনদের কথা চিন্তা করেন, সেহরি খেতে উঠেছেন, সন্ত্রাসী নেতানিয়াহু রকেট মেরে চারশোর উপর মানুষকে মেরে ফেলল। গোটা দুনিয়া নিশ্চুপ। অস্ত্রের সামনে সুশীল মানুষ আজীবন মাথা নত করেছে। গত সত্তুর বছর ধরেও করে আসছে।
বা অতি সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ভূমিকম্প, সাতশো কোটি টাকার টাওয়ার মুহূর্তেই ধুলাবালির আস্তরে পরিণত হলো। শয়ে শয়ে মানুষ নিহত।
আমাদের জীবনটা এতটাই অনিশ্চিত।
সেদিক বিবেচনা করলে একটা রমজান পাওয়া, একটা ঈদ পাওয়া, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারার জন্য আজীবন সিজদায় কাটিয়ে দিলেও যথেষ্ট না।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া জীবনে আমাদের সেই সুযোগ দেয়ার জন্য। যে সুযোগটা একেবারেই কাজে লাগাতে পারিনাই। তাঁর কাছে প্রার্থনা ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে তাঁর রহমতের দরজা যেন খুলে দেন। তাঁর পাপী নিঃস্ব বান্দা হওয়ার পরেও আমাদের জীবনে তিনি যেন পাপ মোচনের আরও সুযোগ দেন। তিনি যদি আমাদের মাফ না করেন, আমাদের উদ্ধারকারী কেউ নাই।
কেউ নাই।
বিদায় মাহে রমজান। “আল্লাহুম্মা বাল্লেগনা রামাদান!” “হে আল্লাহ, আমাদের আগামী রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
