
মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও খাদ্যরসিকদের কাছে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে ক্যাবেজটাউনের রিয়া ক্যাফে। বিশেষ করে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ অভিযানের সময় ক্যাফেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং আন্তরিক পরিবেশের কারণে এটি অনেকের কাছে একটি প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তবে জনপ্রিয়তার আড়ালে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ক্যাফেটির মালিক ও প্রধান শেফ ওয়াফা এল রাজি।
গত সাত মাস ধরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াফা এল রাজি। বিরোধের মূল বিষয় হলো বাণিজ্যিক ভাড়ার অতিরিক্ত হিসেবে আরোপ করা কর, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং বীমা (ইন্স্যুরেন্স) বাবদ বিভিন্ন চার্জ। সাধারণভাবে বাণিজ্যিক ভাড়াটিয়াদের এসব খরচ বহন করতে হয়। তবে এল রাজির অভিযোগ, তার কাছে যে অতিরিক্ত বিল উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটির হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বাড়ির মালিক কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার দাবি, বছরের শেষের হিসাব অনুযায়ী কখনও অতিরিক্ত চার্জ ৫ হাজার ডলার, আবার কখনও ১১ হাজার ডলারের কাছাকাছি দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই অঙ্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা তিনি পাননি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
ওয়াফা এল রাজি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের হিসাব পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারছেন না। এর প্রভাব শুধু তার ব্যক্তিগত ব্যবসার ওপরই নয়, ক্যাফেতে কর্মরত কর্মচারীদের জীবন-জীবিকাতেও পড়ছে। তাদের অনেকেই এখন চাকরি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিবাদ আরও জটিল আকার ধারণ করে গত ৮ জুন। ওই দিন বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে এল রাজির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ডলার বকেয়া রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজের ব্যবসা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রম রক্ষায় ওয়াফা এল রাজি এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভবনেই ২৪ ঘণ্টা অবস্থান শুরু করেন, যাতে কোনো আকস্মিক উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো না যায়। তার এই পদক্ষেপ স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং অনেক গ্রাহকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এদিকে, পুরো ঘটনার বিষয়ে বাড়ির মালিক করীম শেঠির বক্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যম যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান এখনও স্পষ্ট হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের মতে, ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য অস্বচ্ছ অতিরিক্ত চার্জ এবং ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এ ধরনের বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে রিয়া ক্যাফে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে আইনি ও আর্থিক এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্যাফেটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। মালিক, কর্মচারী এবং নিয়মিত গ্রাহক সবারই এখন অপেক্ষা, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে কি না।
