
কানাডার গাড়ির বাজারে ভোক্তাদের পছন্দে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রমশই বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ দাহ্য ইঞ্জিনচালিত (আইসিই) গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন দেশটির ভোক্তারা।
ইওয়াই প্রকাশিত ২০২৫ সালের মোবিলিটি কনজ্যুমার ইনডেক্স-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী দুই বছরের মধ্যে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকা কানাডিয়ানদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই অভ্যন্তরীণ দাহ্য ইঞ্জিনের গাড়িকে অগ্রাধিকার দিতে চান। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে মূল্য এবং সরকারি প্রণোদনা। প্রায় ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা গাড়ির দামকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ডলার, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।
সরকারি ভর্তুকি বা প্রণোদনা দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শূন্য নির্গমন গাড়ির প্রণোদনা কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে পাল্টে দিয়েছে।
প্রণোদনা বন্ধ হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভোক্তাদের সিদ্ধান্তে। জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জন এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন অথবা আপাতত অপেক্ষা করছেন।
শুধু অর্থনৈতিক কারণই নয়, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও ভোক্তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। সরবরাহ চেইনের সমস্যা, ব্যাটারির কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন।
এই পরিবর্তন ইঙ্গিত করছে যে, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তবে বাস্তবিক অর্থনৈতিক চাপ ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা এখন বেশি সতর্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভবিষ্যতে সরকার পুনরায় প্রণোদনা চালু করে বা বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমে আসে, তাহলে বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, কানাডার গাড়ির বাজার একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির আকর্ষণ থাকলেও, ব্যয় ও বাস্তবতার প্রশ্নে ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনচালিত গাড়িই আপাতত এগিয়ে রয়েছে।
