
এক. হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে একটি বিষয় পরিষ্কার হলো, ড.ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে না। এখন যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফিরিয়ে আনার কোন দায় বা বাধ্যবাধকতা এই সরকারের নেই।
তার মানে এর অর্থ দাঁড়ায় ,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন তা এই বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনেই হবে।
দুই.আমেরিকা ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬% শুল্ক আরোপ করেছিল।
পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্ক কার্যকরের ওপর তিন মাসের একটি pause ঘোষণা করে।
এই তিন মাসের মধ্যে ভিয়েতনাম সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ চুক্তি করতে সক্ষম হয়।
ভিয়েতনাম প্রস্তাব দেয় যে, আমেরিকা থেকে ভিয়েতনামে যেসব পণ্য প্রবেশ করবে, সেগুলোর ওপর ভিয়েতনাম শূন্য শুল্ক আরোপ করবে।
এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আমেরিকা ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর পূর্বঘোষিত ৪৬% শুল্কের পরিবর্তে মাত্র ২০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
এটি সম্ভব হয়েছে ভিয়েতনাম সরকারের ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে।
বাংলাদেশেরও উচিত ছিল এই তিন মাসের pause এর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসা।
কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ৩৭% শুল্ক থেকে মাত্র ২% কমাতে সক্ষম হয়েছে।
আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বাজার দখল করে নিতে পারে।
তবে এখনো সময় আছে। বাংলাদেশ সরকার যদি দেনদরবার চালিয়ে যায় এবং আরও কার্যকর ও স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে যায়, তাহলে আরোপিত শুল্ক আরও কমানো সম্ভব হতে পারে।
তিন.বিবিসির প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী সমর্থক এবং নেতা কর্মিরা নানা রকম প্রচারণা শুরু করেছে।।
কর্মি, সমর্থকদের আগ বাড়িয়ে এমন প্রচারণার প্রয়োজন ছিল না।
কারন, বিবিসি যার অডিও ক্লিপটি দিয়েছে তিনি তো এখনো জীবিত আছেন। তিনি সীমান্তের ওপার থেকে প্রায়শই ফোনালাপ করে থাকেন। ধারণা করা যায় এই অডিও ক্লিপটি নিয়েও তিনি কথা বলবেন। এই অডিও ক্লিপটি সম্পর্কে তার বক্তব্য কি হয় সেটি জানার পর আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং তাদের নেতা কর্মিদের প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত ছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। বিবিসি এই অডিওটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে সংগ্রহ করেছে। এটি তাদের নিজস্ব কোন আবিষ্কার নয়। এক্ষেত্রে তারা একটু চালাকির আশ্রয় নিয়েছে যাতে তাদের বিরুদ্ধে কেউ আইনী ব্যবস্থা নিলে বলে দিতে পারে, এটি তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে পেয়েছে। তারা ট্রাইবুনালকে রেফার করে পার পেয়ে যাবে।বিবিসির অবস্থানটি বেশ কৌশলী।
তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিষয়টিকে কিভাবে মোকাবিলা করবে সেটি তারা বুঝতে পারছে না।
এক্ষেত্রে ফাউল টক না করে চুপ থাকাই ভালো ছিল।
চার. নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল। ঘোষিত রায়ে বলা হয়েছে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বরং বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত।
স্কারবোরো, কানাডা
