গ্রিনল্যান্ডে কোস্টগার্ডের জাহাজ পাঠাচ্ছে কানাডা

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে অনীতা আনান্দ বলেন আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিক থাকব একই সঙ্গে বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেব তাঁর ভাষায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কানাডা কেবল নীতিগত অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে

কানাডার পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবভিত্তিক ও কৌশলগত অবস্থানের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ আগামী সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডে দেখা যাবে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ। ড্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে একটি নতুন কানাডীয় কনস্যুলেট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই নীতির বাস্তবায়ন ঘটবে বলে জানান তিনি।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে অনীতা আনান্দ বলেন, “আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিক থাকব, একই সঙ্গে বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেব।” তাঁর ভাষায়, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কানাডা কেবল নীতিগত অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

- Advertisement -

নুকে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রথম নেওয়া হয় গত বছরের নভেম্বর মাসে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সে সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত রাখতে হয়। এর পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ড্যানিশ এই ভূখণ্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে আগের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন। হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা না হলেও, ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে সামরিক কর্মকর্তা পাঠিয়েছে, তাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম করেছেন, তবুও তিনি দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ নিয়মিতভাবে এই আর্কটিক অঞ্চল প্রদক্ষিণ করছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এ ধরনের তৎপরতা সীমিত এবং আলাস্কার আশপাশের অঞ্চলের তুলনায় তা অনেক কম।

এই প্রেক্ষাপটে কানাডার কনস্যুলেট উদ্বোধনকে কেবল কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অনীতা আনান্দ জানান, কনস্যুলেট উদ্বোধনের সময় নুকে একটি আর্কটিক ও অফশোর প্যাট্রোল জাহাজ উপস্থিত থাকবে। ২০২০ সালে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ রয়্যাল কানাডিয়ান নেভির এই জাহাজটিকে ‘যুদ্ধজাহাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় একে অস্ত্র শনাক্তকরণ ও নজরদারি কার্যক্রমে সক্ষম একটি টহল জাহাজ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনীতা আনান্দের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন কানাডার গভর্নর জেনারেল মেরি সিমন এবং দেশটির আর্কটিক অ্যাম্বাসেডর ভার্জিনিয়া মিয়ার্নস। বিশেষ তাৎপর্য হলো এই দুই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিই ইনুইট সম্প্রদায়ের সদস্য।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইনুইট প্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা আর্কটিক অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও কণ্ঠস্বরকে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

সব মিলিয়ে, নুকে নতুন কনস্যুলেট উদ্বোধন কানাডার জন্য কেবল একটি কূটনৈতিক সম্প্রসারণ নয়; বরং আর্কটিক অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আদিবাসী অংশগ্রহণ এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

- Advertisement -

Read More

Recent