
রাত থেকে ফ্রিজিং রেইন পড়া শুরু হয়েছে। গাড়ি পুরা ক্রীসটালাইজড হয়েছিল।রাইয়ান গাড়ি পরিষ্কার করলো। winter driving নিয়ে গল্প করতে করতে ওকে কাজে নামালাম। ও এবার লাইসেন্স পেয়েছে কিন্তু এখনো বরফে গাড়ি চালায়নি।যাবার পথে Tim Hortons থেকে কফি নিলাম।
বরফ দিনেও বৃষ্টি দিনের মতো মন উদাস হয়।
এমন দিনে আমার লালমনিরহাট , আবার কখনো দিনাজপুর যেতে ইচ্ছে করে।হাঁটতে হাঁটতে কাঞ্চনজংঘার চূড়া দেখা যায় যেখানে,সেখানে যেয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। ওখান থেকে নাকি ঘুম স্টেশন দেখা যায়! ফেরার পথে মহাসড়কের পাশে চায়ের দোকানের টং এ বসে ভাঁড়ের চা খেতে ইচ্ছে করে।
আকাশথেকে ঝিরঝির বৃষ্টির মত বরফ পড়ে যখন,মনেহয় আকাশের পাখি হয়ে উড়তে উড়তে তার কাছে যাই!
মানুষের ভিতর কত মহাদেশ থাকে। কত সমুদ্র,কত নদী। মানুষ নিয়ে বিবরণ শুনতে শুনতে মনে হতো সে লালন। মানুষ আমার কাছে কখনো ঝর্ণাধারা। এন্ড্রোমেডা যে তারা নয় গ্যালাক্সী ,সে নিয়ে কত কথা হতো আমাদের। একবার হাইওয়ে দিয়ে বরফের মধ্যে গাড়ি চালাবার সময় বলেছিল,আমরা এন্ড্রোমেডা যাচ্ছি! সেদিনের সেই কথাগুলো মনেহয়।আর ভীষন কষ্ট হয়।
মানুষ আসলে কোথায় যায়? তারা হয়ে যায়? কোন সে আকাশে?
আজ ভোর থেকে মন কেমনের নদী!
বাসার সামনে পিছনে বরফ জমে গেছে।আজ আবহাওয়া ভালো না।বরফ বৃষ্টি গায়ে পড়লে ব্যথা লাগে।
আগে আমারো ইচ্ছা করতো বেড়িয়ে পড়তে।ও বলতো, যাও রেডি হয়ে আসো, ছবি তুলে দেই।
ও জানতো বৃষ্টি পড়লে যেমন ভিজতে ইচ্ছে করে আমার, বরফ পড়লেও তাই।
ও নেই বলে ভীষণ একলা লাগে।গলার ভিতর অভিমান দলা পাকায়।ক’দিন ধরে ডান পায়ে ভীষণ ব্যথা। রাইয়ান এসে ম্যাসাজ দেয়।কখনো বাসমাহ হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে যায়। রাত বাড়লে ব্যথা বাড়ে। মন খারাপগুলো তখন ঘুরপাক খায়!
এইসবদিনে কারো শরীর খারাপ জানলে কষ্ট হয়। ইচ্ছা করে আমার প্রার্থনার শক্তি ভীষণ কাজ করুক । সবাই তাদের প্রিয়জনদের জড়িয়ে থাকুক! কেউ কারো হাতের মুঠো ছেড়ে না যাক!
একটা দিন এভাবেই এগিয়ে চলে! শূন্যতার ভিতর ঘুরতে থাকি একা! মানুষ চলে গেলে তারও কি এমন একা লাগে? সেই মহাকাশে কি এমন একলা লাগে তাদের?
আমাদের এই শূন্যতা দূর হোক!
পৃথিবীর সবাই ভালো থাকুক। ভালোবাসায় থাকুক।প্রিয়জনের হাত ধরে থাকুক।তাহলেই ভালো থাকা হবে।
অটোয়া, কানাডা

