ইয়র্ক রিজিয়নে হামের সংক্রমণ নিয়ে জনগণকে সতর্ক করছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

Two people are in conversation at a booth; a man leans toward a woman wearing a green lanyard beside a banner about internationally educated healthcare professionals.
অন্টারিও প্রদেশের ইয়র্ক রিজিয়নে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ইয়র্ক রিজিয়নে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইয়র্ক রিজিয়ন জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রিচমন্ড হিলের ম্যাকেঞ্জি হেলথ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিরা হামে আক্রান্ত একজন রোগীর সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। এ কারণে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

- Advertisement -

শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অবস্থান করা ব্যক্তিদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে তারা হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন কি না। একই সঙ্গে আগামী ৯ জুন পর্যন্ত নিজেদের শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত সাত থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, অবিরাম কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। পরবর্তীতে শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দেয়, যা সাধারণত মাথা ও ঘাড় থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বুক, হাত এবং পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও ভাইরাস বাতাসে কিংবা বিভিন্ন পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে না এসেও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

অধিকাংশ সুস্থ মানুষ হাম থেকে সেরে উঠলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো টিকাদানের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই ডোজ এমএমআর (মিজলস, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা হামের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করে এবং ব্যাপক সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইয়র্ক রিজিয়ন জনস্বাস্থ্য বিভাগ বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত থেকে থাকলে এবং পরবর্তীতে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে ফোন করে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানই হামের বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ

- Advertisement -

Read More

Recent