প্রমাণ যাচাইয়ে আদালতের জন্য এআই টুল তৈরির পরিকল্পনা

ডিপফেক ভিডিও এআইচালিত ছবি কিংবা শব্দ রেকর্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এসব প্রমাণ বিকৃতি এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে

ডিপফেক ভিডিও, এআই–চালিত ছবি কিংবা শব্দ রেকর্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এসব প্রমাণ বিকৃতি এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। বাস্তবে যা ঘটেনি তাও নিখুঁতভাবে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে আদালত ও বিচার ব্যবস্থায় উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে কানাডার অন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একদল গবেষক। প্রযুক্তি ও আইন—দুই ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল আগামী দুই বছর কাজ করে একটি ওপেন সোর্স এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এআই টুল তৈরি করতে যাচ্ছে, যা আদালতে জমা দেওয়া কনটেন্ট এআই–নির্মিত কিনা তা নির্ণয়ে সহায়তা করবে।

- Advertisement -

প্রকল্পের সহ-পরিচালক এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক মাউরা গ্রসম্যান জানান, বর্তমানে বাজারে যেসব বাণিজ্যিক এআই-ডিটেকশন টুল রয়েছে, সেগুলো “অস্পষ্ট, সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য নয়।” তিনি ব্যাখ্যা করেন অধিকাংশ টুলেই ভুল ইতিবাচক সংকেত দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। ইংরেজিভাষী নয় এমন ব্যক্তি বা কনটেন্টের ক্ষেত্রে এগুলো পক্ষপাত সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারীর জন্য ব্যাখ্যাযোগ্যতা বা স্বচ্ছতা কম থাকায় আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ভর করা যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে আদালতকে ভুয়া ও সত্য তথ্য আলাদা করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হয়, যা ব্যয়সাপেক্ষ এবং বিচার কার্যক্রম ধীরগতি করে দেয়। গবেষক দলটির মতে, সাশ্রয়ী, নিরপেক্ষ ও ব্যাখ্যাযোগ্য প্রযুক্তির অভাব বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।

গবেষকেরা যে টুলটি তৈরি করছেন, তা হবে ওপেন সোর্স – যে কেউ কোড দেখতে, মূল্যায়ন করতে বা উন্নয়ন করতে পারবে।, বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য – বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষও ব্যবহার করতে পারবেন।, সহজ ইন্টারফেসসহ – যাতে আইনজীবী, বিচারক, এমনকি প্রযুক্তি-অপটু ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারেন।, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা – টুল কেন একটি কন্টেন্টকে ভুয়া বলছে তার ব্যাখ্যাও দেখাবে, যা আদালতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রসম্যান বলেন, “আদালতে সিদ্ধান্ত শুধু সাদা-কালো নয়; আদালত কতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা জানাতে হবে। এবং কেন সে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, সেটার স্বচ্ছ ব্যাখ্যাও প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই–নির্মিত কনটেন্টের বিস্তার এত দ্রুত ঘটছে যে বর্তমান বিচারব্যবস্থা তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত নয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ডিপফেক তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব ভিডিও বা ছবি মামলা-মোকদ্দমায় প্রমাণ হিসেবে হাজির হচ্ছে। বিচারক বা তদন্তকারীদের পক্ষে প্রতিটি প্রমাণ যাচাই করা প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জের। এই বাস্তবতায় একটি নির্ভরযোগ্য টুল আদালতের প্রমাণ যাচাই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও অধিক ন্যায়সংগত করবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

যদি প্রকল্পটি সফল হয়, তাহলে শুধু কানাডা নয়, বিশ্বের বহু দেশের আদালতই ভুয়া প্রমাণ শনাক্তে এই ধরনের টুলের উপর নির্ভর করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বিচারব্যবস্থায় প্রমাণের মানোন্নয়ন হবে। ভুল সাজা দেওয়ার ঝুঁকি কমে আসবে। এবং প্রযুক্তিগত পক্ষপাত দূর করা সম্ভব হবে।

এআই-নির্ভর বিশ্বে সত্য-মিথ্যা আলাদা করা যত কঠিন হচ্ছে, এই উদ্যোগ ততই হয়ে উঠেছে সময়োপযোগী ও অত্যাবশ্যকীয়।

- Advertisement -

Read More

Recent