
গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ) জুড়ে আবাসন বাজারে মন্দা কাটেনি ২০২৫ সালের শেষ মাসেও। বার্ষিক বিচারে ডিসেম্বর মাসে বাড়ি বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থার অভাবে সম্ভাব্য ক্রেতারা বছরের অধিকাংশ সময়ের মতোই ডিসেম্বরে বাজারের বাইরে অবস্থান করেছেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
টরন্টো রিজিয়নাল রিয়েল এস্টেট বোর্ড (টিআরআরইবি) বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জিটিএ জুড়ে মোট ৩ হাজার ৬৯৭টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কম। মৌসুমি সমন্বয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে আবাসন বাজারের কার্যক্রম আরও দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
শুধু বিক্রির সংখ্যা নয়, বাড়ির দামেও পড়েছে চাপ। ডিসেম্বরে গড় বাড়ি বিক্রয়মূল্য ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৩৫ ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে কম্পোজিট বেঞ্চমার্ক মূল্যও বার্ষিক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে স্পষ্ট, ক্রেতাদের অনীহার পাশাপাশি বিক্রেতারাও মূল্য নিয়ে চাপে রয়েছেন।
তবে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ডিসেম্বরে জিটিএ জুড়ে নতুন লিস্টিংয়ের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৯টিতে। অর্থাৎ বিক্রির তুলনায় বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা ততটা জোরালো হয়নি।
ভৌগোলিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিটি অব টরন্টোতে ডিসেম্বরে ১ হাজার ৩৬৩টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ কম। অন্যদিকে জিটিএর বাকি অংশে পরিস্থিতি আরও দুর্বল এ এলাকায় বাড়ি বিক্রি কমেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, মোট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩৩৪টি।
বাড়ির ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট মন্দার চিত্র। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে টাউনহাউজ সেগমেন্ট। ডিসেম্বরে টাউনহাউজ বিক্রি এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। পাশাপাশি কন্ডো বিক্রি কমেছে ১১ দশমিক ২ শতাংশ, সেমি-ডিটাচড হোম ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ডিটাচড হোমের বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাস্তব চিত্রটি টিআরআরইবির আগের পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৫ সালে জিটিএতে বাড়ি বিক্রি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে এবং মোট ৭৬ হাজার বাড়ি হাতবদল হবে। পাশাপাশি গড় বাড়ি বিক্রয়মূল্য ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১১ লাখ ৪৭ হাজার ডলারে পৌঁছাবে বলেও ধারণা দিয়েছিল তারা।
তবে বছরের শেষের তথ্য বলছে, সেই প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার এখনও বাস্তব রূপ নেয়নি। সুদের হার, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থার ঘাটতি এই সবকিছু মিলিয়ে জিটিএর আবাসন বাজার এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসগুলোতে সুদের হার ও অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনার ওপরই নির্ভর করবে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না।
