প্রসঙ্গ : দ্বিতীয় স্বাধীনতা

প্রসঙ্গ দ্বিতীয় স্বাধীনতা

অনেক সময় ভাবি, বিগত সরকার পতনের দুই মাস হয়ে গেলো, এখন আর বাংলাদেশ নিয়ে পড়ে থাকা কেন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ক্লোজ করে অন্য চ্যাপ্টারে মন দেই। বাংলাদেশ নিয়ে তো অনেক হলো। দেশের ভাগ্যে যা হবার হবে। আমাদের লেখালেখি বা বলাবলির ফলে যেটা হবে বা হতে যাচ্ছে তার তো কোন হেরফের হবে না। যেটা হবার সেটা হবেই।

তাহলে এত রেষারেষি, একে অপরের উপর হামলে পড়া কেন? এতে কি লাভ হবে? এত বিভাজন সৃষ্টি করে কার কি হবে? জনগন যদি সব কিছুর মালিক হয় তবে তাদের রায়ের উপর সব কিছু ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তারা কোনটা গ্রহন করবে আর কোনটা বর্জন করবে সেটা তাদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হোক।।

- Advertisement -

আমরা অর্ন্তভুক্তিমূলক সমাজের কথা বলি কিন্তু বাস্তবে করি তার উল্টোটা। কোথায় সেই inclusiveness? আমি তো কোথাও দেখি না। বরং দেখি বিভক্তি আর বিভাজন। সব কিছু দেখলাম একটা পাল্টাপাল্টি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম যে আমি যেখানে থাকি সেই কানাডার কি হচ্ছে না হচ্ছে কোন খবরই রাখি না। এরই মধ্যে ট্রুডো দুই দুইবার নো-কফিডেন্স মোশন থেকে বেঁচে গেলো। কোন খবর রাখি না।

এই যে ইরান আর ইসরেইল লেগে গেলো এটা নিয় কোন আলোচনা নাই। এই যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নিবে? ইউক্রেনের উপর রাশিয়া তার আক্রমণ জোরদার করেছে। সেই খবর নাই। আমেরিকা কি আগের মতো ইউক্রেনের পাশে আছে? নাকি এখানেও তারা আফগানিস্থানের মতো কেটে পড়বে? আমেরিকার আগামী নির্বাচনে ট্র‍্যাম্প জয়ী হলে রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে? এই সব নিয়ে আমরা আর ভাবি না।

সারা পৃথিবীতে কত কি হচ্ছে তার কোন খবর রাখি না।

শুধু আগ্রহ বোধ করি বাংলাদেশ নিয়ে। মতামত দেই, রেষারেষি করি, একে দোষী, ওকে দোষী। এই সবই চলছে দুই মাস ধরে।

সভ্য দেশ হলে এই সব এত দিন চলতো না। সভ্য দেশ বললে সভ্য জাতির কথাও আসে। আমরা কোনটাই না। দেশটা জন্ম থেকেই নানা মৌলিক বিষয়ে বিভাজিত।

এখন আবার ২০২৪ সালে এসে আরও নতুন নতুন বিতর্ক জন্ম নিচ্ছে ।

রিসেট বাটন নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। দেখলাম রিসেট বাটনের যিনি জনক তিনি স্বয়ং এর ব্যাখ্যা দেননি কিন্তু তার পক্ষ হয়ে অন্যরা নানা ব্যাখ্যা দিয়ে দিচ্ছেন। কথা হচ্ছে,সেই ভয়েস অব আমেরিকার আনিস আহমেদ কি প্রশ্ন করেছিলেন, সেটারই তো উত্তর দিয়েছেন ড.ইউনুস। এখানে কি অন্য কোন উত্তর দেওয়ার সুযোগ আছে?

আপনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আমার নাম কি? আমি উত্তর দিলাম, আমার গ্রামের বাড়ি টাংগাইল।

আমি যে উত্তর দিলাম সেটা কি প্রশ্নের উত্তর হলো? হলো না। যে প্রশ্ন করা হয়েছে তারই তো উত্তর হবে তাই না।

ড. ইউনুসকে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল তা হচ্ছে:
“ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর হিসেবে যেটা পরিচিত ছিল, সেই জাদুঘর ৫ আগস্টের পর বিনষ্ট করা হলো। ১৫ আগস্টে সরকারি যে ছুটি ছিল, সেটাও আপনার সরকার বাতিল করেছে। বঙ্গবন্ধুর বহু ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ খানিকটা সমালোচনাও হচ্ছে। আবার অনেকেই বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁরা ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, এ কারণেই এটা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বীকৃত। এ ব্যাপারে আপনার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী?”
ড.ইউনুস এই প্রশ্নের উত্তর প্রসংগেই “রিসেট বাটনের” কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ছাত্ররা বলেছে,আমরা রিসেট বাটন পুশ করেছি। এভরিথিং ইজ গন। অতীত নিশ্চিতভাবে চলে গেছে।”

এখন আনিস আহমেদের প্রশ্নের দিকে ফিরে দেখেন তিনি আসলে রিসেট বাটন দিয়ে কোন অতীত মুছে দিলেন।

আর এর further ব্যাখ্যা দেওয়ার থাকলে ড.ইউনুসের কাছ থেকেই আসা উচিত।

আগের প্রসংগে ফিরে আসি। আমরা আসলে অর্ন্তভুক্তির দিকে যাচ্ছি না। আমরা দিন দিন আরও বিভাজিত হচ্ছি। আমাদের মধ্যে inclusiveness জিনিসটা নেই।

এখন আবার বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতা বলতে তো ভৌগোলিক স্বাধীনতা বোঝায় যা একবারই হয়। স্বাধীনতার কোন দ্বিতীয়, তৃতীয় নেই। দ্বিতীয় স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে প্রথম স্বাধীনতাকে মুছে ফেলা। এরশাদ, জিয়াউর রহমান কিন্তু এই সব মুছে ফেলার কাজ করেছিল। তাদের সময়েও বাংলাদেশের পুরো ইতিহাস বলা হতো না।কারন, বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম এসে যায়। তাই এরশাদ এবং জিয়ার আমলে খন্ডিত ইতিহাস বলা হতো। এখানেও কিন্তু রিসেট বাটন কাজ করেছে। এরশাদ আর জিয়াউর রহমান রিসেট বাটন প্রেস করে কিছু কিছু ইতিহাস মুছে দিয়েছিল। আবার আওয়ামী লীগের সময়েও তাদের মতো করে ইতিহাস লেখা হয়েছিল। সেটাও ঠিক ছিল না।

আমি যতটুকু বুঝি, বিভাজনের কথা বলে অর্ন্তভুক্তিমূলক সমাজ হবে না। অর্ন্তভুক্তিমূলক সমাজের জন্য এমন আহ্বান থাকতে হবে যাতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়। কি আহ্বান জানালে জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে সেটি নিয়ে আরও স্টাডি, রিসার্চ প্রয়োজন। যেটি নিয়ে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তর্ক বির্তক হবে সেই রকম আহ্বান তো কোন অর্ন্তভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করবে না।

( এই লেখাটা গতকাল লেখেছিলাম। আজ দেখলাম প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে ” রিসেট বাটন” তত্ত্বের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাখ্যাটি কি ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক আনিস আহমেদের প্রশ্নের সাথে প্রাসংগিক হলো??

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent