টরন্টোর ১০ বছরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা

কর্মপরিকল্পনায় জিডিপি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলার পাশাপাশি সবার জন্য সমৃদ্ধি এবং টেকসইতার কথাও বলা হয়েছে

আগামী দশকে নগরীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চালিত করতে কৌশলগত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে সিটি অব টরন্টো। নগরীর প্রধানতম চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে নতুন ভঙ্গির ডাক দেওয়া হচ্ছে কৌশলগত এই নির্দেশিকায়।

‘সাইডওয়াকস টু স্কাইলাইন্স: আ ১০-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর টরন্টো’স ইকোনমি’ শীর্ষক ৭২ পৃষ্ঠার এই নথিতে নগরীর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মেয়র অলিভিয়া চাউ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাইডওয়াকস টু স্কাইলাইন্সের পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন টরন্টোর অর্থনৈতিক ইঞ্জিনের সবগুলো সিলিন্ডার সচল করবে এবং নগরীকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পথে রাখবে। এবং ২৫ বছরের মধ্যে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছি আমরা। একে উচ্চাকাক্সক্ষা বলতে পারেন।

- Advertisement -

পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সবার আগে আছে নগরীর জন্য স্থায়ী ও টেকসই অর্থায়নের জন্য প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে যাওয়া।

সিটি কর্তৃপক্ষ ও প্রদেশ গত বছর তাদের নতুন চুক্তির প্রথমাংশ নিয়ে কাজ করে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডন ভ্যালি পার্ক ওয়ের দায়িত্ব প্রদেশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মিউনিসিপালিটির শত শত কোটি ডলার সাশ্রয় করা। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে চাউ বলেন, আগামী বছর পরিকল্পনার দ্বিতীয়াংশ যখন আসবে তখন সেখানে অনেক বিস্তারিত থাকবে। পরিবহন বলুন বা আবাসনÑসবগুলোর পরিচালন ডলারই হবে দুই বছরের প্যাকেজ। নতুন মহাসড়ক চালু করা ছাড়া। সুতরাং, ২০২৬ সালের তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তির দ্বিতীয়াংশের কাজ আমরা সমাপ্ত করতে পারব বলে আশা করি।

ফেডারেল সরকার এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিটি ও প্রদেশের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হলেও তারা টরন্টোর সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি খুব বেশি আগ্রহী নয়। এর পরিবর্তে বিভিন্ন সিটির প্রকল্পে তহবিল দেওয়ার ব্যাপারে বেশি উৎসাহী তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় অর্থনীতির ২০ শতাংশের জোগান দেয় টরন্টো সেনসাস মেট্রোপলিটন এরিয়া (সিএমএ)। এ ছাড়া অন্টারিওর অর্থনীতির ৫২ শতাংশের জোগানাদা এই সিএমএ।

২০৩০ সালের মধ্যে সব স্তরের সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন কনে ফেলার লক্ষ্য ধরা হয়েছে পরিকল্পনায়।

পরিকল্পনায় আরও যেসব গুরুত্ব বিষয় রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টরন্টোতে উত্তর আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটা তারা করতে চায় কমার্শিয়াল-রেসিডেন্সিয়াল প্রোপার্টি ট্যাক্স অনুপাত ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা।

কর্মপরিকল্পনায় জিডিপি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলার পাশাপাশি সবার জন্য সমৃদ্ধি এবং টেকসইতার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর শক্তিশালী সম্পদগুলোর মধ্যে উচ্চ জীবনমান ঐতিহাসিক সত্য হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসন ও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে। গত কয়েক বছরে বাড়ির মূল্য আয় বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে গেছে, যা বহু মানুষের জন্য নগরীতে বসবাস করাকে কঠিন করে তুলেছে।

- Advertisement -

Read More

Recent