চীনের সঙ্গে ইভি চুক্তিকে ভয়ানক ভুল বললেন অন্টারিওর মন্ত্রী

অন্টারিও প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভিক ফিডেলি

কানাডা ও চীনের মধ্যে সদ্য ঘোষিত একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে দেশটির ভেতরে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনার পর ঘোষিত এই চুক্তিকে “বিশৃঙ্খল” ও “ভয়ানক ভুল” বলে মন্তব্য করেছেন অন্টারিও প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভিক ফিডেলি।

শুক্রবার সকালে অন্টারিওর নর্থ বেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফিডেলি বলেন, চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) কানাডার বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া অন্টারিওর শিল্প ও শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে। তাঁর অভিযোগ, এসব গাড়ি পরিবেশগত মানদণ্ড ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত কোনো কঠোর শর্ত মেনে তৈরি হয় না। অথচ সেই গাড়িগুলোই এখন কানাডায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।

- Advertisement -

ফিডেলির ভাষায়, “যখন আমাদের উচিত অন্টারিওর নিজস্ব গাড়ি উৎপাদকদের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া, তখন আমরা বিদেশে তৈরি সস্তা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য দরজা খুলে দিচ্ছি। এর ফল ভোগ করতে হবে আমাদের কারখানার শ্রমিকদের।”

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার জানান, শুল্ক যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই চীনের সঙ্গে একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে কানাডা। এই চুক্তির আওতায় কানাডা প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেবে। এসব গাড়ির ওপর শুল্কহার কমিয়ে ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। কার্নির মতে, এই সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে এবং কানাডার রপ্তানি খাতকে নতুন করে গতি দেবে।

তবে অন্টারিও সরকার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রদেশটির প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তি অন্টারিওর গাড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের চাপের মধ্যেই যখন অন্টারিওর অটো শিল্প টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে, তখন চীনা ইভি আমদানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাস্কেচুয়ান প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মো এই চুক্তিকে “রপ্তানিকারকদের বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, চীনের শুল্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাস্কেচুয়ানের কৃষিখাত, বিশেষ করে ক্যানোলা ও ডাল জাতীয় ফসলের রপ্তানি।

এই চুক্তির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কানাডার কৃষিখাতে। যুক্তরাষ্ট্রের পর চীন কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যানোলা ক্রেতা। একই সঙ্গে ছোলারও সবচেয়ে বড় বাজার চীন। চুক্তি অনুযায়ী, ক্যানোলা বীজ আমদানির ওপর চীন যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, তা আগামী ১ মার্চ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে।

এর বিনিময়ে কানাডা সীমিত পরিসরে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। ফলে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার আশা করছেন কানাডার কৃষক ও রপ্তানিকারকেরা।

সব মিলিয়ে, এই চুক্তি কানাডার ভেতরে একদিকে কৃষিখাত ও রপ্তানিকারকদের জন্য আশার বার্তা বয়ে আনলেও অন্যদিকে অন্টারিওর মতো শিল্পঘন প্রদেশে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ফলে দেশীয় শিল্প কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নাকি কৃষিখাতে প্রাপ্ত সুবিধা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভারসাম্যে রাখবে সে প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে এটুকু নিশ্চিত, চীন-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও কানাডার অভ্যন্তরে বড় বিতর্কের সূচনা করেছে।

- Advertisement -

Read More

Recent