
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট ঘিরে রাজনৈতিক, ভিসা ও পরিবেশগত নানা ইস্যু প্রশ্ন তুলেছে পুরো আয়োজনের সফলতা নিয়ে। তবে এই অনিশ্চয়তার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে কানাডা, সম্ভাব্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং লাভবান আয়োজক দেশ হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক পালাবদল, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিরে আসার জোর আলোচনা দর্শক, খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতকে জটিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে দর্শকদের একটা বড় অংশ হয়তো বিকল্প হিসেবে কানাডাকে বেছে নিতে পারেন যেখানে প্রবেশ অপেক্ষাকৃত সহজ, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ।
কানাডা সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত ৩.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি সৃষ্টি হবে হাজার হাজার সাময়িক কর্মসংস্থান। টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার এবং মন্ট্রিয়াল শহর ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে খেলা আয়োজনের জন্য। এমনকি খেলা সরাসরি না হলেও, অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার আগে বা পরে কানাডায় যাত্রা করতে পারেন, যা দেশের পর্যটন খাতে বাড়তি সাড়া জোগাতে পারে।
এদিকে, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য কার্বন নিঃসরণ নিয়ে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আসর থেকে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন টন কার্বন নির্গত হতে পারে, যার ৮৫ শতাংশই আসবে যাতায়াতজনিত কার্যকলাপ থেকে। একাধিক দেশে খেলা ছড়িয়ে পড়ায় ভ্রমণের পরিমাণ বাড়ছে, যা পরিবেশের ওপর বড় চাপ ফেলবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরের আবহাওয়া নিয়েও চিন্তিত চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুন-জুলাই মাসের প্রচণ্ড গরমে ডালাস, হিউস্টন, আটলান্টা এবং কানসাস সিটির মতো শহরগুলোতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আর কেবল একটি ক্রীড়ানুষ্ঠান নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক জটিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যু। তবে সেই চ্যালেঞ্জের মাঝেই কানাডা যেন দেখতে পাচ্ছে একটি বড় সুযোগ আর্থিক লাভ, বৈশ্বিক পর্যটন বৃদ্ধি এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক দেশ হিসেবে তুলে ধরার এক অনন্য সম্ভাবনা।
