
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বিদায় হলে কী হবে, তাঁর রেখে যাওয়া দশ পান্ডব পাকিস্তানের মাঠে পাকিস্তানকে বাংলা-ওয়াশ করে দিলো! না, আমাদের কোন জাতীয় দৈনিক এভাবে শিরোনাম করেনি, করার কথাও না; বেশিরভাগ মিডিয়া পনেরো বছরের অনেক সত্যকে গা বাঁচিয়ে চলছে। কারন, গদিনসীনদের পছন্দের বয়ান একটাই– ১৫ বছরে দেশ কেবল নষ্টই হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাকিস্তানবধের সূচনা ১৯৯৯ সালে, সেবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৯ রানে হারিয়ে দিয়ে চমকে দিয়েছিল বিশ্বকে। তখনও শেখ হাসিনার সরকার গদিতে, বিসিবি সভাপতি তখন সাবের হোসেন চৌধুরী। পাতানো খেলার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের বিজয়কে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল পাকিস্তানের কিছু সাবেক খেলোয়াড় এবং মিডিয়া। অনেক বাংলাদেশি বিশ্বাস করেছিল সে কথা। এবারে বাংলা-ওয়াশ নিয়ে অমন পাতানো খেলার অভিযোগ কেউ করেনি; উল্টো, বাংলাদেশের প্রশংসায় ভাসছে তাদের সাবেক খেলোয়াড়দের চোখ-মুখ। এমনটাই তো চেয়েছি সবসময়। তা সেটা পাকিস্তান হোক কি ভারত কি বিশ্বের যে কোন দেশ, আমরা যখন আমাদের সামর্থের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে খেলি তখন তাকে একটু প্রশংসা করতে কার্পন্য কেন, বুঝি না।
শুধু ক্রিকেট না, বিগত ১৫ বছরে গর্ব করার মতো অনেক কিছু অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কৃষি, মৎস, শিল্পায়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিদ্যুতায়ন, ৫-জি নেটওয়ার্ক, এমন নানা বিষয়ে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি আমরা। রাজনৈতিক বন্দোবস্তটা টেকসই হলে সবদিক থেকেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারতো, তাতে সন্দেহ নাই। জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার সংগ্রামী লড়াইয়ে বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে জন-আকাঙ্খার তীব্র প্রকাশ ঘটেছিল–এই সাধারণ সত্য বিজয়ীরা ভুলতে বসেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ড. ইউনুসের অন্তর্বতী সরকার এবং তাঁর ছাত্র বাহিনী বিভেদের রাজনীতি থেকে বের হওয়া দূরের কথা, তাকে আরো বাড়িয়ে চলেছে। অথচ, ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের জন্য অধরা কিছু নাই, এমন ঘটনাই তো ঘটে গেল রাওয়ালপিন্ডির মাঠে।
টিম বাংলাদেশকে অভিনন্দন!
ক্যালগেরি, আলবার্টা
