
টরন্টোর সাবেক মেয়র জন টোরির ছেলে জন টোরি জুনিয়র আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসনের উপনির্বাচনে কানাডার লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পেতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিদায়ী সংসদ সদস্য ন্যাট আর্সকিন-স্মিথের পদত্যাগের ঘোষণার পর এই আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, জন টোরি জুনিয়রের প্রার্থিতা সেই প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ৪৭ বছর বয়সী জন টোরি জুনিয়র পেশাগত জীবনে একজন এভিয়েশন নির্বাহী। পাশাপাশি তিনি একজন লাইসেন্সধারী পাইলট, ব্যবসায়িক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়ে আসছেন। নিজের প্রার্থিতা ঘোষণার সময় তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি গর্বিত এবং প্রার্থী হিসেবে নিজেকে হাজির করতে পেরে অত্যন্ত উৎসাহিত।”
প্রার্থিতা ঘোষণার অংশ হিসেবে জন টোরি জুনিয়র ইতোমধ্যেই একটি নির্বাচনী ওয়েবসাইট চালু করেছেন। ডোমেইন নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবসাইটটি ২০২৬ সালের ২৬ জুন নিবন্ধিত হয়েছে। সেখানে নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, তিনি একজন স্বামী, তিন সন্তানের পিতা, একজন পাইলট, ব্যবসায়িক নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে পূর্ব টরন্টোর একজন গর্বিত বাসিন্দা হিসেবেও নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে জন টোরি জুনিয়র শুরু থেকেই জনপরিচিতির একটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে তিনি নিজের প্রচারণায় পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসনের দীর্ঘদিনের লিবারেল এমপি ন্যাট আর্সকিন-স্মিথ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি এই গ্রীষ্মেই হাউস অব কমন্স থেকে পদত্যাগ করবেন এবং ফেডারেল রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তবে তিনি পুরোপুরি জনজীবন থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে টরন্টো সিটি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যেই টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে। এর আগে গত মে মাসে স্কারবোরো সাউথইস্ট আসনের প্রাদেশিক উপনির্বাচনে অন্টারিও লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আর্সকিন-স্মিথ পরাজিত হন। পরে তিনি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আপিল করলেও সেটি সফল হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই ঘটনার পরই তিনি ফেডারেল রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় করেন।
যদিও জন টোরি জুনিয়রের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তবুও লিবারেল মনোনয়নের লড়াই মোটেও সহজ হবে না। ইতোমধ্যেই অন্তত তিনজন শক্তিশালী প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অন্টারিও এমপিপি আর্থার পটস, অভিজ্ঞ আইনজীবী ক্লেয়ার সিবোর্ন এবং সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী জোনাথন উইলকিনসনের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সামার নুডেল, যিনি বর্তমানে হাউস অব কমন্সের কমিশনার অব হাউস ইকুইটি অফিসে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। এই প্রার্থীদের প্রত্যেকেরই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে মনোনয়ন অর্জনের জন্য জন টোরি জুনিয়রকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরেই লিবারেল পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। ফলে দলীয় মনোনয়ন অর্জনই অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। জন টোরি জুনিয়রের প্রার্থিতা কয়েকটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, টরন্টোর অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি জনসমর্থন আকর্ষণের সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট ও এভিয়েশন খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন প্রশাসনিক সক্ষমতার দাবিদার হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। তবে একই সঙ্গে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি শুধুমাত্র একজন সাবেক মেয়রের ছেলে নন, বরং নিজস্ব যোগ্যতা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতেই সংসদ সদস্য হওয়ার উপযুক্ত।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি এই মনোনয়ন লড়াইকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলবে। ফলে আগামী কয়েক মাসে স্থানীয় সদস্যদের সমর্থন অর্জন, কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করাই জন টোরি জুনিয়রের প্রচারণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের আসনটি এখন শুধু একটি উপনির্বাচনের ক্ষেত্র নয়, বরং টরন্টোর লিবারেল রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। জন টোরি জুনিয়রের রাজনৈতিক যাত্রা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে দলীয় সদস্যদের আস্থা অর্জন এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় তাঁর প্রচারণা কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।
