পাইলটের প্রতিবেদনে লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর নিয়ে উদ্বেগ

Exhibit panel showing a historic aerial photo of Dallas Love Field with vintage aircraft and 1942–1967 postwar display text.
২০২৫ সালের আগস্টে এক পাইলটের আতঙ্কিত কণ্ঠে উচ্চারিত দয়া করে কিছু করুন এই সংক্ষিপ্ত আর্তি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে

২০২৫ সালের আগস্টে এক পাইলটের আতঙ্কিত কণ্ঠে উচ্চারিত “দয়া করে কিছু করুন” এই সংক্ষিপ্ত আর্তি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিউ ইয়র্কের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

নাসা এভিয়েশন সেফটি রিপোর্টিং সিস্টেমে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে ওই পাইলট বিস্তারিতভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তিনি যখন তার উড়োজাহাজটি অবতরণ করাচ্ছিলেন, তখন একই রানওয়েতে বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা আরেকটি উড়োজাহাজকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত।

- Advertisement -

পাইলটের ভাষায়, “এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার তার দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে কাজ করছিলেন।” বজ্রপাতপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে, তিনি এটিকে রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করেন।

পাইলট তার প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জানুয়ারির একটি বড় দুর্ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে প্রায় ৭০ জন প্রাণ হারান। যদিও ঘটনাটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল, তবুও এটি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে একটি উদ্বেগজনক সাদৃশ্য তুলে ধরে অর্থাৎ, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে রোববার, যখন মন্ট্রিয়ল থেকে আসা একটি এয়ার কানাডা এক্সপ্রেস ফ্লাইটের সঙ্গে লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় পাইলট নিহত হন এবং ৪০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত বিরল হলেও, একই বিমানবন্দরে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট হাসান শহিদী বলেন, “এভিয়েশনে প্রতিটি দুর্ঘটনাই আলাদা। তাই তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।” তবে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন যেমন : এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ওপর চাপ কমানো জরুরি, রানওয়েতে চলাচলকারী যানবাহনের উন্নত মনিটরিং প্রয়োজন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

এই রোববারের দুর্ঘটনাটি গত কয়েক মাসে লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের দ্বিতীয় বড় ঘটনা। এর আগে গত অক্টোবরে একই রানওয়েতে দুটি আঞ্চলিক জেটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যাতে অন্তত একজন আহত হন।

ঘটনাগুলো আলাদাভাবে দেখলে সেগুলো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে: ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কন্ট্রোলারদের ওপর চাপ বাড়ছে। ভুল সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগের ঘাটতি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। উন্নত নজরদারি ও সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকলে রানওয়েতে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। বজ্রপাত বা খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানের সমস্যা নয় এগুলো বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। পাইলটের সেই আর্তি “দয়া করে কিছু করুন” এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত আবেদন নয়, বরং পুরো এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি জরুরি সংকেত।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং মানবসম্পদের ওপর চাপ কমানো এই তিনটি দিকেই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

- Advertisement -

Read More

Recent