আবাসনে ব্যয় ১.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

কানাডায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের পেছনে এ বছর ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার

কানাডায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের পেছনে এ বছর ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। ফেডারেল সরকারের সর্বশেষ বিভাগীয় বুলেটিনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও ২০২৪ সালের ফেডারেল বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১১০ কোটি ডলার, বাস্তবে ব্যয়ের অঙ্ক ছাড়িয়েছে সেই পূর্বাভাসকেও।

এই অর্থ মূলত ইন্টেরিম হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (IHAP)-এর আওতায় প্রদেশ ও শহরগুলোকে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য অভিবাসীদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং মৌলিক সুবিধার ব্যবস্থা করা।

- Advertisement -

অন্টারিও একাই পেয়েছে প্রায় ৬৪ কোটি ২ হাজার ডলার। কুইবেক পেয়েছে ৪৪ কোটি ৯ হাজার ডলার। এছাড়া ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যানিটোবা ও অন্যান্য প্রদেশেও বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইন্টেরিম হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম চালু থাকবে এবং ২০২৫ সালের বাজেটে এর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর হঠাৎ করেই কানাডায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়ে যায়। একই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেন “যেখান থেকেই অভিবাসীরা আসুক না কেন, কানাডা তাদের স্বাগত জানাবে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বার্তাটি আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

ফলে কুইবেকের রোক্সাম রোড হয়ে সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। এমনকি মার্কিন পরিবহন কোম্পানিগুলো সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ রুটে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।

বিশেষ করে টরন্টো ও মন্ট্রিয়ল এখনো এই প্রবাহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। টরন্টোর সাবেক মেয়র জন টরি ২০১৮ সালেই সতর্ক করেছিলেন শহরের সক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ভরে যাওয়ায় এখন বহু মানুষকে পার্ক, ফুটপাত কিংবা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে রাত কাটাতে হচ্ছে।

শুধু টরন্টোতেই ২০২৪ সালে নতুন করে প্রায় ৩৫ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে হয়েছে। হোটেল ভাড়া, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার খরচ লাগাতার বাড়ছে। শহর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষায় “এই ব্যয় সামলাতে সামাজিক সেবার বাজেট থেকে অন্য খাতের অর্থ সরাতে হচ্ছে, ফলে স্থানীয় করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিবাসী প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় সরকারের আর্থিক সংকট আরও গভীর হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অটোয়া জানিয়েছে, সীমান্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার জোর দিয়েছে মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে কানাডা পিছিয়ে যাবে না।

স্পষ্টতই, বিষয়টি শুধু মানবিক সহায়তার সংকট নয়, বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে কানাডার জন্য। সরকারের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ: ১) আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও মানবাধিকার রক্ষা করা। এবং ২) একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও সামাজিক অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা।

দক্ষ পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

- Advertisement -

Read More

Recent