
গত শুক্রবার ও শনিবার (জুলাই ১৯ ও ২০) টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র গেরার্ড স্ট্রিট ইস্টে আয়োজিত হলো ২৩তম “টিডি ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া” যেখানে দুই দিনব্যাপী উৎসবজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, নানা দেশের স্বাদ ও সুর, আর হাজারো দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বলিউড সঙ্গীত থেকে শুরু করে দেশি ফিউশন, শ্রুতি ও লোকসংগীত, ভঙ্গড়া, পাঞ্জাবি নাচসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু আঞ্চলিক শিল্পধারার চমৎকার উপস্থাপনা। প্রধান ও পার্শ্ব মঞ্চে পারফর্ম করেন ২০০ জনেরও বেশি শিল্পী, যা প্রতিটি দর্শকের মন জয় করে নেয়।
খাবার ও হস্তশিল্পের স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এইসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও শিল্পকর্ম তুলে ধরা হয় স্টলগুলোতে, যা কানাডার দর্শকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
উৎসবে শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, ছিল শিশু ও তরুণদের জন্য বিশেষ আয়োজন যেমন ক্রিকেট খেলা, ওয়ার্কশপ ও শিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগও ছিল।
যদিও আয়োজকরা নির্দিষ্ট দর্শকসংখ্যা জানাননি, তবে পূর্ববর্তী বছরের মতো এবারও প্রায় ২ লাখ দর্শক অংশগ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় গেরার্ড ইন্ডিয়া বাজারের দোকানগুলোতেও ছিল বাড়তি জমজমাট ব্যস্ততা বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক টিডি ব্যাংক পুরো আয়োজনের পেছনে ১০০% স্পন্সর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ফেস্টিভ্যালের কো-অর্ডিনেটর জাহাবিয়া মরবিওয়ালা বলেন, “এই ধরনের উৎসব শুধুই বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”
এই দুই দিনের আয়োজনে শুধুমাত্র সঙ্গীত, নাচ বা খাবারের প্রদর্শনীই নয় উঠে এসেছে টরন্টোর বহুবর্ণ সাংস্কৃতিক ঐক্যের দৃঢ় ছবি। নানা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন গড়তে এই উৎসব এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ফেস্টিভ্যাল আয়োজকরা আশাবাদী, আগামী বছর এ আয়োজন আরও বিস্তৃত ও রঙিন রূপে ফিরে আসবে, এবং টরন্টোর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
