আমাদের ডলি বেগম

কানাডায় বাংলাদেশের অভিবাসীদের বসবাস খুব কি বেশী দিনের না তা নয় বড়জোর পঞ্চাশ বছর

কানাডায় বাংলাদেশের অভিবাসীদের বসবাস খুব কি বেশী দিনের! না, তা নয়। বড়জোর পঞ্চাশ বছর। কিন্তু, গত তিন দশকে কানাডার বিভিন্ন বড় শহরে বাংলাদেশের অভিবাসীদের শুধু এক একটি সমাজই গড়ে উঠছে না, বরং কানাডার বহুজাতিক, ধার্মিক ও সাংস্কৃতিক তরঙ্গে নিজেদের মূল প্রবহমানতাকেও গতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছেন৷ এমনকি নিজেদের কথা বলার জন্য প্রাদেশিক সংসদে অংশীদারত্বের আসনও নিশ্চিত করেছেন৷

বাংলাদেশের বাইরে অন্যান্য দেশের কথা জানি না, অন্তত কানাডায়, আরো নির্দিষ্ট করে বললে টরন্টোয় বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সুখদুঃখ, বাংলাদেশের জয় পরাজয়ে একাট্টা হয়ে কাজ করার দুর্বিনীত আবেগ বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। দলমত, ধর্মবর্ণ ভুলে তখন সবাই একটি লক্ষ্যের সাফল্যগন্তব্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যেন সকল উৎসের স্রোতধারা এসে এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। দূরের মানুষকে কাছে নিয়ে এসেছে। ভিন্ন দলের আদর্শের দেয়াল টপকে উঠেছে। মতের পরিচয়বাহী হয়ে ওঠেছে একটি রঙের নিশান। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে ওঠেছে সমস্বরের শ্লোগানে!

- Advertisement -

২.

২০১৮ সালের কানাডার বসন্ত অন্যরকম ছিল। সমগ্র কানাডার বৃক্ষলতায় স্নিগ্ধ সবুজের সমারোহে পল্লবিত। প্রকৃতির এই অবারিত সবুজের আবাহনের সঙ্গে টরন্টোয় বাংলাদেশের কমিউনিটির মানুষের চোখের পাতায় রোপিত হয়েছিল এক সম্মিলিত আবেগের আত্মবিশ্বাসী লক্ষ্যজয়ের বীজ। অব্যর্থ ফলনের সোনালি স্বপ্নের সেই রোপিত বীজের সেচকার্যের নিরানিতে এক কাতারে মাঠে নেমেছিলেন কমিউনিটির সবাই। এই প্রথম কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সমবেতভাবে শ্লোগানে শ্লোগানে ধ্বনি প্রতিধ্বনিত করে সবার কানে অনুরণিত হতে পাগলো একটি নাম : ডলি, ডলি, ডলি!

৩.

ডলি, ডলি, ডলি, মানে ডলি বেগম। ২০১৮ সালের ৭জুন থেকে ডলি বেগম হয়ে উঠলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির অহংকার। কানাডার ওন্টারিও প্রাদেশিক সংসদে জনগণের ভোটের সিদ্ধান্তে গর্বিত সদস্য। বয়সে তরুণ, স্বপ্নে বিভোর, কর্মে চঞ্চল, সিদ্ধান্তে ধীরস্থির, বিশ্বাসে দৃঢ়, ব্যবহারে মমতাময়ী, সম্মানে শ্রদ্ধাশীল, বর্ণনায় পূঙ্খানুপুঙ্খ, নজরে পর্যবেক্ষণশীল ডলি বেগমই ক্রমে ক্রমে কমিউনিটির আস্থার মানুষে পরিণত হলেন৷ কমিউনিটির সমগ্রের আস্থা, স্নেহ, ভরসা, ভালোবাসা, ভরসাকে মূল্যায়ন করতে নিজেকে সঁপে দিলেন কাজে, সংকল্পে ও সম্মিলিতের হাসি আনন্দে নিজেকে জড়িয়ে রেখে। ডলি বেগমের এই যাত্রাপথে সহযোদ্ধা হয়ে তার কাঁধে হাত রাখলেন ব্যারিস্টার রিজুয়ান রহমান। রিজুয়ানের জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নের স্রোত এসে মিলিত হলো ডলি বেগমের স্বপ্নের প্রবাহের সঙ্গে। ‘মানবসেবা’ নামের মহাসাগরের দিকে ধাবমান দুটি স্রোতের সম্মিলিত প্রবাহ আরো বেগবান হয়ে উঠলো ডলি বেগমের সাফল্যের প্রথম ধাপের বিজয়ে। রিজুয়ান রহমানের কমিউনিটির সেবা অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক ও মানবিক বোধ, দেশপ্রেম, ইতিবাচক জীবনাচরণ ইত্যাদি সবই দারুণভাবে প্রভাবিত করলো ডলি বেগমকে।

৪.

ডলি বেগম তার নিজের স্বপ্ন আর পরিকল্পনার সঙ্গে রিজুয়ান রহমানের ভালোবাসাময় স্বপ্নের যুগল ভাবনার সমন্বিতরূপকে যথাসম্ভব প্রয়োগের সুযোগ পেলেন কমিউনিটির মানুষের ভোটের সিদ্ধান্তে বিজয়ী হয়ে। কমিউনিটির শুধু নয়, এমনকি ডলি হয়ে ওঠলেন তার দলের নীতিনির্ধারকদের আস্থা ও ভরসার মানুষে। প্রাদেশিক সংসদে ডলির বক্তব্য ও ভাবনা শুধু নিজ দলেরই নয়, বরং তা সকলের আশার বাণীরূপে প্রতিভাত হয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলো। তরুণ বয়সেও ডলি বেগমের চিন্তা ও এর বিস্তার আজ সকল মানুষের জন্য এক ভরসাস্থল। যতই ডলি বেগমের কথা শুনি, মনে হয় আরো বড় সাফল্য তার জন্য অপেক্ষমাণ। আরো বড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ডলি নিজেকে ক্রমশ প্রস্তুত করে নিচ্ছেন।

কী সেই দায়িত্ব, কোন সে সাফল্য, ভবিষ্যৎ তা নির্ধারণ করবে। ডলি বেগমের জন্য আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent