
কেউ চায় না সন্তান বেয়াদব বা নষ্ট চরিত্রের হোক। কারণ, সন্তানের চেহারা ও চরিত্রে তার জন্মদাতা পিতা ও জন্মদায়িনী মায়ের পরিচয় ফুটে উঠে। তেমনি ভালো মানের বই লেখকের সুরুচির পরিচয় প্রকাশ করে।
বই প্রকাশ হচ্ছে এবং বই প্রকাশ হতে থাকুক। পাশাপাশি পাঠক বাড়ুক। তবে পাঠক যেনো বই পড়ে ভালো কিছু পায়। লেখায় শব্দ চয়ন ও সম্পূর্ণ লেখাটির গঠন শৈলী খুব উন্নত মানের না-হলে-ও তাতে যেনো সরল ভাষায় এমন কিছু থাকে যা থেকে পাঠক অন্তত কিছু শব্দ ও নূন্যতম একটি বাক্য থেকে উপকৃত হয়।
এসময়ে অনেকে নিজের টাকায় বই প্রকাশ করছেন। প্রকাশনী বই বিক্রি করে টাকা রিটার্ন পাওয়ার নিশ্চয়তা না-পেলে কেন-ই-বা নিজের খরচে লেখকের বই প্রকাশ করবেন! নিজের টাকায় হলেও বই প্রকাশ হোক। কিন্তু ; যিনি লেখক পরিচয় নিয়ে বই প্রকাশ করছেন, তার নিশ্চয়ই টাকার পাশাপাশি শ্রমও দিতে হচ্ছে। তাই আমি বলি, যাচ্ছেতাই লিখে বই প্রকাশ না-করে, লেখার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটু সময় নিয়ে চর্চা করে বই প্রকাশ করেন। নিজের টাকার মূল্য যদি না-ও থাকে, নিজের শ্রমের প্রতি নিশ্চয়ই শ্রদ্ধা থাকা উচিত।
বলা হয়, মা অথবা বাবার গুণে সন্তান। বইকে অনেকে নিজের সন্তানের মতো মনে করেন। তাহলে আপনার প্রকাশিত গ্রন্থ নিশ্চয়ই আপনার সন্তান। এখন আপনি যদি আজেবাজে কথা এবং অসুন্দর অশালীন কথা দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি বিরোধী, সাহিত্যে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে মলাটবদ্ধ লেখা নিয়ে জনসম্মুখে আসেন, তাহলে বুঝা যাবে আপনার সন্তানতুল্য বইয়ের মা/বাবা হিসেবে আপনার কুরুচির পরিচয় ফুটে উঠেছে। এদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
সাহিত্য এতো সস্তা বিষয় নয় যে টাকা খরচ করে যাচ্ছেতাই লিখলেই তা সাহিত্যের মর্যাদা পাবে! সাহিত্য সাধনার বিষয় এবং এই সাধনায় শ্রদ্ধা থাকতে হয়। তাই আমি বলি সাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন এবং একটু সময় নিয়ে এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা থেকে মানুষ অন্তত একটি লাইন পড়ে উপকৃত হতে পারে। এতে আপনারও সুন্দর মনের পরিচয় পাওয়া যাবে।
সাহিত্যে সাহিত্য রস থাকাটা জরুরী এবং অবশ্যই থাকতে হবে উত্তম মস্তিষ্কের কাজ।।
