
অন্টারিওর দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, যে প্রতিষ্ঠান প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি নাইটক্লাব চালু করা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর নামও বেতনবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে।
টরন্টো বাংলা টাউন বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বেশিরভাগই জানায় তারা নির্বাহী পর্যায়ের বেতন তহবিলের অর্থ দিয়ে নয়, বরং নিজেদের অন্যান্য উৎসের রাজস্ব থেকে পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, SDF-এর অনুদান সম্পূর্ণভাবে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, সরকারের কাছ থেকে হঠাৎ করে অঙ্কের পরিমাণে বিপুল অনুদান পাওয়ার ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে নির্বাহীদের বেতন বাড়ানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ হয়ে যায়।
কানাডিয়ান ট্যাক্সপেয়ারস ফেডারেশনের প্রতিনিধি বলেন, “সাধারণ অন্টারিওবাসী এ ধরনের বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছেন না। করদাতাদের টাকায় এভাবে নির্বাচিত কিছু কোম্পানির প্রতি সুবিধা দেওয়া এটা আসলে কর্পোরেট ওয়েলফেয়ার।” তিনি আরও বলেন, সরকারকে অবশ্যই তদন্ত করতে হবে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা ম্যানেজমেন্ট বেতন বৃদ্ধি কি সত্যিই তহবিলের অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
অন্টারিও প্রদেশে কর্মী ধরে রাখতে এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দিতে এই তহবিল গঠিত হয়েছিল। তবে বিরোধী দল এবং স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সংগঠনগুলো বলছে SDF তহবিল ন্যায্যভাবে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগ, প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের রাজনৈতিক মিত্র এবং সরকারঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোই বড় অংশ পেয়েছে।
বুধবার কুইন’স পার্কে প্রশ্নোত্তর পর্বে এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিস এই ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাতা, লবিস্ট ও বিশেষ সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “এটা একটি স্ট্রিপ ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তি। এমন সিদ্ধান্ত একটি অগণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অসীম উপহার ছাড়া কিছুই নয়।” “দুর্নীতিগ্রস্ত” শব্দটিকে অসংসদীয় বলে মন্তব্য করেন স্পিকার ডোনা স্কেলি এবং স্টাইলিসকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে স্টাইলিস প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চেম্বার থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
চেম্বার ছাড়ার সময় তার ককাসের সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান।
সরকারি পক্ষ অবশ্য জোর দিয়ে বলছে, তহবিল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে এবং এর প্রতিটি ডলারই কর্মী প্রশিক্ষণ ও শ্রমবাজার উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাহীদের বেতনবৃদ্ধির সঙ্গে তহবিলের অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে বিরোধী দল ও বিভিন্ন করদাতা সংগঠনের দাবি এই তহবিলের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কারা অযৌক্তিকভাবে লাভবান হয়েছে, এবং সরকারি অর্থ কি সত্যিকার অর্থে শ্রমিকদের জন্য ব্যয় হয়েছে এসব বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
অন্টারিওর করদাতাদের অর্থ কোথায় গেছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে। রাজনৈতিক চাপও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় সরকার এই বিতর্কে কী ধরনের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
